একটি মেয়ের দিকে আমি দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে আছি । মেয়েটি সুন্দর বা অন্য কোন কারণ নয় । আমার মনে হচ্ছে মেয়েটিকে আমি চিনি সে আমার পূর্ব পরিচিত কিন্তু কিছুতেই মনে করতে পারছি না মেয়েটি আসলে কে ? সাহস করে যে মেয়েটি কে জিজ্ঞেস করবো সেই উপায় নেই । 
.
হঠাৎ করে মেয়েটি আমার দিকে এগিয়ে আসছে মনে হচ্ছে সে আমাকে চিনতে পেরেছে । নিশ্চয়ই কথা বলবে । 
.
-- এই যে মিস্টার আমি অনেকক্ষণ ধরে খেয়াল করছি আপনি আমার দিকে ভ্যাবলা কান্তের মতো তাকিয়ে আছেন, কারণটা জানতে পারি ?
.
মেয়েটির কথা শুনে আমি আসলেই ভ্যাবলা কান্ত হয়ে গেছি । তার এই প্রশ্নের উত্তরে কি বলা যায় ভেবে পাচ্ছি না । 
.
-- না মানে আপনাকে আমার খুব পরিচিত মনে হচ্ছিলো, তাই তাকিয়ে ছিলাম । 
.
-- সব মেয়েদের বুঝি আপনাদের পরিচিত মনে হয় ? কেন ? এমনটা না করলে হয় না ! কই আপনাকে তো পূর্বে আমি কখনও দেখেছি বলে মনে হয় না । 
.
-- কিন্তু আমি আপনাকে অবশ্যই দেখেছি । দেখেছি বললে ভুল হবে আপনি আমার বেশ পরিচিত ।
.
-- আজকে গাঁজা মনে হয় একটু বেশি খেয়েছেন তা না হলে একটি অপরিচিত মেয়ের সামনে দাঁড়িয়ে গুল মারতে পারতেন না । যান এখান থেকে আর কখনও মেয়েদের দিকে এভাবে তাকিয়ে থাকবেন না আর যদি এমনটা করেন তবে ইভটিচিং এর মামলা করে দিব । 
.
কি সাংঘাতিক মেয়েরে বাবা ! শুনেছি সুন্দরী মেয়েরা অহংকারী হয় কিন্তু রগচটা বা অভদ্র হয় না কিন্তু এ দেখি সব গুণে গুণান্বিত । 
.
আমি এখন রাস্তা দিয়ে বাড়ির পথে হাঁটছি আর বারবার মনে করার চেষ্টা করছি মেয়েটি আসলে কে ? আদৌ কি মেয়েকে আমি চিনি নাকি সবটাই আমার অবচেতন মনের ভুল । 
আর কিছু ভাবতে পারছি আমি মাথা ধরেছে একটু।
এটা সত্যি যে আমার অবচেতন মনের ভুল ছিলো।
কিন্তু কি করে হতে পারে এটা?
সেই চোখ, সেই নাক, সেই মুখ কেমন করে সম্বব?
একটা রিকশা নিয়ে বাসায় চলে আসলাম। এসেই খাটের পরে শুয়ে পড়লাম।
আবার উঠে টেবিল এর পরে রাখা এলবাম টা নিয়ে মিষ্টির ছবি গুলো দেখতে লাগলাম।
একে বারে মিলে গিয়েছে তার সাথে।
অনেক দিন পরে আজ খুসিতে মনটা ভরে গেলো এক অপরিচিত হলেও সে আমার পরিচিত।
এতো বছরের মধ্য তো ওনাকে একবারও দেখতে পেলাম না এখানে।
হয়তো এখানে ছিলো আমার নজরে পড়েনি।
আবার এখানে সে থাকে না হয়তো বেড়াতে এসেছে।
আর ভাবতে পারছি না এখন শরীরটা অনেক কিলান্ত লাগছে।
একটা ঘুমের প্রয়োজন,
একটা শান্তির ঘুমের প্রয়োজন।
মেয়েটাকে দেখার পর থেকে আবার দেখার জন্য মনটা ছটফট করতে লাগলো।
সারা রাত ঘুমাতে পারিনি বার বার তার চেহারাটা পর্দার মতো ভেসে উঠছে।
সকাল গড়িয়ে যাওয়ার পরপরি সেই স্থানে চলে গেলাম তাকে খুজতে,
জানি দেখা মিলবেনা তবুও আাশা মনে যায়।
না পেলাম না। 
দুইদিন এমনি করে কেঁটে গেলো।
তিনদিনের দিন মনস্থির করলাম আজকে শেষ যদি না মেলে আর খুজবো না।
সকাল পার, 
দুপুর পার,
বিকাল এলো গড়িয়ে মার্কেটে বিষন্ন মন নিয়ে হাটছি। হঠ্যাৎ চোখটা কোথায় আটকে গেলো?
মন থেকে কিছু চাইলে আল্লাহ সেটা মিলিয়ে দেই আজো তার প্রমান পেলাম।
সেই মেয়েটি একটা শাড়ির দোকানে আছে ২/৩ জন বান্ধবীর সাথে।
মনটা আনচান করছে তাকে একটু কাছ থেকে দেখতে কিন্তু সম্বব না সেটা। মেয়েটা প্রথমে আমাকে অনেক কথা বলেছে এখন আবার তার সামনে গেলে না জানি কি বলে বসে।
দুর থেকে তাকে নজর বন্ধি করছি অপলাক তাকিয়ে আছি হঠ্যাৎ তারা সকলে খালি হাতে বের হয়ে আসছে। মুখটা মেঘলা আকাশের ন্যয় কালো হয়ে আছে। তারা ওখান থেকে চলে গেলো আমি সেই দোকানে গিয়ে জানতে চাইলাম তারা চলে গেলো কেনো। 
শাড়িটা পছন্দ হয়েছে কিন্তু দাম তাদের সামার্থের তূলনায় অনেক বেশী। শাড়িটা আমি কিনে নিলাম প্যাক করে ও দোকান দার এর কাছে দিয়ে বললাম এটা তাদের দিয়ে আসতে ।তার জন্য তাকেও ৫০ টাকা হাতে দিয়ে দিলাম। 
তাকে বলে দিলাম?
কে দিলো জানতে চাইলে বলবে অপরিচিত কেও ।
দুর থেকে দেখলাম নিতে চাইলো না কিন্তু পরে নিয়ে খুসিতে যে আত্মহারা হয়ে গেছে তার মুখ দেখলে বোঝা যাচ্ছে।
ওখান থেকে চলে আসলাম মার্কেটর সামনে দারিয়ে আছি। 
আমার পাস ঘেষে ওরা চলে যাচ্ছে পিছু নিলাম না কেনো জানি।
একটু দুরে যেতে তার এক বান্ধবী মেয়েটাকে রেখে ফিরে আসছে আবার, 
এই সুজকে যদি তার সম্পর্কে কিছু জানা যায়।
তার বান্ধবী মার্কেটে ভিতরে ঢুকতে ডাক দিলাম।
----এই যে শুনছেন? (আমি)
----আমাকে ডাকছেন? ( মেয়েটি)
----জ্বি, আপনার সাথে ২ মিনিট কথা ছিলো।
----আমি তো আপনাকে চিনি না।
----আমরা কেও কাওকে চিনি না।
----আচ্ছা কি বলবেন একটু তাড়াতাড়ি বলেন?
----ঐ মেয়েটার সম্পর্কে জানতে চাই?
----একজন অপরিচিত কে কেনো বলবো?
( মোবাইল বের করে তাকে কিছু দেখালাম আর আমার অতীত জানালাম ছোট করে)
----এবার তো প্লিজ বলেন?
----ওর নাম রাইসা। অর্নাস ২ বর্ষে পড়ে ও ঢাকাতে থাকে, এখানে আসছে আমাদের বাড়িতে বেড়াতে। আর আমি ওর খালাতো বোন। ও কখনো ঢাকা থেকে বের হয়নি এই প্রথম যশোর আসলো সে। ১০ দিন থাকবে এখানে মাএ।
----এটা জানার ছিলো।
----এতোটা মিল কি করে হতে পারে?
----যদি কিছু মনে না করেন আর বিশ্বাস করতে পারেন ওনার সাথে কথা বলাতে পারবেন? 
----আচ্ছা আমি ওর নাম্বার দিচ্ছি আপনি কল দিয়েন।
----আমার নাম্বার টাও আপনি রেখে দেন যদি কখনো প্রয়োজন পরে স্বরণ করেন।
----আচ্ছা আজ তাহলে আসি?
----আমার কথা ওনাকে কখনো বলবেন না।
----আচ্ছা,, বাই
মেয়েটা চলে গেলো, বুঝতেন পারিনি এতো সহজ ভাবে কিছু হবে। 
রাইসা কে দেখে মনে হয়ে ছিলো তার বান্ধবী গুলো একি রকম হবে কিন্তু এতো টা নরম আর শান্ত মনের মানুষ হবে বুঝতে পারিনি।
জ্যোৎস্না রাত চারিদিক ঝিঝিপোকার ডাকে মেতে আছে।
মাথা উচু করে আকাশ এর দিকে নজর দিলাম অসংখ্য তাঁরার মেলা বসেছে। 
সবার মাঝে চাঁদ মামা অসম্ভব সুন্দর লাগছে আজকের রাত টা। 
কিছু অতিতের সৃতি এসে মনটা বেজায় খারাপ হয়ে গেলো বুঝতে পারলাম। 
এমনি এক রাতে কেও কোলে মাথা দিয়ে শুয়ে ছিলো?
এমনি এক রাতে কেও কাঁধে মাথা দিয়ে কল্পনার জগতে হারিয়ে যেতো?
এমনি এক রাতে কেও হাতে হাত রেখে চোখে চোখ রেখে বলেছিলো কখনো হারিয়ে যেওনা?
আর সে নিজেই হারিয়ে গেছে। 
একা রেখে চলে গেছে। 
যার কথা বলছি সে মিষ্টি, যার সাথে আমার আত্মার মিল ছিলো। ভালোবাসার চাঁদরে জড়িয়ে রাখতো সবসময়। দুইজন দুজনাকে পাগলের মতো ভালোবাসতাম।কেও কাওকে ছাড়া এক মূহুর্ত থাকা সম্বব ছিলো না আমাদের কাছে। আমাদের পছন্দের কথা আমরা বাড়িতে জানায়। অমত ছিলো মিষ্টির পরিবার মা বাবা গিয়ে তাদের রাজি করায় আর বিয়ের দিন ঠিক করে আসে। বিয়ের ২দিন আগে মা বাবা মিষ্টিকে নিয়ে বিয়ের জন্য কেনা কাটা করতে গিয়েছিলো নিজের মেয়ের মতো করে নিয়েছিলো অল্পদিনে। মার্কেট থেকে আসার সময় রোড এক্সিডেন্ট এ আমি হারিয়ে ফেলি তাদের। এতিম হয়ে গেলাম আমি মা বাবাকে হারিয়ে। 
যাকে জীবনের থেকে বেশী ভালোবাসতাম আমার পাগলী কে চিরতরে হারিয়ে ফেললাম আমি। 
নিস্ব হয়ে গেলাম ।
আজ বড় একা লাগছে গো
বুকের ভেতর বড্ড বেথা করছে যে।
চোখ থেকে অজানতে অঝরে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে কখন বুজতে পারিনি। 
মা বাবাকে তো পেলাম না কিন্তু আমার মিষ্টিকে পেলাম রাইসার মাঝে।
চোখের পানি মুছে, রাইসা কে কল দিলাম।
----হ্যালো?( আমি)
----কেমন আছেন?( রাইসা)
----ভালো আছি। কে বলছেন?
----অচিন মানুষ।
----ছরি রংনাম্বার।
----একটু শুনবেন?
----বলেন?
----আপনি এতো রাগী কেনেন?
----তাতে আপনার কোনো সমস্যা।
----মেয়েরা নরম মনের মানুষ হয় কিন্তু?
----কিন্তু আমি গরম মনে তাই তো?
----বাদ দিন আমরা বন্ধু হতে পারি?
----জ্বি না ধন্যবাদ,বাই.।
বলেই রেখে দিলো আমার বলার আর সুজক দিলো না একটুও।আসলে মেয়েটা সত্যি অনেক রাগি। আমার মিষ্টি তার বিপরীত মিষ্টির মতো মিষ্টি ছিলো। চোখে মুখে মিল আছে কিন্তু ভিতরে অমিল সম্পর্ন।
এর পর থেকে প্রায় রাইসাকে কল দেই অনেক রাগারগি ও বকা ঝকা করতো আর আমার শুনতে ভালো লাগতো হারিয়ে যাওয়া প্রিয় মানুষটা ফিরে পাওয়ার মাঝে সুখটা বেশী থাকে।
একসময় আমরা বন্ধু হয়ে গেলাম তার কাছে অপরিচিত নামে।
একসময় সে ঢাকাতে চলে গেলো তবুও সবসময় কথা হতো। এমন করে ৬ টা মাস চলে যায় মাঝে মাঝে তার খালাতো বোন এর সাথে কথা বলতাম বোন বানিয়ে নিয়েছিলাম তাকে।
৬ মাস পর আবার আসে যশোর রাইসা আর তার একমাএ কারন ছিলো আমি। কথা বলতে বলতে ভালো বন্ধুত্ব হয়ে যায়। 
নিজেকে আবার একজন সুখি মানুষ বলে মনে হতে লাগলো।
একসব সব কিছু হারিয়ে আমি যেনো পাগল হয়ে গিয়েছিলাম আজ একজন কে পেয়ে যেনো সব বেঁথা সুখে পরিণত হলো।
রাইসা তার খালাতো বোন কে আমার বিষয়ে বলে কিন্তু সে অগেই জানতো অপরিচিত টা কে?
পরে আমাকে সব বলে সিমা ।রাইসার খালাতো বোনের নাম ছিলো সিমা।
রাতে ছাদে একা বসে আছি হঠ্যাৎ রাইসার কল আসলো ।
----আচ্ছা আমরা পরিচিত হবো কবে?( রাইসা)
----বুঝলাম না। (আমি)
----দেখা করবো কবে?
----দরকার কি এমোনি থাকি না।
----বন্ধু হয়ে বন্ধুর সাথে দেখা করবো না এটা হয় না।
----হওয়ালে হয়।
----চাই না, আমরা কালকে দেখা করবো।
----আমার অপরিচিত থাকতে ভালো লাগে?
----কাল দেখা করছি এটা ফাইনাল,, স্থান নিউ মার্কেট ওকে।
----ওকে।
----বাই।
চিন্তা পড়ে গেলাম এতোদিন এটা মনে হয়নি ও দেখলে কি বলবে?
মনে মনে ভয় করছে যদি আর বন্ধুত্ব না রাখে আমাকে চিনে?
যাই হয় হবে আল্লাহ ভরসা।
সারাতার ঘুম হয়নি বললে চলে। সকাল হতে না হতে কল দিলো ১১টার মধ্যে আসতে।
আমি সময় মতো রেডি হচ্ছি ঠিক এমনি সময় সিমার কল আসলো।
সিমা যা বলছে তা শোনার জন্য প্রস্তুত না।
হাত থেকে মোবাইল পড়ে গেলো। রাইসার এক্সিডেন্ট হয়েছে রিকশাই করে রাইসা আর সিমা আসছিলো একটা বাসের সাথে ধাক্কা লাগে ।
রিকশা থেকে পরে যায় ওরা দুইজনি। 
রাইসা পড়ে যায় রাস্তার পাশে ইট এর স্তুপ ছিলো তাতে মাথায় আঘাত লাগে আর ওখানে আবর্জনা ছিলো সেখা থেকে বড় আঘাত লাগলো, ছোট মোটা একটা রড কাপড় ভেদ করে পেটের সাইড দিয়ে ঢুকে যায় আর রাইসার তাতে প্রচুর রক্ত পাত ঘটে।
তাড়াতাড়ি তাকে হসপিটালে নিয়ে যায় লোকজন।
আমি শুনে যেনো মাথায় কাজ করছিলো না।
আমার সবকিছু কেঁড়ে নিয়েছে এমন করে,
সব শেষে আবার কাওকে পেলাম তাকেও এমনি করে কেঁড়ে নিতে চাইছো আল্লাহ ?
কেনো আল্লাহ আমার সাথে এমন করো?
হন্নের মতো হয়ে ছুটে গেলাম ওখানে।
সিমার হাতে আর পায়ে কোনো রকম চোট পেয়েছে তেমন কিছু হয়নি।
রডটা বের করতে অপারেশন করতে হবে আর তাতে রক্ত খরন হবে। 
সিমার কাছে শুনতে পেলাম(ও নেগেটিব) রক্তের প্রয়োজন ২ ব্যাগ। 
কিন্তু পাওয়া যাচ্চে না যেখানে আছে আসতে ৩ ঘন্টা সময় লাগবে কিন্তু ১ঘন্টার মধ্য না দিতে পারলে বাচানো যাবে না রাইসাকে 
আমার যে (ও নেগেটিভ) চিন্তায় খেয়াল ছিলো না। সিমা কে নিয়ে ডাক্তার এর কাছে গিয়ে অনুরোধ করে বললাম যতো রক্ত লাগে আমার কাছ থেকে নিন তবুও ওকে বাচান।
আমার শরীর টা একটু খারাপ ছিলো জর জর ভাব ছিলো তাই ডাক্তার মানা করে, 
আমার যা হয় হোক এতো দিন পর যায় মাঝে মিষ্টিকে খুজে পেয়েছি তাকে কি করে হারাতে দেই আমি। 
অনুরোধ করে ২ ব্যাগ রক্ত দিলাম। 
আল্লাহর অশেষ রহমতে রাইসার জীবন রক্ষা হয়।
ব্লাড দিয়ে শরীর কিলান্ত । 
উঠে দাড়াতে কষ্ট হচ্ছে।
একদিন হসপিটালে ছিলাম সিমা আর ডাক্তার ছাড়া কেও জানতো না এতো রক্ত কে দিয়েছে এমন কি তার সিমার মা বাবাও না।
পরের দিন বাসায় চলে আসলাম কোনোমতে।
রাইসা জানতো আমি কিছু জানি না কারন তার মোবাইল টা ভেঙ্গে গিয়েছিলো। 
রাইসা ৭ দিন পর একটু সুস্থ হওয়ার পর সিমার নাম্বার থেকে আমাকে কল দিলো আর তার অবস্থার কথা জানালো । 
এমন ভাবে কথা বললাম যেনো আমি কিছু জানি না। বার বার যাওয়ার জন্য বললাম মানা করলো আর আমি জানতাম সেটা করবে।
কারন এমন অবস্থাতে প্রথম দেখা করতে চাই না তারপর সুজক পেলাম আর সবসময় ফোনে খোজ নিতাম
একসসময় পুরোপুরি সুস্থ হয়ে যায় আবার দেখা করবে বলে সেই একই জায়গাতে।
আমি ওর আগে গিয়ে অপেক্ষাতে আছি।
মনটা উতলা হয়ে আছে তাকে দেখার জন্য। মার্কেট এর দ্বিতীয় তলার উপরে এক সাইডে দাড়িয়ে আছি।
ব্যাস্ত শহর আর এতো মানুষ এর আনাগোনা এর মাঝে চোখ দুটো তাকে খুজে যায় শুধু।
কোনো এক মেয়েলী কন্ঠে "অপরিচিত " নামে ভেসে আসলো ?
পেছন ফিরে আমি অবাক হয়ে যায়।
এযে রাইসা কিন্তু আমাকে চিনলো কি করে?
তারপর আস্তে আস্তে যতো আমার কাছে এগুয়ে আসছে আর বুকে স্পন্দন টা ততো বেড়ে যাচ্ছে।
এসেই একটা,, ঠাস,,, করে থাপ্পর দিলো। 
গালে হাত দিয়ে অবাক চোখে তাকিয়ে আছি আমি
কি হলো বুঝতে পারলাম না?
একপলকে শূন্য বুকটা ভরাট মনে হলো।
হা রাইসা আমাকে জড়িয়ে ধরেছে।
কি হচ্চে এইস আমার সাথে?
সিমার আগমন ঘটলো ওখানে আর বুঝতে বাকি রিইলো না কিছু।
----তুমি এতো খারাপ জানতাম না।(রাইসা)
----একটু খারাপ হওয়া ভালো। (আমি)
----চুপিচুপি সব করবে আর আমি জানবো না তাই না?
----কিছু কথা না জানা ভালো।
----কি দরকার ছিলো গপন করার?
----ভয় ছিলো।
----আমাকে হারানোর?
----হুমমম।
----এতোদিন কথা বলছি একটি বার বলতে পারতে আমি তোমার মিষ্টি না হলেও সেই মিষ্টি হয়ে যেতে?
----সব কিছু হারিয়েছি তোমাকে দেখার পর আর হারাতে চাইনি তাই বন্ধু হয়ে থাকতে চাইছি।
----ঐ দিন তুমি না হলে আজ আমি এখানে না দূর আকাশের তারা হয়ে যেতাম।
----দোহায় লাগে এমন বলো না?
----বলবো না, তাহলে বলো সারাজীবন তোমার সাথে রাখবে?
----যদি তুমি চাও?
----ভালোবেসে ফেলেছি তোমাকে, অনেক বেশী। ঙ্গান ফেরার একদিন পরে সিমা সব বলে কে সে অপরিচিত জন ?
----কে সে আমিও জানতে চাই?
----বাদর, হ্রামী শয়তান একটা কোথাগার ।
----সারাজীবন এমনি হয়ে থাকবো।
----আমিও চাই।
----কিন্তু আমার মিষ্টি হয়ে থাকতে হবে?
----তোমার জন্য মিষ্টি হয়ে নিজেকে নাই অপরিচিতা করে রেখে দেবো।
----একটা কবিতা শুনবে?
----......(মাতা নাড়িয়ে হা বললো)
অনেক চেনা তুমি তব কেন দেখি বারেবার,
কেন চাহনি ফিরেনা ভুলেও দেখি আবার?
মনে পড়েনা, না পড়ে জ্ঞানে- অজ্ঞানে,
তোমারে চিনিনা বন্ধু তাই পড়েছি অবচেতনে।
তুমি বললে সামনে আসি কথা মোরে রোষে রোষে,
আমি নাহয় শুনেছি সবি মোর চাহনিরও দোষে।
তোমার রুক্ষ চাহনি করেছি হাসিতে বরণ,
সেই চোখের ফাঁসিতে পড়িল কেহ করিল অনশন।
রোজ তোমারে দেখে দেখে কতকথা ভাবি মনে,
দেখেছি কি আদৌ তোমায়, কোন তারিখে কত সনে?
মনের অ বগুন্ঠে নামকরণ করি কৃষ্ণমালতী-সঞ্চিতা,
হাজারো পরিচিত তুমি তবু লাগছে আজ সেই
******* অপরিচিতা ******

Post a Comment

Previous Post Next Post