-এই রাত্রি এখনো ঘুমিয়ে আসিছ কেন ক্যাম্পাসে যাবি না?
>আর একটু ঘুমাই না দোস্ত প্লিজ।
-আটটা বাজে,কত ঘুমাবি তুই?আম্মু আসলে কিন্তু মার দিবে।
>ওরে ওরে কি বলিস।দেখ আমি উঠে গেছি।
-আম্মুর কথা না শুনা পর্যন্ত তো আপনি কখনো উঠবেন না আমি জানি।
>হুর হারামী,ঘুমটা ভাঙ্গায় দিলি তুই।
-এখন সত্যি আম্মু চলে আসবে,সেই কখন ডাকতে পাঠাইছে আমায়,আম্মু নাস্তা নিয়ে বসে আসে।
>ইসস দেরি হয়ে গেল।আমি আসছি দুই মিনিট অপেক্ষা কর।
-আচ্ছা আমি গেলাম তুই আয়।
-আচ্ছা।
.
আমি রাত্রি, পৃথিবীতে আপন বলতে শুধু আমার বন্ধু নওরিন আর তার পরিবার আছে।এতক্ষন যে আমাকে ঘুম থেকে ডেকে উঠালো ওই হচ্ছে নওরিন।আমি ওদের বাসাতেই থাকি আর ওর আম্মু আব্বুকে আম্মু আব্বু বলে ডাকি। নিজের তো আম্মু আব্বুকে ছোট বেলাতেই হারিয়েছি।আর তখনই নওরিন এর আব্বু আমায় এখানে নিয়ে আসছে।ওনি আমার বাবার খুব ভালো বন্ধু ছিল।ওনারা আমাকে তাদের নিজের মেয়ের মতো করেই ভালোবাসে।আর আম্মু তো নওরিন এর থেকেও আমায় বেশি ভালোবাসে।
.
=কি আম্মাজান এতক্ষনে ঘুম ভাঙ্গলো(আম্মু)
>না মানে আম্মু রাত জেগে একটু পড়াশুনা করছিলাম তো তাই উঠতে লেইট হয়ে গেল।
-আম্মু তোমার আম্মাজান রাত ভরে চুরি করছে তাই উঠতে লেইট হইছে ওর।
>হারামী কি বলিস?আমি চুরি করি নাকি তুই করিস।
=এই ঝগড়া না করে যলদি খেয়ে নে।
>হ্যা আম্মু আমাদের খাওয়া শেষ।এই নওরিন চল দেরি হয়ে যাচ্ছে আমাদের।
-হ্যা চল।
.
দুজনে কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।আজ বাসে যাবো বলে ঠিক করেছি।যেই কথা সেই কাজ,তাই বাসে উঠলাম দুজন।বাসে শুধু একটাই সিট খালি ছিল।তাই নওরিন কে বসতে বললাম।আলুর বস্তাটাতো আবার দাড়িয়ে থাকতে পারবে না তাই ওকে বসিয়ে দিলাম।
.
-এই যে আপু শুনছেন?
>জ্বী আমায় বলছেন?
-হ্যা আপনাকেই বলছি।আপনি চাইলে আমার সিটে বসতে পারেন।
>এই সুযোগটা আর হাতছাড়া করলাম না তাই বসে পড়লাম।
.
ছেলেটা আমার দিকে তাকিয়ে ছিল।হয়তো সে এতবড় একটা উপকার করলো আর আমি একটা ধন্যবাদ ও দিলাম না তাই হয়তো অনেক টা অবাক হইছে।কিন্তু কি করবো বলুন আমার আবার ছেলেদের প্রতি একটু এলার্জি আছে তাই আর কিছু বললাম না।অবশেষে আমরা আমাদের গন্তব্যে পৌঁছে গেলাম।
ছেলেটাও আমাদের সাথে বাস থেকে নেমে গেল।
.
-রাত্রি তুই এটা ঠিক করিস নি।
>কি ঠিক করলাম না?
-জানিস না মনে হয়?
>কি জানবো?
-ছেলেটা তোকে বসতে দিয়ে হেল্প করলো আর তুই একটা ধন্যবাদ ও দিলিনা।
>বাদ দে তো।এতে ধন্যবাদ দেওয়ার কি আছে?ওর মন চাইছে ও উঠে গেছে হয়তো বসতে বসতে বোর হয়ে যাচ্ছিল তাই।
-ধ্যাত তুই কখনো সুধরাবি না।
>আগে তুই নিজেকে সুধরে নে। ছেলে দেখলে তোর মাথা ঠিক থাকে না।
-তুই এটা বলতে পারলি দোস্ত(কাঁদো কাঁদো ভাব নিয়ে নওরিন বললো)
>কাঁদেনা সোনা স্যরি।
-ধ্যাত তোর স্যরি তুই রাখ।ক্লাসে চল।
>ওকে চল, ক্লাসে গিয়ে দেখি সেই ছেলেটা।
মানে যে আমায় তার সিটে বসতে দিয়েছিল।যাক দেখেও না দেখার ভান করে বসে পরলাম।
-এই রাত্রি দেখ সেই ছেলেটা।(নওরিন)
>কোন ছেলে?
-আরে সেই ছেলেটা।
>এই ছেলে ছেলে করিস না তো।পড়ায় মন দে।
-চলনা ওরে একটা ধন্যবাদ দিয়ে আসি।
>তুই ধন্যবাদ দিবি ক্যান?
-আমার দোস্তটাকে বসতে দিছিলো তাই।
>উফফ তুই কি আর ভালো হবি না?
-খারাপের কি করলাম আমি বল।
>এই সত্যি করে বলতো তোর কি হইছে?
-কি আবার হবে?তোকে হেল্প করছে তাই ধন্যবাদ দিতে চাইছি এর চেয়ে বেশি কিছু না।
>হেল্প করলো আমারে,,আর ধন্যবাদ না দেওয়াতো মাথা ব্যাথাটা হইছে ওর। এই মেয়ে যে কি আল্লাহই জানে।
-কিছু বললি?
>না ক্লাস শেষ হলে ধন্যবাদের সাথে তোকেও দিয়ে আসবো।এখন চুপ কর।
-বেশি বেশি বলছিস কিন্তু।
>আমি তো বেশিই বলি।এখন প্লিজ চুপ কর।
-হুম আচ্ছা।
আজকের মত ক্লাস শেষ করে বাসায় চলে আসলাম। .
পরদিন... .
কলেজের ক্যাম্পাসের এক কোনে বসে গল্প করছিলাম।হঠাৎ করে কোথা থেকে ছেলেটা এসে ধুম করে বসে পরলো।
>এটা কি হল?
-কোনটা?
>আপনি এখানে বসলেন কেনো?
-কাল যে আমার সিটে তোমায় বসতে দিলাম।
>তাই বলে আজ এখানে কিছু না বলেই বসতে হবে?
-না তা না, তোমার নামটা জানতে আসলাম।
>আমার নাম জেনে কি করবেন আপনি?
-এই তুমি এমন কেনো বলোতো?
>তা আপনাকে কেনো বলবো বলুন তো।
-তাহলে কাকে বলবেন শুনি?
>সে কইফিয়ত কি আপনাকে দিতে হবে?
-এই এমন করে কথা বলছিস কেন রাত্রি,উনি তোকে হেল্প করছে,একটা ধন্যবাদ তো দিলিনা আবার ঝগড়া করছিস(নওরিন)
>তোর মন চাইলে তুই দে আমি গেলাম।
.
-হাই আমি নওরিন,আর ও আমার পাগলি বন্ধু রাত্রি।
-হ্যা সে যে পাগলি সেটা তো আমি দেখতেই পাচ্ছি।
-ওর কথায় কিছু মনে করবেন না প্লিজ(নওরিন)
-না না পাগলির কথায় কেউ কিছু মনে করে নাকি?
-আপনার নামটা তো বললেন না।(নওরিন)
-আমি নিষাদ।
-ওহ আচ্ছা।রাত্রিকে হেল্প করার জন্য ধন্যবাদ।
-হুম,আচ্ছা চলি ভালো থাকবেন।আর আপনার ফ্রেন্ডকে বলবেন যাতে রাগটা একটু কমায়।
-আচ্ছা ঠিক আছে।
.
কথা বলা শেষ করে নওরিন এসে বললো।
-দেখছিস ছেলেটা কত ভালো আর ভদ্র,কথা বলার মাঝে কেমন একটা স্মার্টনেস ভাব আছে।দেখতেও কত কিউট।
>হ্যা কত কিউট ছেলেটা।
-হুম বুঝতে হবে।
>তুই বেশি করে বুঝ আর গলায় ঝুলে পর।
-না তোর সাথে কথা বলাটাই ঠিক না।
>যা ভাগ এখান থেকে।ওই ছেলের কাছে যা।
-হ্যা যাবোই তো।এখন বাসায় চল।
>না না বাসায় যাবো কেন।আগে তোকে ওই ছেলের কাছে রেখে আসি,তারপর যাবো।
-ওই ছেলে ওই ছেলে বলিস কেন?ওর নাম নিষাদ।।
>বাহ নামটাও জানা হয়ে গেছে দেখছি।
-হুম একই ক্লাসে পড়ি,নাম জানবো না? তাছাড়া আমাদের নাম ও বলে আসছি।
>তোকে কি বলছি নাম বলতে।
-আমি না বললেও তো জানতো তাই না।
>তা জানতো,কিন্তু তোর বলতে হবে কেন?
-ঝগড়া করিস না তো।খুব ক্ষুধা লাগছে।বাসায় চল,তোর জন্য তো বাইরে কোথাও খেতে পারবো না।আম্মুর রান্না ছাড়া তো আপনার খাওয়া হয় না।
>হুম সেটা ঠিক বলছিস।আম্মুর হাতের রান্না যেন অমৃত।
.
বাসায় এসে ফ্রেশ হয়ে আম্মুর হাতের ভুনা খিচুরি খেয়ে নিলাম দুজন তৃপ্তি করে।তারপর ছাদে গিয়ে গল্প করছিলাম।এমন সময় মোবাইল এর রিং টা বেজে উঠলো।চেয়ে দেখি অচেনা নাম্বার থেকে কল আসছে।তাই রিসিভ করলাম না। দু-তিনবার রিং হওয়ার পর রিসিভ করলাম।
.
>আস্সালামু আলাইকুম,কে বলছেন?
-আমি মানুষ(ওপাশ থেকে ছেলে কণ্ঠে ভেসে আসলো)
>গরু ছাগল যে নয় তা তো বুঝতেই পারছি।তা ফোন দিছেন কেনো?
-কথা বলার জন্য।
>কোনো কাজের কথা থাকলে যলদি বলেন,আমার এত ধৈর্য নাই কথা বলার।
-এই তুমি কি সবসময় এভাবেই কথা বলো?
>হ্যা এভাবেই কথা বলি। কোনো প্রবলেম?
-না কোনো প্রবলেম না।আমরা কি ফ্রেন্ড হতে পারি?
>স্যরি আমার কোনো ফ্রেন্ড লাগবে না বলে ফোনটা কেটে দিলাম।
.
এভাবেই দিন গুলো কাটতে লাগলো।একদিকে নওরিন সারাক্ষন নিষাদ নিষাদ করে পাগল করে দেয় আর একদিকে এই অচেনা নাম্বার থেকে একই সময়ে কল করে জ্বালায়।
.
নিষাদ আর নওরিন এর মাঝে অনেক ভালো বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে কিন্তু আমি নিষাদ কে তেমন পাত্তা দিতামনা বলে ও আমার সাথে ফ্রেন্ডশীপ করার আশাটা বাদ দিয়ে দিছে।কিন্তু নাম না জানা ছেলেটা বার বার রিকুয়েস্ট করেই যাচ্ছে বন্ধু হওয়ার জন্য।আজ ও তার ব্যতিক্রম হল না।বিকেল হতে না হতেই সেই নাম্বার থেকে কল আসলো।
.
>আস্সালামু আলাইকুম
-ওয়ালাইকুম আসসালাম।
>ফোন করেছেন কেন?
-প্রতিদিন যে কারনে ফোন করি,তোমার বন্ধু হবো তাই,(আপনি বাদ দিয়ে তুমি বলা শুরু করে দিছে)
>আচ্ছা আমি তো আপনাকে চিনি না,নামটাও জানিনা।কখনো দেখিওনি আপনাকে।কিভাবে বিশ্বাস করে বন্ধু করবো আপনাকে?
-নাম এ কি আসে যায়,আর আমি এতটা খারাপ নয় তা অবশ্য এতদিন কথা বলে বুঝতে পারছো।আগে বন্ধু হও তারপর অবশ্যই দেখা ও হবে আর নাম ও জানতে পারবা।
>হুম আচ্ছা ঠিক আছে।
-তাহলে আজ থেকে আমরা ফ্রেন্ড?
>হ্যা।
-এত্তগুলা ধন্যবাদ(খুব খুশি হয়ে বললো)
>হইছে হইছে আর ধন্যবাদ দিতে হবে না আপনার।বন্ধুত্বের মাঝে কোনো ধন্যবাদ, স্যরি এসব চলে না।
-আচ্ছা মহারানী।
>আর ঢং করতে হবে না। .
এই প্রথম কোনো ছেলের সাথে বন্ধুত্ব করলাম।নওরিন শুনেও খুব খুশি আমি ওর সাথে ফ্রেন্ডশীপ করাতে কেন খুশি তা অবশ্য অজানা।
.
-রাত্রি শোন তোকে একটা কথা বলার ছিল।
>হ্যাঁ বল আলুর বস্তা।
-উফফ আলুর বস্তা বলবি না কুমড়ি।
>আচ্ছা ঠিক আছে কি বলবেন বলেন আফা।
-এই মজা নিস না।সিরিয়াস কথা বলবো তোকে।
>আচ্ছা বলতে বলছি তো।
-আমি না নিষাদ এর প্রেমে পরেছি।
>এটা আমি আগেই বুঝছিলাম।ওকে বলছিস?নিষাদ কি জানে তুই ওর প্রেমে পরছিস?
-না রে আমি তো ওকে বলিনি।
>বলিস নি তো বলে দে।
-বলবো পরে।তোর খবর কি?কেমন চলছে প্রেম?
>দেখ ফাজলামো করবি না।আমরা যাস্ট ফ্রেন্ড।প্রেম টেম আমার পছন্দ নয় তুই তো জানিস।
-ওলে বাবা বাবুটা লেগে গেছে মনে হয়।
>ঢং করবি না নওরিন।
-আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে।কেমন চলছে বন্ধুত্ব?দেখা করবি না তোর একমাত্র বয়ফ্রেন্ড এর সাথে?
>বেশি বেশি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু।(রেগে গিয়ে বললাম)
-স্যরি স্যরি সিরিয়াসলি দেখা করবি না ওর সাথে?এখনো তো নামটাও যানিস না।মানুষ নাকি আত্মা কিছুই তো জানিস না।ফেইজবুক ও এড নেই ও।দেখা করাটা কিন্তু খুব জরুরী।
>কথাটা ভুল বলিস নি।
-আমি কি ভুল বলতে পারি বল।
>তুই কচু বলতে পারিস।
-তুই কখনো আমার বুদ্ধির একটু প্রশংসা
করলি না রাত্রি।
>আহালে,,আচ্ছা যা তোর গোবর মাথায় অনেক বুদ্ধি।আজ ফোন করলে বলবো দেখা করার কথা,আর তুই ও তোর নিষাদ কে জানিয়ে দিস তোর ভালোবাসার কথা।
-আচ্ছা ঠিক আছে।
.
বিকেল হতে না হতেই ফোনের রিংটা বেজে উঠলো।
প্রতিবারের মত সালাম দিয়ে কথা বলা শুরু করলাম।
>হ্যালো, বলদ কি অবস্থা?(নাম জানিনা তাই মজা করে ওকে বলদ ডাকি)
-এইতো ভালো মহারানী।তোমার কি খবর।
>হ্যাঁ ভালো,আমার তোমার সাথে একটা কথা বলার আছে।
-আমার একটা কথা বলার আছে তোমার সাথে।
>আচ্ছা বলো।
-আগে তুমি বলো।
>না আগে তুমি।
-লেডিস ফাস্ট,,তাই তুমি আগে বলবা।
>ওমমম আচ্ছা আমি বলতেছি,আমাদের ফ্রেন্ডসীপের তো প্রায় ছয়মাস হয়ে গেলো।তুমি তোমার নামটাও এখনো বলোনি।আর তুমি ভুত নাকি জ্বীন তাও আমি জানিনা।
-হুম ঠিকই তো।তুমি তো আমাকে দেখোইনি।
>হ্যা তাইতো বলছি চলো দেখা করি।
-হুমমম আচ্ছা।
>এবার তুমি বলো কি বলবা।
-এখন না যেদিন দেখা হবে সেদিনই বলবো।
>এটা কিন্তু চিটিং হচ্ছে।
-আরে না,স্পেশাল কথাটা স্পেশাল ভাবেই বলবো।
>তাই?আচ্ছা তো কবে দেখা হচ্ছে আমাদের?
-শুক্রবার দেখা করি।
>আচ্ছা আমার কোনো প্রবলেম নেই।
.
আমাদের বাসার পাশেই একটা পার্ক আছে সেই ঠিকানাটা দিয়ে দিলাম ওকে।যাক এতদিন পর দেখতে পাবো কার সাথে আমি বন্ধুত্ব করলাম।যদিও আমরা বন্ধু তবুও আমার মনে হয় আমি ওকে ভালোবেসে ফেলছি।ওর কথার ধরন থেকে মনে হয় ও আমায় ভালোবাসে।
.
যা-ই হোক নওরিনকে জানাতে হবে কথাটা ঘুমানোর সময় ওকে বললাম
>বলদের দেখা হচ্ছে শুক্রবারে।
-তাই?আমিও ঠিক করেছি শুক্রবার নিষাদকে বলে দিবো আমি ওকে ভালোবাসি।
>তাহলে তো ভালোই হয়।দুজন একসাথে যাওয়া যাবে।ওকে পার্কে আসতে বল।
-না রে।আমরা অন্য কোথাও দেখা করবো।নিষাদ এর একটা প্রিয় জায়গা আছে সেখানে।
>ওকে কি আর করা।
-হুম কপাল খারাপ,তোর বলদ কে দেখতে পাবোনা।
>তুই তোর নিষাদরে নিয়া থাক আর দূর হ।
-আচ্ছা,আমি ঘুমালাম।তোর তো আবার ঘুম হবে না আজ।
>চুপ কর আলুর বস্তা।
-ওকে গুড নাইট কুমড়ি।
.
দেখতে দেখতে শুক্রবার চলে আসলো।বিকেল তিনটায় দেখা করার কথা।আমি কালো রং এর একটা শাড়ী পরে বেরিয়ে পরলাম।ও বলেছে ওর কালো রঙটা খুব প্রিয় তাই ওর মন মতই কালো রঙের শাড়ী পরেছি।আর ও নীল রঙ এর শার্ট পরে আসবে বলছে কারন নীল রঙটা আমার খুব খুব বেশি পছন্দের। বাসার কাছে পার্ক তাই সময় মত সেখানে পৌঁছে গেলাম।
.
পার্কে নীল রঙ এর পোশাক পরা কোনো ছেলে দেখতে পাচ্ছি না।তাছাড়া যারা আছে সবাই জোড়াপাখি।মানে টা বুঝতে পারছেন আশা করি।প্রায় আধঘন্টা অপেক্ষা করার পর...
.
এ আমি কি দেখছি?মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পরলো আমার,নিষাদের মত কেউ একজন নীল শার্ট পরে আমার সামনে আসছে।তাহলে এতদিন কি আমি নিষাদের সাথে কথা বলেছি, ওকে ভালোবেসেছি আমি যাকে কিনা আমার আমার আত্মা মানে নওরিন ভালোবাসে।না এটা হতে পারেনা।ও হওতো নওরিন এর সাথেই দেখা করতে এসেছে।কিন্তু নওরিন তো বললো অন্যকোথাও দেখা করবে ওরা।কিছু না ভেবে ওর নাম্বারে কল দিলাম।নিষাদের ফোনটাই বেজে উঠলো আর নিষাদ আমার সামনে চলে আসছে।হাতে একটা গোলাপ আর একটা গিফ্টবক্স আমার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো
.
-রাত্রি আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি,,আই লাভ ইউ রাত্রি(হাসি হাসি মুখে বললো)
>আমি কিছু না বলে জোরে একটা চর দিলে বললাম,তুই কি মজা নিচ্ছিস আমাদের সাথে?তোদের মত ছেলেকে ভালোবাসা তো দূরের কথা তোদের মুখ দেখাও পাপ।
-তুমি ভুল বুঝতেছো আমায়।
>চুপ আর একটাও কথা না।চলে যা তুই আমার সামনে থেকে।তুই শুধু আমাকে না আমার বন্ধু নওরিনকে ও ঠকিয়েছিস।
-আমার কথাটা তো শুনবা।
>তোর কোনো কথাই শুনার ইচ্ছে নেই আমার,,বলে চলে আসছিলাম। পেছন দিকে তাকাতেই আরো বেশি অবাক হলাম।
.
নওরিন আর নিষাদ হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছে,সামনে তাকিয়েও দেখি নিষাদ। এসব কি হচ্ছে আমার সাথে?এসবের মানে কি কিছুই বুঝছি না।
.
-কিরে অবাক হচ্ছিস?(নওরিন হাসছে আর বলছে)
>এসব কি নওরিন?
-এখনো বুঝিস নি?গাধী নিষাদ আর রিফাদ জমজ ভাই।
-হ্যা রাত্রি আমি আর রিফাদ জমজ ভাই।তোমায় যে হেল্প করছিল সে রিফাদ ছিল।আর তোমার বন্ধুও রিফাদ আমি নই।
>কি বলছো তোমরা?আমাদের তো বলোনি তোমরা জমজ ভাই।
-হি হি হি গাধী আমি সবটা জানতাম।আর আজকের এই দিনটাও আমাদের প্লান ছিল।তোকে সারপ্রাইজ দিবো বলে জানাই নি।
>নওরিন তুই এটা করতে পারলি আমার সাথে?
-রাগ করিস না দোস্ত রিফাদ ভাইয়ার খুব লেগেছে একটু আদর করে দে।আমরা যাই বলে চলে গেলো নিষাদ আর নওরিন।
.
এদিকে তাকিয়ে দেখি রিফাদ গালে হাত দিয়ে এখনো দাঁড়িয়ে আছে।
>খুব লেগেছে তাই না?
-কই না তো।তবে তোমার হাতের খুব জোর।
>স্যরি বলদ।
-স্যরি বললে হবে না মহারানী।
>তাহলে কি করতে হবে বলো?
-একটু জড়িয়ে ধরলেই হবে।
>ধ্যাত কি বলো তুমি?
-লজ্জায় লাল হয়ে গেলে দেখছি।যাক রাগিনীর লজ্জাবতী মুখটাও দেখা হয়ে গেলো আজ।
>চুপ
-আচ্ছা লজ্জা পেতে হবে আর।বিয়ের পর জড়িয়ে ধরলেই হবে।আপাতত ভালোবাসি বললেই হবে।
>বলবো না।
-সেদিন ও কিন্তু ধন্যবাদ দাওনি।ভালোবেসে ফেলেছি বলে রাগ করিনি। কিন্তু আজ ভালোবাসো না বললে কিন্তু রাগ করবো।
>না না রাগ করোনা প্লিজ
-তাহলে বলো ভালোবাসো আমায়।আমার রাগিনীর মুখে ভালোবাসি শুনতে খুব ইচ্ছে করছে।
>ভালোবাসি, ভালোবাসি, ভালোবাসি।
-আমিও আমার রাগিনীকে খুব ভালোবাসি।
>কখনো ছেড়ে যাবেনা তো আমায়।
-এই তোমার হাত ধরে কথা দিলাম কখনো যাবোনা ছেড়ে তোমায়।
.
এভাবে শুরু হল আমাদের নতুন করে পথচলা।সবাই দোয়া করবেন আমাদের জন্য।শুধু আমাদের জন্যই নয় নওরিন আর নিষাদ এর জন্য ও দোয়া করবেন।
.
বিঃদ্র:গল্পটা কাল্পনিক,, কোনে ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে ক্ষমার চোখে দেখবেন।
আর কষ্ট করে পুরোটা পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

Post a Comment

Previous Post Next Post