দু মাস হলো নীলা প্রেগনেন্ট!
প্রেগনেন্ট হওয়ার পর থেকে আমি নীলার খোঁজ খবর তেমন একটা রাখি না!
এই প্রেগনেন্সির খবরটা আমাকে ভীষন ভাবে বিষন্ন করেছে!
গতকাল পর্যন্ত যে মেয়েটাকে আমি ভালোবাসতাম, আজ থেকে তাকে অসহ্য লাগছে!
আমার খুব মনে পরে,
একটা সময় আমরা যখন বাইরে ঘুরতে বের হতাম, ঘন্টার পর ঘন্টা একজন অন্যজনের হাতের আঙুলের ফাঁকে আঙ্গুল রেখে কাটিয়ে দিতাম!
যতক্ষন নীলার পাশে বসে থাকতাম, ততোক্ষন মুগ্ধ হতে থাকতাম!
নীলার গাল, চোখের কাজল, কপালের টিপ, নীল রংয়ের শাড়ি সব মিলিয়ে মাঝে মাঝে নীলাকে অপ্সরীর মতো দেখাতো!
নীলা খুব বেশি শীত সহ্য করতে পারে না, আবার খুব বেশি গরম ও সহ্য করতে পারে না!
আমার প্রচন্ড দুঃশ্চিন্তা হতো এই ভেবে যে,
মানুষ এত'টা ব্রয়লার মুরগীর মতো হয় কি করে!
চশমা ছাড়া নীলা সবকিছুকে ঝাপসা দেখে! সবসময় তার চোখে একটা কালো ফ্রেমের চশমা থাকে!
চশমাতে নীলাকে কি যে সুন্দর লাগতো!
শুধু চুমু খাওয়ার সময় ওর চশমাটার সাথে আমার নাক লেগে যায়!
যখন নীলা টের পেল, তার চশমাটা মাঝে মাঝে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়, এরপর চুমু খেতে গেলে ও আগেই চশমাটা খুলে রাখে!
এসব ভাবলেই কেমন নস্টালজিক হয়ে যাই!
একটা সময় আমরা একজন অন্যজনকে ছাড়া বাকি জীবনটা কল্পনাই করতে পারতাম না!
আমরা আমাদের ভবিষ্যত জীবন সাজিয়ে ফেলেছিলাম সেই মুগ্ধতাকালীন সময়েই!
এমনকি আমরা নাম ঠিক করে রেখেছিলাম আমাদের অনাগত সন্তানের!
অথচ কি আশ্চর্য়,
নীলার প্রেগনেন্ট হওয়ার খবর শুনে আমি একটুও খুশি না!
নীলার সন্তান পৃথিবীতে আসছে! আর অল্প ক'টা মাস পর ও গুটিগুটি পায়ে হামাগুড়ি দিয়ে ঘর মাতাবে!
এই বাচ্চাটা তার বাবার কাঁধে উঠে চুল টেনে ধরবে!
এসব ভেবে আমার আনন্দিত হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি!
বরং আমার সবকিছু অসহ্য হয়ে উঠেছে!
এই সন্তানটা আমার হওয়ার কথা ছিল, অথচ তার বাবা আমি না!
নীলার সাথে আমার হ্যাপি এন্ডিং হয়নি, হয়েছিল বিচ্ছেদ!
নীলার পরিচিত ঘ্রাণ সারাজীবন নেওয়ার অধিকার পেয়েছে কর্পোরেটে সাকসেসফুল স্বামী!
এই অনাগত সন্তানটা নীলা এবং তার স্বামীর! এ সন্তানের প্রতি আমার কোন টান নেই, মায়া নেই, ভালোবাসা নেই!
এরপর ৫ বছর কেটে গ্যাছে প্রায়! নীলার সাথে আমার আর কোন যোগাযোগ হয়নি!
নীলার স্মৃতিরা প্রায় আবছা হয়ে এসেছে!
নিজেকে গুছিয়ে নিয়েছি অনেকটাই! কারো জন্যই এখন আর তেমন খারাপ লাগা তৈরী হয়না!
রাতে ঠিকঠাক ঘুম হয় আজকাল!
মাঝে মাঝে নীলাকে খুব মনে পরে! এই যেমন কোন পরিচিত রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময়!
অথবা কোন রেস্তোরাতে, যেখানে আমাদের দু একটা স্মৃতি ছিল!
এসব ভাবতে ভাবতেই নীলার প্রতি আমার একটা ঘৃণা জন্মে যায়!
ঘৃণা জন্মায়, তার সন্তানের কথা মনে হলে! স্বামী সন্তান নিয়ে কত'টা আনন্দেই না আছে!
সন্তানের প্রতি আমার রাগ নেই, আমার ক্ষোভ হয় তার শরীরের অধিকার নিয়ে!
আমি কোন পবিত্র প্রেমিক ছিলাম না কখনো! অত'টা পবিত্র আসলে হওয়া যায়না!
শুধু হৃদপিন্ড ভালোবেসে মাটি কামড়ে পরে থাকা কোন প্রেমিক পৃথিবীতে নেই!
এরকম প্রেমিক যে দু একটা দেখা যায়, তারা ভন্ড!
শুধু মন ভালোবাসা পুরুষের পক্ষে সম্ভব নয়! পুরুষ মানুষ একই সাথে প্রেমিকার মন এবং শরীর দুটোকেই ভালোবাসে!
মনের অধিকার যেমন ভাগ করা যায়না, তেমনি শরীরের অধিকারও ভাগ করা যায়না!
আমার অভিযোগের পৃষ্ঠায় সর্বপ্রথম যেটা আছে, তা হলো আমি ছাড়া নীলা অন্য কাউকে তার শরীরের অধিকার দিয়েছে!
প্রথম প্রথম মনে হতো, বিয়ের পরও বোধয় নীলা তার স্বামীকে মেনে নিতে পারেনি!
নাহ, ওদের মধ্যে কোন শারীরিক সম্পর্ক হয়না!
ভালোবাসার মানুষ নগ্ন হয়ে অন্য একটা নগ্ন শরীরের উপর শুয়ে আছে, এটা ভাবা যায়না!
এটা ভীষন রকমের অসহ্য লাগে!
তবে, নীলার প্রেগনেন্ট হওয়ার সংবাদটা আমার ধারনা বদলে দিয়েছে!
আমি কিছুতেই এটা মেনে নিতে পারছিলাম না! আমার নীলার গর্ভে অন্য কারো সন্তান, এই চিন্তাটা ভীষন কষ্টের!
সেদিন বিকেলে বসুন্ধরা সিটির একটা ক্যাফেতে বসে আছি! একটা ৫ বছরের বাচ্চা মেয়ে গুটিগুটি পায়ে হেটে বেরাচ্ছে!
তার হাতে একটা খেলার বল!
বলটা তার হাত থেকে গড়িয়ে আমার পায়ের কাছে চলে এসেছে!
বাচ্চাটা আমার সামনে এসে বলটা কুড়িয়ে নিলো!
আমি বাচ্চাটাকে বললাম,
- মামুনি, নাম কি তোমার?
- আমার নাম রূপরেখা, আঙ্কেল!
- বাহ খুব সুন্দর নাম তো!
- হুম, আমার মা মারা যাওয়ার আগেই আমার এই নামটা ঠিক করে রেখেছিলো!
- তোমার মা কিভাবে মারা গ্যাছে?
- আমার জন্মের সময়ই নাকি মারা গ্যাছে!
- মা কে দেখতে ইচ্ছে হয়না?
- হ্যা, হয়তো! খুব ইচ্ছে হয়!
- তোমার সাথে কে এসেছে, মা?
- আমার বাবা এসেছে!
- ও আচ্ছা!
আমার বুকের ভেতরটা অস্থির হয়ে উঠছে! কি ফুটফুটে একটা বাচ্চা মেয়ে!
দেখলেই মায়া লেগে যায়! মেয়েটাকে কেন যেন আমার নিজের মেয়ে মনে হচ্ছে!
আমি রুপরেখাকে কোলে নিয়ে বসে আছি! আমার ভীষন নীলার কথা মনে পরে যাচ্ছে!
নীলা আর আমি সম্পর্কে থাকাকালীন আমাদের অনাগত সন্তানের নাম ঠিক করে রেখেছিলাম "রূপরেখা"!
এই বাচ্চাটাকে দেখে, নীলাকে ভীষন মিস করছি! নীলা আমার জীবনে থেকে গেলে বোধয় এরকম একটা বাচ্চা আমাদেরও থাকতো!
এতদিন নীলার প্রতি আমার যে ক্ষোভ ছিল, ওটা হারিয়ে যাচ্ছে!
একটা কালো টিপ, কালো ফ্রেমের চশমা আর নীল শাড়ি পরা সেই নীলার মুখটা চোখের সামনে ভেসে উঠছে!
রূপরেখার বাবা চলে এসেছে!
তার বাবা এসে আমার কোল থেকে তার মেয়েটাকে নিয়ে গ্যালো!
দু মিনিট কথা হলো তার সাথে! তার ফেসবুক আইডির নামটা আমাকে দিয়ে বললো, ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট দিয়েন! মাঝে মাঝে রূপরেখার ছবি এটাতে আপলোড করি!
তারা বাবা-মেয়ে হাত ধরে চলে যাচ্ছে!
আমার বুকটা ফাঁকা ফাঁকা লাগছিলো!
মাথার উপর একটা আস্ত আকাশ যেন দুমড়ে মুচড়ে ভেঙ্গে পরছে!
পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে! বুকের ভেতর ডিবডিব শব্দটা দ্রুততর হচ্ছে!
মেরুদন্ডের শিরা বেয়ে শিতল একটা ঘামের স্রোত নিচে নেমে আসছে!
রুপরেখা, দূরে চলে যাচ্ছে!
আমি ফোনটা হাতে নিয়ে তার নামটা ফেসবুকে সার্চ দিলাম!
আইডিটাও পেলাম! আইডির কভার ফটোতে রূপরেখার বাবার একটা সুন্দর ছবি!
ছবিতে শুধু তার বাবা একা না, তার বাবার কাঁধে মাথা রেখে হেলান দিয়ে আছে নীলা!
প্রেগনেন্ট হওয়ার পর থেকে আমি নীলার খোঁজ খবর তেমন একটা রাখি না!
এই প্রেগনেন্সির খবরটা আমাকে ভীষন ভাবে বিষন্ন করেছে!
গতকাল পর্যন্ত যে মেয়েটাকে আমি ভালোবাসতাম, আজ থেকে তাকে অসহ্য লাগছে!
আমার খুব মনে পরে,
একটা সময় আমরা যখন বাইরে ঘুরতে বের হতাম, ঘন্টার পর ঘন্টা একজন অন্যজনের হাতের আঙুলের ফাঁকে আঙ্গুল রেখে কাটিয়ে দিতাম!
যতক্ষন নীলার পাশে বসে থাকতাম, ততোক্ষন মুগ্ধ হতে থাকতাম!
নীলার গাল, চোখের কাজল, কপালের টিপ, নীল রংয়ের শাড়ি সব মিলিয়ে মাঝে মাঝে নীলাকে অপ্সরীর মতো দেখাতো!
নীলা খুব বেশি শীত সহ্য করতে পারে না, আবার খুব বেশি গরম ও সহ্য করতে পারে না!
আমার প্রচন্ড দুঃশ্চিন্তা হতো এই ভেবে যে,
মানুষ এত'টা ব্রয়লার মুরগীর মতো হয় কি করে!
চশমা ছাড়া নীলা সবকিছুকে ঝাপসা দেখে! সবসময় তার চোখে একটা কালো ফ্রেমের চশমা থাকে!
চশমাতে নীলাকে কি যে সুন্দর লাগতো!
শুধু চুমু খাওয়ার সময় ওর চশমাটার সাথে আমার নাক লেগে যায়!
যখন নীলা টের পেল, তার চশমাটা মাঝে মাঝে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়, এরপর চুমু খেতে গেলে ও আগেই চশমাটা খুলে রাখে!
এসব ভাবলেই কেমন নস্টালজিক হয়ে যাই!
একটা সময় আমরা একজন অন্যজনকে ছাড়া বাকি জীবনটা কল্পনাই করতে পারতাম না!
আমরা আমাদের ভবিষ্যত জীবন সাজিয়ে ফেলেছিলাম সেই মুগ্ধতাকালীন সময়েই!
এমনকি আমরা নাম ঠিক করে রেখেছিলাম আমাদের অনাগত সন্তানের!
অথচ কি আশ্চর্য়,
নীলার প্রেগনেন্ট হওয়ার খবর শুনে আমি একটুও খুশি না!
নীলার সন্তান পৃথিবীতে আসছে! আর অল্প ক'টা মাস পর ও গুটিগুটি পায়ে হামাগুড়ি দিয়ে ঘর মাতাবে!
এই বাচ্চাটা তার বাবার কাঁধে উঠে চুল টেনে ধরবে!
এসব ভেবে আমার আনন্দিত হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি!
বরং আমার সবকিছু অসহ্য হয়ে উঠেছে!
এই সন্তানটা আমার হওয়ার কথা ছিল, অথচ তার বাবা আমি না!
নীলার সাথে আমার হ্যাপি এন্ডিং হয়নি, হয়েছিল বিচ্ছেদ!
নীলার পরিচিত ঘ্রাণ সারাজীবন নেওয়ার অধিকার পেয়েছে কর্পোরেটে সাকসেসফুল স্বামী!
এই অনাগত সন্তানটা নীলা এবং তার স্বামীর! এ সন্তানের প্রতি আমার কোন টান নেই, মায়া নেই, ভালোবাসা নেই!
এরপর ৫ বছর কেটে গ্যাছে প্রায়! নীলার সাথে আমার আর কোন যোগাযোগ হয়নি!
নীলার স্মৃতিরা প্রায় আবছা হয়ে এসেছে!
নিজেকে গুছিয়ে নিয়েছি অনেকটাই! কারো জন্যই এখন আর তেমন খারাপ লাগা তৈরী হয়না!
রাতে ঠিকঠাক ঘুম হয় আজকাল!
মাঝে মাঝে নীলাকে খুব মনে পরে! এই যেমন কোন পরিচিত রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময়!
অথবা কোন রেস্তোরাতে, যেখানে আমাদের দু একটা স্মৃতি ছিল!
এসব ভাবতে ভাবতেই নীলার প্রতি আমার একটা ঘৃণা জন্মে যায়!
ঘৃণা জন্মায়, তার সন্তানের কথা মনে হলে! স্বামী সন্তান নিয়ে কত'টা আনন্দেই না আছে!
সন্তানের প্রতি আমার রাগ নেই, আমার ক্ষোভ হয় তার শরীরের অধিকার নিয়ে!
আমি কোন পবিত্র প্রেমিক ছিলাম না কখনো! অত'টা পবিত্র আসলে হওয়া যায়না!
শুধু হৃদপিন্ড ভালোবেসে মাটি কামড়ে পরে থাকা কোন প্রেমিক পৃথিবীতে নেই!
এরকম প্রেমিক যে দু একটা দেখা যায়, তারা ভন্ড!
শুধু মন ভালোবাসা পুরুষের পক্ষে সম্ভব নয়! পুরুষ মানুষ একই সাথে প্রেমিকার মন এবং শরীর দুটোকেই ভালোবাসে!
মনের অধিকার যেমন ভাগ করা যায়না, তেমনি শরীরের অধিকারও ভাগ করা যায়না!
আমার অভিযোগের পৃষ্ঠায় সর্বপ্রথম যেটা আছে, তা হলো আমি ছাড়া নীলা অন্য কাউকে তার শরীরের অধিকার দিয়েছে!
প্রথম প্রথম মনে হতো, বিয়ের পরও বোধয় নীলা তার স্বামীকে মেনে নিতে পারেনি!
নাহ, ওদের মধ্যে কোন শারীরিক সম্পর্ক হয়না!
ভালোবাসার মানুষ নগ্ন হয়ে অন্য একটা নগ্ন শরীরের উপর শুয়ে আছে, এটা ভাবা যায়না!
এটা ভীষন রকমের অসহ্য লাগে!
তবে, নীলার প্রেগনেন্ট হওয়ার সংবাদটা আমার ধারনা বদলে দিয়েছে!
আমি কিছুতেই এটা মেনে নিতে পারছিলাম না! আমার নীলার গর্ভে অন্য কারো সন্তান, এই চিন্তাটা ভীষন কষ্টের!
সেদিন বিকেলে বসুন্ধরা সিটির একটা ক্যাফেতে বসে আছি! একটা ৫ বছরের বাচ্চা মেয়ে গুটিগুটি পায়ে হেটে বেরাচ্ছে!
তার হাতে একটা খেলার বল!
বলটা তার হাত থেকে গড়িয়ে আমার পায়ের কাছে চলে এসেছে!
বাচ্চাটা আমার সামনে এসে বলটা কুড়িয়ে নিলো!
আমি বাচ্চাটাকে বললাম,
- মামুনি, নাম কি তোমার?
- আমার নাম রূপরেখা, আঙ্কেল!
- বাহ খুব সুন্দর নাম তো!
- হুম, আমার মা মারা যাওয়ার আগেই আমার এই নামটা ঠিক করে রেখেছিলো!
- তোমার মা কিভাবে মারা গ্যাছে?
- আমার জন্মের সময়ই নাকি মারা গ্যাছে!
- মা কে দেখতে ইচ্ছে হয়না?
- হ্যা, হয়তো! খুব ইচ্ছে হয়!
- তোমার সাথে কে এসেছে, মা?
- আমার বাবা এসেছে!
- ও আচ্ছা!
আমার বুকের ভেতরটা অস্থির হয়ে উঠছে! কি ফুটফুটে একটা বাচ্চা মেয়ে!
দেখলেই মায়া লেগে যায়! মেয়েটাকে কেন যেন আমার নিজের মেয়ে মনে হচ্ছে!
আমি রুপরেখাকে কোলে নিয়ে বসে আছি! আমার ভীষন নীলার কথা মনে পরে যাচ্ছে!
নীলা আর আমি সম্পর্কে থাকাকালীন আমাদের অনাগত সন্তানের নাম ঠিক করে রেখেছিলাম "রূপরেখা"!
এই বাচ্চাটাকে দেখে, নীলাকে ভীষন মিস করছি! নীলা আমার জীবনে থেকে গেলে বোধয় এরকম একটা বাচ্চা আমাদেরও থাকতো!
এতদিন নীলার প্রতি আমার যে ক্ষোভ ছিল, ওটা হারিয়ে যাচ্ছে!
একটা কালো টিপ, কালো ফ্রেমের চশমা আর নীল শাড়ি পরা সেই নীলার মুখটা চোখের সামনে ভেসে উঠছে!
রূপরেখার বাবা চলে এসেছে!
তার বাবা এসে আমার কোল থেকে তার মেয়েটাকে নিয়ে গ্যালো!
দু মিনিট কথা হলো তার সাথে! তার ফেসবুক আইডির নামটা আমাকে দিয়ে বললো, ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট দিয়েন! মাঝে মাঝে রূপরেখার ছবি এটাতে আপলোড করি!
তারা বাবা-মেয়ে হাত ধরে চলে যাচ্ছে!
আমার বুকটা ফাঁকা ফাঁকা লাগছিলো!
মাথার উপর একটা আস্ত আকাশ যেন দুমড়ে মুচড়ে ভেঙ্গে পরছে!
পায়ের নিচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে! বুকের ভেতর ডিবডিব শব্দটা দ্রুততর হচ্ছে!
মেরুদন্ডের শিরা বেয়ে শিতল একটা ঘামের স্রোত নিচে নেমে আসছে!
রুপরেখা, দূরে চলে যাচ্ছে!
আমি ফোনটা হাতে নিয়ে তার নামটা ফেসবুকে সার্চ দিলাম!
আইডিটাও পেলাম! আইডির কভার ফটোতে রূপরেখার বাবার একটা সুন্দর ছবি!
ছবিতে শুধু তার বাবা একা না, তার বাবার কাঁধে মাথা রেখে হেলান দিয়ে আছে নীলা!
Post a Comment