বসে বসে ড্রয়িং করতেছি।
ম্যাডাম অফসেট পেপারে একটা বাসা বাড়ির কারেন্টের ওয়ারিং ডিজাইন আকতে দিয়া পাশের ক্লাশে বসে ফেসবুক ঘুতাইতেছে।
আর ক্লাশের পোলাপাইন গুলা পার্টি করতেছে।
পাশেই শহীদ ক্যাডেটের লেডিস হোস্টেল।
হোস্টেলের ছয় তলার মেয়েগুলান দেখতেছি একেকজনে একেক রকম পোজ দিতাছে।ভাবলাম হয়তো ফ্যাশন শো করতেছে।
আমরা আবার দর্শক হয়ে বসে গেলাম মাগনা ফ্যাশন শো দেখতে। আমরা সিরিয়াল বেধে জানালার পাশে দাড়িয়ে দেখতেছি আর হাসতেছি।
হঠাৎ অপু একটা চিৎকার দিয়ে কমেন্ট করলো।
-- হেই বেবী নাইস পোজ।এগেইন প্লিজ।(অপু)
[বেবি কইছে শুইনা আমি ওদের মাঝে পিচ্চি খুজতাছি।কিন্তু আপসুস খুজে পেলাম না]
মেয়েগুলা তাকিয়ে দেখে দর্শকের প্রচুর ভিড়।তাদের ফ্যাশন শো দেখার জন্য।
তারপর ওরা ফ্যাশন শো ওখানেই অফ করে দিল।
আমরা হতাশ হয়ে যার যার জায়গায় বসলাম।
কিন্তু অপু ডাকাডাকি করেই যাচ্ছে।
হঠাৎ পিছন থেকে ম্যাডাম এসে বললো...
-- কি বাবা।ক্লাশ কি এখানে হচ্ছে নাকি লেডিস হোস্টেলে হচ্ছে??/(ম্যাডাম)
বলে কান ধরে দাগ করিয়ে রাখলো।
কলেজ লাইফেও কানধরা লাগতেছে কি লজ্জা।
হালায় কান ধরেও লেডিস হোস্টেলের দিকে তাকাইয়া আছে।
ভাবতাছি ওরে এবার লুচ্চামিতে নোবেল দিমু।
ক্লাশটা কোনোরকম শেষ হয়ে গেল।
বের হয়ে আমি হেমায়েত আর তরিকুল একটা রেস্টুরেন্টে ঢুকলাম।
খেয়াল করলাম পাশের দুইটা টেবিল পর একটা টেবিলে অপু বসে আছে। ওর পাশের টেবিলের একটা মেয়ের দিকে হা করে তাকিয়ে আছে।
আমি হেমায়েত কে বললাম...
-- দোস্তো, অপুর শো তো শুরু হয়ে গেছে!!(আমি)
-- ও হালায় তো সারাজীবন ছ্যাচড়ামি ই কইরা গেল।প্রেম আর করতে পারলো না।(হেমায়েত)
-- শাওন!!দোস্তো একটা গান লাগা।(তরিকুল)
-- কি গান গামু??(আমি)
-- যেকোন একটা গান।যেটা অপুর অবস্থার সাথে যায় আরকি।(তরিকুল)
-- মেয়ে, পরেনা চোখের পলক।
কি তোমার ময়দার ঝলক।
দোহাই লাগে....
ময়দা গুলো...
ওয়াশরুমে ধুয়ে আসো......
নইলে অপু জ্ঞান হারাইবো,
মইরা যাইবো,
বাচাইতে পারবেনাতো।(আমি)
-- হাহাহা ওওও মামা সেই লেভেলের গান।(হেমায়েত)
আমরা হাসতেছি।
হঠাৎ দেখলাম অপু মেয়েটার বিল পে করে আবার জায়গায় এসে চুপচাপ বসে আছে।
মেয়েটা বিল পে করতে গিয়ে শুনলো ওর বিল অন্য কেউ দিয়ে দিছে।
কে দিছে জিজ্ঞেস করতেই ওয়েটার অপুকে দেখাই দিল।
তারপর মেয়েটা অপুর কাছে গিয়ে বললো...
-- হ্যালো,(মেয়েটা)
--হাই(অপু) ভাব নিয়ে।
-- আপনি আমার বিল পে করছেন কেন??
-- কেন আমি কি আপনার বিল পে করতে পারিনা??
-- না।আপনি কেন আমার বিল পে করবেন।আপনি আমাকে চিনেন না জানেন না।
-- তাতে কি।চিনতে জানতে আর কতক্ষণ।
-- তা কয়টাকা বিল দিছেন??
-- ৩৮০ টাকা।
-- এই নেন।
-- এবার কিন্তু আমাকে লজ্জা দিচ্ছেন।
-- বারে আপনার টাকা আপনাকে ফিরিয়ে দিচ্ছি।এতে লজ্জার কি আছে??
-- আমিতো টাকা চাইনা।
-- তাহলে??
-- বন্ধুত্ব করতে চাই।
-- মানে??
-- হ্যা।করবেন??
মেয়েটা কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার বললো...
-- আচ্ছা কালকে বারোটা কি সাড়ে বারোটার দিকে এই রেস্টুরেন্টেই দেখা কইরেন।কেমন??
এখন আসি!!(মেয়ে)
অপু গ্রিন সিগনাল মনে করে খুশিতে দেখি নাচতে চাইতেছে।শুধু পাবলিক প্লেস বলে খুশিটা প্রকাশ করতে পারতেছে না।
আর আমরা বলদের মত হা করে এতক্ষন ধরে অপুর কাহিনী দেখলাম।
এইটা কি হইলো,কিছুই মাথায় ঢুকতাছে না।।
কি যুগ আইলো।
৩৮০ টাকায় বন্ধুত্ব..!!ভাবা যায়??
-- শাওন...(হেমায়েত)
-- হু...(আমি)এখনো ঘোরের মধ্যে আছি।
-- আমারে একটা চিমটি দে তো দোস্তো।
-- হু....
তরিকুল আ আ করে চিৎকার করে উঠলো।
তাকিয়ে দেখি হেমায়েত কে রাইখা তরিকুলকে চিমটি কাটতেছি।
চিন্তা করতেছি অপু হালায় কি ঘোরেই না ফালাইলো।
খেয়াল করলাম এতক্ষনে অপু বুক ফুলিয়ে সগর্বে রেষ্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে যাচ্ছে।
পরদিন আমরা নেক্সট শো মিস না করতে বারোটার আগে থেকে রেস্টুরেন্টে বসে আছি।
--শাওন!!(তরিকুল)
-- কি??(আমি)
-- দোস্তো ৩৮০ টাকায় কত কিছুই না হয়!!! তাই না??!(তরিকুল)
আমি কিছু না বলে শুধু নিরবে মাথা নারলাম!!
-- নেক্সট কি ঘটবে জানিস??(তরিকুল)
-- কি??(আমি)
--প্রথমে বন্ধুত্ব,তারপর নাম্বার আদান প্রদান,তারপর দুদিন একসাথে ঘোরাঘুরি,তারপর প্রপোজ,তারপর দুইদিন ঘুরাইয়া একসেপ্ট।
কি সুন্দর ৩৮০ টাকায় প্রেম হয়ে গেল!! আহা কি যুগ!!!(তরিকুল)
-- হুম রে।(আমি)
-- দোস্তঁ ওই দেখ আমাদের হিরো মিস্টার অপু খান ওরফে পলিথিনের ঠোঙ্গা কি গেট-আপ নিয়া আইছে।(হেমায়েত)
-- এইটা কে রে!! অপু?? এরে তো আমার আপু ডাকতে মন চাইতেছে!!(আমি)
আমরা এক কোনায় বসে চুপিচুপি দেখতেছি।কি হয় আজ।
মিনিট বিশেক পর মেয়েটা আসলো।এসে অপুর সাথে এক টেবিলে বসলো।
কথা বার্তা বলতেছে।কিছুক্ষন পর মেয়েটা কাকে যেন একটা ফোন করলো।
ফোন করতেই দেখলাম এক ইয়া বড় মাসেলের অধিকারি এক পোলা আসলো।মাসেল দেইখা মনে হইতাছে সম্ভবতো হারবাল খাইয়া বানাইছে।
যাইহোক সোজা আইসা অপুর কলার ধইরা কিছু গরম ভাষায় নরম জ্ঞানের দাওয়া দিল। সাথে হালকা পাতলা কিছু ম্যাসাজ+মালিশ।
অতঃপর অপুকে দুইদিন বাসায় শরীর ব্যাথার জন্য শুয়ে থাকতে হয়েছিল।
অবশেষে আমাদের ধারনাটা ভুল প্রমানিত হলো।৩৮০ টাকায় সবকিছু পাওয়া যায় না।😃😃।
তো বাচ্চারা কি শিখলে??
--তোমরা কখনো মেয়েদের সাথে লাইন মারার আগে ভালকরে খোজ নিয়ে দেইখো।
তারা সিঙ্গেল আছে কিনা।যদি তাদের হারবাল সেবন করা বয়ফ্রেন্ড থেকে থাকে, তাহলে অবস্থাটা অপুর মতই হবে হয়তো।
সো বাচ্চারা সাবধান😁😁😃😃😃
ম্যাডাম অফসেট পেপারে একটা বাসা বাড়ির কারেন্টের ওয়ারিং ডিজাইন আকতে দিয়া পাশের ক্লাশে বসে ফেসবুক ঘুতাইতেছে।
আর ক্লাশের পোলাপাইন গুলা পার্টি করতেছে।
পাশেই শহীদ ক্যাডেটের লেডিস হোস্টেল।
হোস্টেলের ছয় তলার মেয়েগুলান দেখতেছি একেকজনে একেক রকম পোজ দিতাছে।ভাবলাম হয়তো ফ্যাশন শো করতেছে।
আমরা আবার দর্শক হয়ে বসে গেলাম মাগনা ফ্যাশন শো দেখতে। আমরা সিরিয়াল বেধে জানালার পাশে দাড়িয়ে দেখতেছি আর হাসতেছি।
হঠাৎ অপু একটা চিৎকার দিয়ে কমেন্ট করলো।
-- হেই বেবী নাইস পোজ।এগেইন প্লিজ।(অপু)
[বেবি কইছে শুইনা আমি ওদের মাঝে পিচ্চি খুজতাছি।কিন্তু আপসুস খুজে পেলাম না]
মেয়েগুলা তাকিয়ে দেখে দর্শকের প্রচুর ভিড়।তাদের ফ্যাশন শো দেখার জন্য।
তারপর ওরা ফ্যাশন শো ওখানেই অফ করে দিল।
আমরা হতাশ হয়ে যার যার জায়গায় বসলাম।
কিন্তু অপু ডাকাডাকি করেই যাচ্ছে।
হঠাৎ পিছন থেকে ম্যাডাম এসে বললো...
-- কি বাবা।ক্লাশ কি এখানে হচ্ছে নাকি লেডিস হোস্টেলে হচ্ছে??/(ম্যাডাম)
বলে কান ধরে দাগ করিয়ে রাখলো।
কলেজ লাইফেও কানধরা লাগতেছে কি লজ্জা।
হালায় কান ধরেও লেডিস হোস্টেলের দিকে তাকাইয়া আছে।
ভাবতাছি ওরে এবার লুচ্চামিতে নোবেল দিমু।
ক্লাশটা কোনোরকম শেষ হয়ে গেল।
বের হয়ে আমি হেমায়েত আর তরিকুল একটা রেস্টুরেন্টে ঢুকলাম।
খেয়াল করলাম পাশের দুইটা টেবিল পর একটা টেবিলে অপু বসে আছে। ওর পাশের টেবিলের একটা মেয়ের দিকে হা করে তাকিয়ে আছে।
আমি হেমায়েত কে বললাম...
-- দোস্তো, অপুর শো তো শুরু হয়ে গেছে!!(আমি)
-- ও হালায় তো সারাজীবন ছ্যাচড়ামি ই কইরা গেল।প্রেম আর করতে পারলো না।(হেমায়েত)
-- শাওন!!দোস্তো একটা গান লাগা।(তরিকুল)
-- কি গান গামু??(আমি)
-- যেকোন একটা গান।যেটা অপুর অবস্থার সাথে যায় আরকি।(তরিকুল)
-- মেয়ে, পরেনা চোখের পলক।
কি তোমার ময়দার ঝলক।
দোহাই লাগে....
ময়দা গুলো...
ওয়াশরুমে ধুয়ে আসো......
নইলে অপু জ্ঞান হারাইবো,
মইরা যাইবো,
বাচাইতে পারবেনাতো।(আমি)
-- হাহাহা ওওও মামা সেই লেভেলের গান।(হেমায়েত)
আমরা হাসতেছি।
হঠাৎ দেখলাম অপু মেয়েটার বিল পে করে আবার জায়গায় এসে চুপচাপ বসে আছে।
মেয়েটা বিল পে করতে গিয়ে শুনলো ওর বিল অন্য কেউ দিয়ে দিছে।
কে দিছে জিজ্ঞেস করতেই ওয়েটার অপুকে দেখাই দিল।
তারপর মেয়েটা অপুর কাছে গিয়ে বললো...
-- হ্যালো,(মেয়েটা)
--হাই(অপু) ভাব নিয়ে।
-- আপনি আমার বিল পে করছেন কেন??
-- কেন আমি কি আপনার বিল পে করতে পারিনা??
-- না।আপনি কেন আমার বিল পে করবেন।আপনি আমাকে চিনেন না জানেন না।
-- তাতে কি।চিনতে জানতে আর কতক্ষণ।
-- তা কয়টাকা বিল দিছেন??
-- ৩৮০ টাকা।
-- এই নেন।
-- এবার কিন্তু আমাকে লজ্জা দিচ্ছেন।
-- বারে আপনার টাকা আপনাকে ফিরিয়ে দিচ্ছি।এতে লজ্জার কি আছে??
-- আমিতো টাকা চাইনা।
-- তাহলে??
-- বন্ধুত্ব করতে চাই।
-- মানে??
-- হ্যা।করবেন??
মেয়েটা কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার বললো...
-- আচ্ছা কালকে বারোটা কি সাড়ে বারোটার দিকে এই রেস্টুরেন্টেই দেখা কইরেন।কেমন??
এখন আসি!!(মেয়ে)
অপু গ্রিন সিগনাল মনে করে খুশিতে দেখি নাচতে চাইতেছে।শুধু পাবলিক প্লেস বলে খুশিটা প্রকাশ করতে পারতেছে না।
আর আমরা বলদের মত হা করে এতক্ষন ধরে অপুর কাহিনী দেখলাম।
এইটা কি হইলো,কিছুই মাথায় ঢুকতাছে না।।
কি যুগ আইলো।
৩৮০ টাকায় বন্ধুত্ব..!!ভাবা যায়??
-- শাওন...(হেমায়েত)
-- হু...(আমি)এখনো ঘোরের মধ্যে আছি।
-- আমারে একটা চিমটি দে তো দোস্তো।
-- হু....
তরিকুল আ আ করে চিৎকার করে উঠলো।
তাকিয়ে দেখি হেমায়েত কে রাইখা তরিকুলকে চিমটি কাটতেছি।
চিন্তা করতেছি অপু হালায় কি ঘোরেই না ফালাইলো।
খেয়াল করলাম এতক্ষনে অপু বুক ফুলিয়ে সগর্বে রেষ্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে যাচ্ছে।
পরদিন আমরা নেক্সট শো মিস না করতে বারোটার আগে থেকে রেস্টুরেন্টে বসে আছি।
--শাওন!!(তরিকুল)
-- কি??(আমি)
-- দোস্তো ৩৮০ টাকায় কত কিছুই না হয়!!! তাই না??!(তরিকুল)
আমি কিছু না বলে শুধু নিরবে মাথা নারলাম!!
-- নেক্সট কি ঘটবে জানিস??(তরিকুল)
-- কি??(আমি)
--প্রথমে বন্ধুত্ব,তারপর নাম্বার আদান প্রদান,তারপর দুদিন একসাথে ঘোরাঘুরি,তারপর প্রপোজ,তারপর দুইদিন ঘুরাইয়া একসেপ্ট।
কি সুন্দর ৩৮০ টাকায় প্রেম হয়ে গেল!! আহা কি যুগ!!!(তরিকুল)
-- হুম রে।(আমি)
-- দোস্তঁ ওই দেখ আমাদের হিরো মিস্টার অপু খান ওরফে পলিথিনের ঠোঙ্গা কি গেট-আপ নিয়া আইছে।(হেমায়েত)
-- এইটা কে রে!! অপু?? এরে তো আমার আপু ডাকতে মন চাইতেছে!!(আমি)
আমরা এক কোনায় বসে চুপিচুপি দেখতেছি।কি হয় আজ।
মিনিট বিশেক পর মেয়েটা আসলো।এসে অপুর সাথে এক টেবিলে বসলো।
কথা বার্তা বলতেছে।কিছুক্ষন পর মেয়েটা কাকে যেন একটা ফোন করলো।
ফোন করতেই দেখলাম এক ইয়া বড় মাসেলের অধিকারি এক পোলা আসলো।মাসেল দেইখা মনে হইতাছে সম্ভবতো হারবাল খাইয়া বানাইছে।
যাইহোক সোজা আইসা অপুর কলার ধইরা কিছু গরম ভাষায় নরম জ্ঞানের দাওয়া দিল। সাথে হালকা পাতলা কিছু ম্যাসাজ+মালিশ।
অতঃপর অপুকে দুইদিন বাসায় শরীর ব্যাথার জন্য শুয়ে থাকতে হয়েছিল।
অবশেষে আমাদের ধারনাটা ভুল প্রমানিত হলো।৩৮০ টাকায় সবকিছু পাওয়া যায় না।😃😃।
তো বাচ্চারা কি শিখলে??
--তোমরা কখনো মেয়েদের সাথে লাইন মারার আগে ভালকরে খোজ নিয়ে দেইখো।
তারা সিঙ্গেল আছে কিনা।যদি তাদের হারবাল সেবন করা বয়ফ্রেন্ড থেকে থাকে, তাহলে অবস্থাটা অপুর মতই হবে হয়তো।
সো বাচ্চারা সাবধান😁😁😃😃😃
إرسال تعليق