গোপন সংবাদে প্রকাশ বাংলাদেশের কিছু বিজ্ঞানী এমন একটি টাইম মেশিন আবিষ্কার করেছেন সেটা দিয়ে শুধুমাত্র অতীতে ভ্রমণ করা যায়, কিন্তু সমস্যা হলো আপনি অতীতে ভ্রমণ করতে পারবেন ঠিকই তবে সেখানে আপনার অস্তিত্ব শূন্য । আপনি সে সময়ের সবকিছু দেখতে পাবেন কিন্তু ছুঁতে বা ধরতে পারবেন না, এছাড়া শুনতে পারবেন কিন্তু কথা বললেও কেউ শুনতে পাবে না এমন কি আপনাকে তারা দেখতেও পাবে না । 
.
ঠিক এমন একটি সংবাদ গত দুই বছর আগে জিসানের কানে এসেছিল তবে সেটাকে আজগুবি খবর ভেবে উড়িয়ে দিয়েছে কিন্তু এই 3019 সালে এমন একটি মেশিন আবিষ্কার হবে এটা অবিশ্বাস ও করা যায় না । এমন মেশিন যদি সত্যি বাংলাদেশে থেকে থাকে তবে এটাকে অবশ্যই খুঁজে বের করতে হবে । তবে রহস্য এবং সন্দেহের বিষয় হলো, এমন মেশিন যদি বাংলাদেশ আবিষ্কার করেই থাকে তবে জনসম্মুখে উন্মোচন করছে না কেন ? এটাও একটা প্রশ্ন । 
.
টাইম মেশিনটা জিসানের খুব বেশি প্রয়োজন কারণ তার বাবাকে বাঁচাতে হবে । NSA ( National Secretary Agency ) রায় দিয়েছে রিহান হত্যার প্রধান আসামি তার বাবা । লেজার গানে তার বাবার হাতের ছাপ পাওয়া গেছে । কাকতালিও ভাবে এটাও প্রমাণিত হয়েছে রিহানের সাথে তার বাবার পূর্ব শত্রুতা ছিল । ঠিক এই জিনিসটার কারণেই বেশি ফেসে গেছে তার বাবা । তবে জিসান ভালো ভাবেই জানে রিহান হত্যার প্রধান আসামি তার বাবা নয় অবশ্যই তৃতীয় পক্ষ কিন্তু এই তৃতীয় পক্ষটা কে সেটা জিসানকে খুঁজে বের করতে হবে । এর জন্য টাইম মেশিনটা তার আজ খুব বেশি প্রয়োজন । কিন্তু কোথায় পাবে সেই কথিত টাইম মেশিন । 
.
অভ্র নিজের স্মার্ট কার্ড স্পর্শ করে ক্যাপসুল দিয়ে নেমে যাচ্ছে মাটি থেকে প্রায় একশো তলা মাটির গভীরে । উপর থেকে সাধারণ একটা অফিস মনে হলেও এর মাটির গভীরে রয়েছে বিশাল গোপন বিজ্ঞান গবেষণাগার । সরকারের উর্ধ্বতন কয়েকজন বাদে এই গবেষণাগারের খবর কেউ জানে না । এমনকি গত দুই বছর আগে এই গবেষণাগারের কিছু বিজ্ঞানী অতীত ভ্রমণের একটি টাইম মেশিন আবিষ্কার করেছে সেটাও গোপন রাখা হয়েছে । এই একটি মাত্র টাইম মেশিন প্রদর্শন করে অনায়াসে নোবেল পুরস্কার ছিনিয়ে আনা যায় কিন্তু নোবেল থেকেও খুব বেশি প্রয়োজন অন্যান্য শত্রু রাষ্টের গোপন সংবাদ সংগ্রহ করা । এটা এক মাত্র টাইম মেশিন দিয়েই সম্ভব । 
.
অভ্র এখানকার একজন তরুণ বিজ্ঞানী । তবে তার তুখোর বুদ্ধিমত্তা সবাইকে অবাক করেছে কারণ তার হাত ধরেই টাইম মেশিন নামক স্বপ্নের মেশিনটি আবিষ্কৃত হয়েছে । তবে দুঃখের ব্যাপার হলো টাইম মেশিন দিয়ে শুধুমাত্র অতীতে যাওয়া যাচ্ছে ভবিষ্যতে যাওয়া যাচ্ছে না । আর এখন মেশিনটি সংস্কার করে ভবিষ্যতে পারি দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে কিন্তু কোন ভাবেই সফল হওয়া যাচ্ছে না । 
.
অভ্র খুব মনোযোগ দিয়ে নিজের কাজ করছিল । হঠাৎ তার কানের ছিদ্রে সেট করা নেনো ফোনটি বেজে উঠেছে এবং কে ফোন করেছে সেটাও সে স্পষ্ট বুঝতে পারছে কারণ ফোনটি সয়ংক্রিয় ভাবে বলে দিচ্ছে এটা কার ফোন । ফোন রিসিভ করার নিয়মটাও চমৎকার শুধু মুখ দিয়ে বললেই হলো yes or no . যদি yes বলে তবে এর ভয়েস শুনে ফোনটি একা একাই রিসিভ হবে । 
.
yes,, 
.
হ্যালো অভ্র আমি জিসান বলছি 
.
তাতো বুঝতেই পারছি, তো বন্ধু এতদিন পরে কি মনে করে ফোন দিলে । 
.
খুব একটা প্রয়োজন ছিল । 
.
সেতো জানি এই বিজ্ঞানময় যুগে কেউ কাউকেই অনর্থক ফোন দেয় না । তো বন্ধু বল কি প্রয়োজন ?
.
আমি আসলে সরাসরি বলতে চাচ্ছি ফোনে নয় । খুব সিরিয়াস একটা ব্যাপার । 
.
হ্যা বুঝতে পারছি । আমি আসলে এখন খুব ব্যস্ত তবে তুমি যখন ডেকেছ তবে অবশ্যই দেখা করবো । শতো হলেও তুমি আমার স্কুল লাইফের বন্ধু । একটা কাজ করো আজ সন্ধ্যা সাতটায় ডি- ক্যাফে চলে আস সেখানে কথা হবে । 
.
Ok বন্ধু অনেক ধন্যবাদ ,,,,
,,,,
অনেকক্ষণ ধরে ডি-ক্যাফে বসে অভ্রের জন্য অপেক্ষা করছে জিসান । একমাত্র টাইম মেশিনের সঠিক তথ্যটি দিতে পারবে অভ্র কারণ জিসান ভালো করেই জানে অভ্র বাংলাদেশের কত বড় একজন বিজ্ঞানী । এর সঠিক তথ্য অভ্র জানবে না তো কে জানবে । 
,
সরি বন্ধু অনেক দেরি হয়ে গেল । 
.
তাতো দেখতেই পারছি, ব্যস্ত মানুষ কিছুই করার নেই । সময় করে যে তোমার মত মানুষ আমার সাথে দেখা করতে এসেছ এটাই অনেক বড় কিছু । 
.
পাম দেওয়া বাদ দেও এখন বল কি সমস্যা তোমার । 
.
হ্যা একটা বড় সমস্যায় পরে গেছি । তুমি তো জান আমার বাবা একজন সফল ব্যবসায়ী । তার অনেক শত্রু থাকবে এটাই স্বাভাবিক । তো কয়েক মাস আগে অভ্যাস মতো খুব সকালে হাঁটতে বেড়িয়েছিলেন হঠাৎ করে কোথা থেকে যেন বাবার দিকে একজন আতোতায়ী তেড়ে আসে এবং অনেকটা সিনেমার দৃশ্যের মতো দূর থেকে লেজার গান দিয়ে সুট করে কিন্তু র্ভাগ্যক্রমে লেজার গানের রশ্মি বাবার গায়ে লাগেনি, লেগেছে রিহান নামের অন্যজনের শরীরে । বাবা ততক্ষণাৎ তার লেজার গান বের করে আতোতায়ীকে লক্ষ্য করে উল্টো সুট করে কিন্তু আততায়ী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় । তার কিছুক্ষণ পরে ইমার্জেন্সি পুলিশ এসে বাবার হাতে লেজার গান দেখে হাতে নাতে তাকে গ্রেপ্তার করে এবং খুনের জন্য তাকেই দায়ী করা হয় কারণ রিহান নামের লোকটির সাথে বাবার পূর্ব শত্রুতা ছিল কিন্তু দুর্ভাগ্য ক্রমে আশেপাশে কোন সিসি ক্যামেরা ছিল না যা দিয়ে খুনী কে সনাক্ত করা যায় । এছাড়া ঘটনার সময় অন্য কোন পথচারি ছিল না যে বাবার হয়ে সাক্ষী দেয়, উল্টো পুলিশের জবান বন্দিতে বাবা ফেসে গেছেন কারণ পুলিশ নিজ চোখে দেখেছে বাবার হাতে লেজার গান ছিল এবং রিহানের দিকে এগিয়ে গেছে । বাবা যে রিহান কে বাঁচানোর জন্য এগিয়ে যাচ্ছিল এটা পুলিশ কে, কে বোঝাবে । 
.
আরে এতো দেখি একেবারে সিনেমার দৃশ্য, একেবারে পুরোপুরি মিল । 
.
কথাটা বলেই অভ্র হাসছে 
.
তুমি হাসছ ? 
.
ঘটনা তো একেবারেই হাসির মতো । সিনেমাতে এই ধরনের দৃশ্য দেখা যায় । 
.
তা দেখা যায় হয়তো কিন্তু বাবাকে বাঁচানোর মতো কোন পথ খুঁজে পাচ্ছি না । 
.
তার পক্ষে কোন ধরনের প্রমাণ যোগাড় করতে পারনি ? 
.
না পারিনি, আর এই জন্যই তোমার সাহায্যের প্রয়োজন । 
.
আমি আবার কি সাহায্য করবো এখানে !
.
আচ্ছা আমাকে একটা সত্যি কথা বলবে বন্ধু ?
.
তুমি আমার স্কুল জীবনের বন্ধু, আমি তোমার সাথে কখনো মিথ্যা বলেছি ?
.
তা অবশ্য বলনি, 
.
তাহলে বল, সত্যিটাই বলব ?
.
আমি গোপন ভাবে একটা সংবাদ পেয়েছি বাংলাদেশের কোথাও টাইম মেশিন নামে একটা মেশিন আবিষ্কার হয়েছে যা দিয়ে নাকি অতীতে ভ্রমণ করা যায় । কথাটা কি সত্যি ? এই সম্পর্কে তুমি কি কিছু জান ?
.
অভ্র চুপ করে আছে কি বলবে ভেবে পায় না । এমন একটি বিষয় জিসান জিজ্ঞেস করছে যেটা টপ সিক্রেট যা কিনা জন্মদাতা পিতা কেও বলা যায় না । কিন্তু টাইম মেশিনের খবরটা দিয়ে ও করবে টা কি ?
.
কি হলো অভ্র কথা বলছ না কেন ?
.
তুমি যে বিষয়টা জানতে চেয়েছ এর কারণটা প্রথমে জানতে পারি কি ?
.
অবশ্যই জানতে পার । যদি টাইম মেশিনের সন্ধান পাই তবে হয়তো আমার বাবাকে নির্দোষ প্রমাণ করে মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচানো যাবে । 
.
সেটা কিভাবে ?
.
টাইম মেশিনে করে NSC প্রধান কে আসল ঘটনা দেখিয়ে আনা যেত এবং প্রমাণ করা যেত আমার বাবা নির্দোষ । এখন বল টাইম মেশিনের সন্ধান কি তুমি জান ?
.
হ্যা টাইম মেশিনের সন্ধান আমি জানি এবং শুনে আরো আশ্চর্য হবে যে টাইম মেশিনের প্রধান আবিষ্কারক আমি । এবং এটাকে এমন একটি গোপন আস্তানায় রাখা হয়েছে যে রাষ্টের বড় বড় দুই একজন ছাড়া এটার খবর কেউ জানে না । তোমাকে এও বলি এটাকে আমরা উন্মোচন করছি না কারণ এটার মাধ্যমে আমরা শত্রু রাষ্টের গোপন সংবাদ সংগ্রহের চেষ্টা করছি । কিন্তু কথা হলো NSC প্রধান কে যদি অতীত ভ্রমণ করানো হয় তবে তো ব্যাপার টা ফ্লাস হয়ে যাবে এবং সংস্থাতেও প্রমাণ করা যাবে না তোমার বাবা নির্দোষ । কারণ প্রমাণটা তো তাকে সবার সামনে দেখাতে হবে । আমাদের ব্যর্থতা হলো অতীতে গিয়ে কোন কিছু রেকর্ড বা ভিডিও করে আনা যায় না শুধুমাত্র দেখা যায় । অতীত সেখানে মানব কোষের অস্তিত্ব পরক্ষ ভাবে স্বীকার করলেও বর্তমানের কোন জড় পদার্থ কে স্বীকার করে না, এটাই সমস্যা । 
.
অভ্রের কথা গুলো শুনে জিসান একসাথে আশ্চর্য এবং চিন্তিত । তার স্কুলের জীবনের বন্ধু আজ এতো বড় বিজ্ঞানী সে জানতেই পারেনি । আবার অভ্র যে কথা গুলো বললো সে কথা গুলোও তো ঠিক । এখন কি উপায় কিছুই ভেবে পাচ্ছে না জিসান । 
.
আমি বলি কি তোর বাবার মৃত্যু দণ্ডাদেশ হয়ে যাক 
.
কি বলছো তুমি !! 
.
হ্যা ঠিকই বলছি, তুমি কি জান NSC কতৃক মৃত্যু দণ্ডাদেশ হওয়ার পর রাষ্ট্র প্রধান ইচ্ছে করলে সেই মৃত্যু দণ্ডাদেশ খারিচ করে তাকে ক্ষমা করে দিতে পারেন যদি আসামি রাষ্টপতির কাছে আপিল করেন ?
.
হ্যা সে ব্যাপারটা জানি কিন্তু রাষ্টপতিকে বুঝাবো কি করে আমার বাবা নির্দোষ ?
.
ঐ যে টাইম মেশিন ,,,,
.
টাইম মেশিন !! 
.
হ্যা টাইম মেশিন, রাষ্টপতিকে টাইম মেশিনে সময় সেট করে বসিয়ে দিব কারন সে টাইম মেশিনের ব্যপারটা জানে । তার সাথে মাঝে মাঝেই আমাদের গোপন বৈঠক হয় অন্যান্য রাষ্ট্রের গোপন তথ্যাদি নিয়ে । সেই সময়টায় একান্তে তোমার বাবার কথা বললে হয়তো বুঝবেন এবং টাইম মেশিনে করে ঘটনাটা দেখেও আসতে পারবেন । 
.
কিন্তু আমার বাবা হয়তো এতে করে বেঁচে যাবেন কিন্তু সমাজের চোখে তিনি যে খুনী হয়েই বেঁচে থাকবেন । 
.
দেখ জিসান সমাজের চোখ পর্দায় মোড়ানো তারা অনেক কিছুই দেখে না কিন্তু সত্যিটা শুধু বিধাতা জানে । আর অতীতের সত্যিটা জানে আমার টাইম মেশিন । 
.
পরিশিষ্ট :- না জিসানের বাবার মৃত্যু দণ্ডাদেশ হয়েও মৃত্যু কার্যকর হয়নি, অভ্রের আন্তরিক প্রচেষ্টায় রাষ্টপতিকে টাইম মেশিনে চড়ানো গেছে এবং সত্যিটা জেনে মৃত্যু দণ্ডাদেশ খারিচ করে দিয়েছেন তিনি  
.

Post a Comment

Previous Post Next Post