জিসান???
.....
এই জিসান????
......
বাবা কি হয়েছে তোর?
.....
এভাবে আর কতদিন বাবা? সব ঠিক হয়ে যাবে! বাবা এইবার অন্তত একটু...
আহ বিরক্ত করোনাতো! চলে যাও এখান থেকে! আমাকে একটু একা থাকতে দাও!
কাদতে কাদতে বেরিয়ে গেলো জিসানের মা। সেদিকে তার ভ্রুক্ষেপ নাই। জানালার ফাক দিয়ে আসা সুর‍্যের আলোটাও তার সহ্য হয়না নিজেই যে পুড়ে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে অন্যের পুড়ে যাওয়ার ব্যাথাটুকু সে বুঝতে পারে।
কিছুদিন ধরেই ছেলেটার এই অবস্থা। ডাক্তার দেখিয়েছে কোন লাভ হয়নি! হবেইবা কি করে সে তো আর পাগল নয় যে মানসিক ডাক্তার তার চিকিৎসা করতে পারবে।
দুবছর আগে.....
নতুন কলেজ! নতুন ছাত্রছাত্রী সব অপরিচিত মুখের ভিড়ে সে খুজে পেয়েছিলো রিয়াকে। বড় ভাইরা যখন তাকে র‍্যাগিং করছিলো রিয়াই এসে তার হাত ধরেছিলো। সেদিন সে শুধু রিয়ার মুখের দিকে চেয়েইছিলো।জানেনা চিনেনা তবুও তার জন্য এত মায়া।
সেদিন থেকেই রিয়ার সাথে পরিচয়। বন্ধুত্ব এরপর ভালোবাসা।হাত ধরে হাটাহাটি, ছোট ছোট খুনসুটি,রাতভর ফোনে কথা বলা এই চলছিলো।কিন্তু হঠাত একদিন....
আচ্ছা জিসান আমি যদি কখনো হারিয়ে যাই তুমি আমাকে খুজে নিবে??
হঠাত এই ধরণের কথা বলছো কেন?
প্লিজ তুমি বলো!!!!
রিয়া! তোমাকে শত অপরিচিতের ভিড়ে খুজে নিয়েছি যদি কখনো হারিয়েও ফেলি আমি আবার খুজে নিবো! তোমাকে হারাতে দিবোনা
আমি যদি মরে যাই...
এই প্লিজ কখনো এই শব্দটি মুখেও আনবানা!!
আমাকে বলতে দাও জিসান!
তুমি যা বুয়ার বলো কিন্তু অই শব্দটি আর মুখে নিবানা!
আচ্ছা যদি কখনো শুনো আমি তোমাকে আর ভালবাসিনা কি করবে?
মরেই যাবো!.
.....
কি হলো কিছু বলছোনা যে?
কথার উত্তর না দিয়েই কাদতে শুরু করল রিয়া। জিসান জানেইনা রিয়া আজ কেন এমন করছে! কি হয়েছে রিয়ার!
সবকিছু তার কাছে তখনই স্পষ্ট হয় যখন রিয়ার এক বান্ধবীর কাছে সে শুনতে পায় রিয়ার ব্রেইন টিউমার। বড়জোর দু মাস বাচবে! সে জিসানের জন্য একটা চিরকুট লিখেছিলো...
আমি জানি জিসান তুমি আমাকে অনেক ভালবাসো!আমিও তোমাকে ভালোবাসি জিসান! কিন্তু....প্রকৃতি আমাদের ভালবাসাটাকে সহ্য করতে পারেনি জিসান।আমাকে ভুলে যেও জিসান।আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাইনা।এই কয়টা দিন আমাকে ভুলে থাকার চেষ্টা করো।আমি জানি তুমি পারবে! অন্তত আমার জন্য হলেও পারবে! প্লিজ জিসান!!!
সেদিন অনেক কেদিছিলো জিসান।কাউকে কিছুই বলতে পারেনি। তবে কি এভাবেই রিয়াকে হারিয়ে ফেলবে সে?
না এখানেই গল্পের শেষ নয়। দু পরিবারের কেউই চাইছিলনা কোন অনিশ্চয়তার দিকে তারা এগিয়ে যাক।কিন্তু জিসান কিছুতেই মেনে নেয়নি। দুজনে মিলে পালিয়ে গেলো। রিয়া অবশ্য অনেক বোঝাতে চাইছিলো জিসানকে কিন্তু তার কাছে রিয়াই তার সব!
ছোট্ট একটা সংসার! খুশির অন্ত নেই। খুব ভালই চলছিল তাদের দিন। কিন্তু তাদের এই ছোট্ট সুখটুকুও বিধাতা দীর্ঘ হতে দেয়নি। অল্প কিছুদিনের মাথায় রিয়া সব ছেড়ে পরপারে পাড়ি জমিয়েছিলো....
সেদিন থেকেই জিসান এমন হয়ে গেছে। তার সাথে দেখা হয়েছিলো গত সপ্তাহে। কখনো এভাবে তাকে দেখবো ভাবতেই পারিনি। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ায় সে। লোকে তাকে পাগল বলে ডাকে! সারাক্ষণ একটা কাগজ হাতে নিয়ে ঘুরে।একখানা চিরকুট.....
তাদের বাসায় গিয়েছিলাম।তালাবন্ধ বাড়ি।কেউই থাকেনা হয়তো। একজনকে জিজ্ঞসা করেছিলাম আমার মাথায় যেন আকাশ ভেংগে পড়লো....
জিসানের এই অবস্থা ধীরে ধীরে বাড়ছিলো। অনেক ডাক্তার,কবিরাজ কিছুই হয়নি।ছেলের এই অবস্থা বাবা বেশিদিন সহ্য করতে পারেনি। মা টাও দুমাসের মাথায়....
এখনো দেখা যায় একটা পাগলকে ! রাস্তার ধারে,বিজের পাশে কিংবা কোন এক কোনে জটলা পাকিয়ে বসে থাকে। মাঝে মধ্যেই কেদে উঠে। তার কান্নার হয়তো কোন মানেই নেই! সে যে একটা পাগল! পাগলের সবকিছুই অভিনয়! মিথ্যে,নিছক অভিনয়....

Post a Comment

Previous Post Next Post