তাসমিহার সাথে আমার বিয়েটা অনেকে দিনের।আমার সব ভালোবাসা উজাড় করে দিয়ে তাকে ভালোবেসেছি,ভাসবো,ভবিষ্যৎ এ ও বাসবো।আমাদের মধ্যে সবসময় মিলমিশ ছিলো।আমি কি করলে ও কস্ট পাবে,আবার ও কি করলে আমার কস্ট হবে আমরা ২ জন ভালোই করেই জানতাম।কিন্তু আমাদের ভালোবাসার মধ্যে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে পাড়া প্রতিবেশী।তাদের মুখে একটাই কথা বিয়ে হয়ে গেলো ৩ বছর হয়ে গেছে এখনো কোন বাচ্চা হয়না কেনো।মাঝেমধ্যে এসব মানুষকে থাপড়াইয়া কান গরম করে দিতে মন চায়।কিন্তু পারিনা।সবসময় তাসমিহা আমাকে থামিয়ে ফেলে।আমাকে বুজিয়ে শান্ত করে ফেলে।কিন্তু কয়বার ঠান্ডা করবে।এভাবে মানুষের কথা শুনতে ভালো লাগেনা।
তাসমিহা:-সিয়াম শুনো
সিয়াম:-হুম বলো
---আমার একটা কথা ছিলো
---১ টা কেনো ১০ টা বলো সমস্যা নেই।
---সবার কথা আর কত শুনবো,কিছু একটা করো
---আচ্ছা আমরা ভালো কোন ডাক্তার এর শরনাপন্ন হবো
---আচ্ছা
---চকলেট খাবে
---এত রাতে চকলেট কই পাবে
---আছে
---কোথায়
---এইজে আমার পেটে,দুপুরে খেয়ে পেলেছি ☺
---কি তুমি আমার জন্য রাখলে না
---হিহিহি
---যাও তোমার সাথে কথা বলবো না
---সরি
---হবেনা
---কি করতে হবে
---একটা পাপ্পি দিতে হবে
---এ তো গরু না চাইতেই ঘাস
---ঘাস!!!
---নতুন কথা
---হুম
---তো দিবো নাকি
---কি??
---পাপ্পি
---দাও(লজ্জা পেয়েছে)
তারপর আর কি..........
থাক বললাম না।
পরের দিন......
তাসমিহা কে নিয়ে চলে গেলাম এক ডাক্তার এর কাছে
ডাক্তার আমাদের ২ জনকেই পরিক্ষা নীরিক্ষা করে আমাকে একা ডেকে পাঠালো।
সিয়াম:-তাসমিহা তুমি এখানে থাকো,আমি ডাক্তার এর সাথে কথা বলে আসি
তাসমিহা:-আমিও যাবো
---না তুমি এখানে থাকো,আমি কিছুক্ষনের মধ্যেই চলে আসছি
---আচ্ছা
তারপর ডাক্তার এর কাছে গেলাম
ডাক্তার:-দেখুন সিয়াম সাহেব আমি আপনাদের ২ জনকেই পরিক্ষা করে দেখলাম
সিয়াম:-এখন রিপোর্ট কি
---আপনার স্ত্রীর বাচ্চা জর্ম দেওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে
---কি বলেন এগুলা!!
---জ্বী হ্যা,আপনার স্ত্রী মা হতে পারবেনা
কি করবো কিছুই বুজতেছিনা,গলাটা কেমন জানি শুকিয়ে গিয়েছে,কথা যেনো বের হতেই চাচ্ছে না,তবুও নিজেকে সামলে নিলাম এবং ডাক্তার কে বললাম যাতে তাসমিহাকে এসব কথা না বলতে।
তারপর আমি ডাক্তার এর চেম্বার থেকে বের হয়ে গেলাম এবং তাসমিহার কাছে গেলাম।
তাসমিহা:-ডাক্তার কি বলেছেন
সিয়াম:-বলেছেন কাল বলবেন
---ও আচ্ছা
---হুম
---চলো আজকে ফুসকা খাই
---আমার না শরীর একটু খারাপ লাগছে অন্যকোন দিন খাই???
---আচ্ছা
---হুম
তারপর তাসমিহাকে নিয়ে বাসায় চলে গেলাম।কিন্তু মাথাটা কাজই করছেনা।আমি কিভাবে এ কথাটা তাসমিহাকে বলবো।না জানি কি করে বসে।হয়তো আমার খুশির জন্য আমাকে আরেকটা বিয়ে দিবে।কিন্তু আমি তো শুধু তাসমিহাকে ভালোবাসি।হৃদয়ে যার নাম বসে গেছে তার নাম তো শত চেস্টা করে ও মোছা যায় না।
না কিছু একটা করতে হবে।পরেরদিন অফিস থেকে আসতেই তাসমিহা আমাকে বললো
তাসমিহা:-সিয়াম??
সিয়াম:-হুম
---বললে না তো ডাক্তার কি বলেছে??
---বলবো
---কখন
---এইতো,একটু ফ্রেশ হয়ে নিই,তারপর
---এখন বললে কি হয়,আমার খুব টেনশন হচ্ছে
---আরে এখানে টেনশনের কি আছে(মনে হয় কিছুটা আন্দাজ করতে পারতেছে)
---জানিনা
---আচ্ছা এখন একটু ফ্রেশ হতে দাও
---হুম
তারপর ফ্রেশ হয়ে খেয়ে দেয়ে খাটের উপর বসলাম।তাসমিহাকে ডাক দিলাম
সিয়াম:-তাসমিহা
তাসমিহা:-হু
---এদিকে আসো
---বলো
---ডাক্তার কি বলেছে জানতে চাইবে না
---হ্যা বলো
---দেখো আমি জানিনা তুমি কিভাবে ব্যাপারটাকে নিবে,ডাক্তার বলেছে আমার মধ্যে দুর্বলতা আছে যার কারনে আমাদের বাচ্ছা হচ্ছে না।এখন যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সেটা তোমার,তুমি যদি আমাকে ছেড়ে চলে যেতে চাও।চলে যেতে পারো আমি বাধা দিবো না।আমি চাই তুমি সবসময় সুখি থাকো।(মিথ্যে বললাম,আমি চাইনা তাসমিহা কস্ট পাখ,তাই দোষটা নিজের উপর নিলাম)
---........(চুপ,চোখের কোনে বিন্দু বিন্দু পানি জমতেছে)
---...(আমিও চুপ রইলাম)
কিছুক্ষন পর হঠাৎ করে তাসমিহা আমাকে জড়িয়ে ধরলো।তাসমিহার পুরো শরীল কাঁপতেছে।আমাকে জড়িয়েই অজরে কান্না শুরু করে দিলো।কিন্তু এখানে আমার কিছু বলার নেই।তাই চুপ করেই ছিলাম।কিছুক্ষন কান্না করার পর তাসমিহা আমার বুকে থেকেই বললো
---এই পাগল তুমি যেমনি হও না কেনো।আমি তোমাকে ছেড়ে কখনো কোথাও যাবো না।সন্তানই কি ভালোবাসার মূল উদ্দেশ্য??আমি সবসময় তোমার সাথে থাকবো
---কথা দাও আমাকে ছেড়ে কখনো চলে যাবে না
---কথা দিলাম
---হুম
দুজনেই জড়াজড়ি করে ঘুমিয়ে পরলাম।সকালে ঘুম থেকেই উঠে দেখি তাসমিহা আমার পাশে নেই।
তাই আমি ডাক দিলাম
সিয়াম:-তাসমিহা?
তাসমিহা:-হু
---কোথায় তুমি
---এইতো আমি রান্না ঘরে
---ওখানে কি কর
---কেনো তোমার জন্য চা বানাচ্ছি
---ও
তাসমিহার আচরনে সত্যি আমি চমকে গেলাম।ও এমন ব্যাবহার করছে যেনো কিছুই হয় নাই।মনে হয় নিজেকে সামলে নিয়েছে।
আমি ডাক্তারের দেয়া রিপোর্ট গুলো আমার ডেস্কে লুকিয়ে রাখলাম যাতে তাসমিহা না দেখতে পায়।
তারপর খেয়েদেয়ে অফিসে চলে গেলাম।সারাদিন অফিসের অনেক চাপ ছিলো।তবুও তাসমিহা আমাকে ফোন করে জিজ্ঞেস করে নিয়েছে খেয়েছি কিনা।মেয়েটা আমাকে বড্ডই বেশি ভালোবাসে।
অফিস থেকে বাসায় ফিরলাম।কিন্তু একি দরজা খোলা কেনো,তাড়াতাড়ি ভিতরে গেলাম।গিয়ে দেখি তাসমিহা অশ্রুসিক্ত নয়ন নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।হাতে ডাক্তার এর দেয়া রিপোর্ট গুলো।তার মানে,রিপোর্ট গুলো কোনভাবে তাসমিহা পেয়ে গিয়েছে।
সিয়াম:-তুমি আমার ডেস্ক কেনো ধরেছো?
তাসমিহা:-চুপ!!আর একটা কথাও বলবেনা
---তুমি আমাকে মিথ্যে কেনো বললে??
---............
---কি হলো কথা বলো(দমক দিয়ে)
---আমি তোমাকে কস্ট দিতে চাইনা
---তাই বলে তুমি নিজেকে কেনো অপরাধী বানিয়েছো
হঠাৎ করেই তাসমিহা আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে শুরু করলো।
---তুমি আমাকে এত ভালোবাসো কেনো
---কারন তুমিই আমার প্রিয়তমা,তুমি বলেছো আমাকে ছেড়ে কোথাও যাবেনা
---হুম,যাবোনা
---এখন কি আমাকে ফ্রেশ হতেও দিবেনা
---না,তোমাকে জড়িয়ে ধরে রাখবো
---হিহিহি,আমার বুজি লজ্জা লাগেনা
---ছেলে হয়েও লজ্জা??
---কেনো ছেলেদের লজ্জা নেই বুজি
---না নেই
---কে বলেছে
---আমি বলেছি
---তোমার ধারাই সম্ভব এসব কথা বলা
---হুম
--------------সমাপ্ত-------------
Post a Comment