- এই ভাইয়া উঠ? এই ভাইয়া?
- কী রে পড়া চোর কী বলিস?
- ওই কে পড়া চোর?? তুই পড়া চোর!
- আমি পড়া চোর???
- নয়তো কী? যদি পড়া চোর না হতিস, তাহলে,
এত্তোক্ষণ ঘুমিয়ে থাকে কেউ?
- ওই জানিস, আমি ফজরের নামাজ পড়ে
ঘুমাইছি,, বিরক্ত করিস না তো! এখন এইখান
থেকে যাহ্.......
- না...তাড়াতাড়ি উঠ। আম্মু ডাকতেছে
তোকে...
- পারবো না... যাহ্ তো! নয়তো মার খাবি
কিন্তু এখন!!
- আচ্ছা ঠিক আছে। তাহলে, আব্বুকেই বলতে
হবে,, বুঝছি।
- এই না না। আব্বুকে বলিস না, সোনা বোন
আমার।
- তাহলে, উঠ........
- ওকে।
.
কিচ্ছু করার নাই এখন উঠতেই হল। আব্বুকে অনেক ভয়
পাই যতটা আম্মুকে না পাই। আর আমাকে, কাবু
করার জন্য বৃষ্টি সব সময় এই কাজটাই করে। ওহ,, হ্যাঁ
বৃষ্টি হচ্ছে আমার আদুরের একমাত্র ছোট্র বোন।
কিন্তু, পাক্কা শয়তান। সব সময় আমার সাথে
আঠার মত লেগে থাকে। বৃষ্টি পৃথিবীর
সবচেয়ে বেশি ভালবাসে আমায়। আমিও ওকে
অনেক ভালবাসি। বৃষ্টি যদি কোন দিন বাসায়
না থাকে, মনে হয়, পুরো বাসাটাই কেমন
জানি ফাঁকা ফাঁকা লাগছে। সব কিছুই মনে হয়
চুপচাপ হয়ে গেছে। কারণ, বাসার সবাইকে, সব
সময় মাতিয়ে রাখত ভালবাসায়।
- এই ভাইয়া কী হল, এখনও তোর নাস্তা করা হয়
নি?
- কেনো রে,, আজ এতো তাড়া হুড়া কিসের?
- আমাকে আজকে কলেজে দিয়ে আসতে হবে।
- হু, আমার খাইয়া দাইয়া কাজ নাই, তোকে
কলেজে দিয়ে আসবো! যাহ্ তো এইখান
থেকে,,, সর...
- ভাইয়া তুই আমার সাথে সব সময় এমন করিস কেন?
- আমি পারবো না।
- আচ্ছা, ঠিক আছে,, আব্বুকে গিয়ে তাহলে
বলি.....
- উফফফ....নাস্তাটা শেষ করতে দিবি তো??
- হুম। তাড়াতাড়ি... আমার আজ পরীক্ষা আছে
তো!
- কসসস্ কী!! আজ তোর পরীক্ষা! আর, কাল না তুই
সারারাত টিভি দেখলি??
- আরেহ্.... বাদ দে তো! উঠ তাড়াতাড়ি.....
.
বৃষ্টির সাথে বের হলাম, ওকে কলেজে পৌঁছে
দেওয়ার জন্য। মাঝ রাস্তায় ইমরানের সাথে
দেখা। আমাদের বাসার সাথেই ইমরানের
বাসা। আমাকে সব সময় ভাইয়া বলেই ডাকে। দুই/
তিন বছরের জুনিয়র ছেলেটা।
- ভাইয়া একটা কথা ছিল? (ইমরান)
- হুম....বল। ( আমি)
- এইখানেই বলবো? তোমার ছোট আপু তো
তোমার সাথে?
- এইখানে বললে সমস্যা কী বল তো?
- আচ্ছা, বলছি তাহলে।
- জ্বী
- নওশীন আপু আজ বিকেলে, আমাদের বাড়ির
সামনে তোমাকে দেখা করতে বলেছে.....
- খাইছে!! কথাটা বলার আর টাইম পাইলি না। এই
শয়তানের সামনেই বললি??
- এই ভাইয়া নওশীন কে রে?? তলে তলে
এত্তোকিছু?
- চুপ কর শয়তান। যাহ্ পরীক্ষা দিতে। তোর
কলেজের সামনে তো চলেই এসেছি। আমি আর
যাবো না। পরীক্ষা দিয়ে ঐ যে দোকানের
সামনে দেরি করিস....কেমন?
.
বৃষ্টি পরীক্ষা দিতে চলে গেল আর আমি এই
সুযোগে ইমরানের সাথে নওশীনের ব্যাপারে
অনেক কথা বললাম।
নওশীন মেয়েটার সাথে আমার রিলেশন এইতো
চার/পাঁচ মাস হবে। তবে, বিষয়টা বৃষ্টি
জানতো না। এখন তো ভয় লাগতেছে, না
জানি বাসায় গিয়ে বৃষ্টি উল্টা পাল্টা কী
বলে!!
.
কিছুক্ষণ পর, বৃষ্টি পরীক্ষা দিয়ে বের হল.......
- কী রে কেমন পরীক্ষা দিলি?
- আল্লাহর রহমতে অনেক ভাল হইছে রে ভাইয়া।
- তাহলে, এখন তাড়াতাড়ি চল বাসায়। আমার
তো অনেক ক্ষুর্ধা লাগছে, জানিস তখন থেকে
এইখানে বসে আছি আমি।
- ভাইয়া একটা কথা বল তো?
- হুম...বুঝছি।
- কী বুঝছিস?? আমি তো এখনও কিছুই বলি নি!
- হুম।বল.......
- ভাবী দেখতে কেমন রে?
- জানি না।
- আচ্ছা, ঠিক আছে। তাহলে, বাসায় গিয়ে
আম্মুকে বলবো নি যে, তোমার ছেলে তোমার
জন্য একটা বউমা ঠিক করে রেখেছে।
- সব সময় তুই এতো বেশি বুঝিস কেনো, বল তো?
- তাহলে, বল.....
- দেখতে তোর মতই সুন্দর আর তোর মতই শয়তান।
- কবে থেকে এইসব করতেছিস ভাইয়া, বলতো?
- এখন কিন্তু মার খাবি.......
- ওকে,ঠিক আছে তাহলে,, আম্মুকে বলবো না।
আব্বুকে বলি,, কেমন??
- আবার আব্বুকে কেনো?? তুই না আমার আদরের
ছোট্র বোন। তুই না আমাকে অনেক ভালবাসিস?
- আচ্ছা ঠিক আছে। বাসায় কিছু বলবো না।
তবে,একটা শর্তে??
- আবার কিসের শর্ত?
- ভাইয়া জানিস, আজকে না আমার একটা
বান্ধবী একটা সুন্দর হাত ঘড়ি পড়ে পরীক্ষা
দিতে আসছিল। আমার না ঘড়িটা খুব পছন্দ হইছে।
আমাকে ওইরকম একটা ঘড়ি কিনে দিবি?
- পারবো না .... আমার কাছে এখন টাকা নাই।
- হুম। ঠিক আছে। (খুব নরম হয়ে বলল বৃষ্টি)
বুঝলাম না, হঠাৎ করে এইরকম অভিমানের সুরে
নরম হয়ে বলল কেনো? নাকি আবার অন্য কোন
ফন্দি অাঁটতেছে?
যাইহোক, আর কিছু না ভেবে বৃষ্টির সাথে
বাসায় চলে আসলাম।
.
বাসায় এসে খাওয়া দাওয়া করে ফেসবুক
চালাচ্ছি। হঠাৎ করেই খেয়াল করলাম,, বৃষ্টির
কোন সারাশব্দ পাচ্ছি না কেনো? যে
মেয়েটা সব সময় বাসার মধ্য চিল্লা চিল্লি
করে, সেই মেয়েটা আজ চুপচাপ কেনো? আব্বু
আম্মুকে নওশীনের ব্যাপারে কিছু বলল নাকি!!
অনেক কিছুই ভাবতেছি, আসলেই কী হইছে আজ
বৃষ্টির!
___
- কী রে খাওয়া দাওয়া না করে শুয়ে আছিস
কেনো?
- এমনি, ভাল লাগছে না।
- তাড়াতাড়ি উঠে খাওয়া দাওয়া করে নে,
যাহ্......
- আমি না খাইলে কার কী?
- কার কী মানে? আমার অনেক কিছু।
- কেনো, তুই আমার কে যে, তোর অনেক কিছু?
- সেটাই তো, আমিই বা কার কে হই? আর
তোকেই বা খাইতে বলছি কেনো!
- হুম। এখন যাহ্ এখান থেকে......
.
কিছুই বুঝতেছি না, মেয়েটার কী হল। মনে
হচ্ছে, অনেক রাগ আর অভিমান করে আছে আমার
উপর। তাই,ওকে আর কিছু না জানিয়ে চলে
গেলাম বৃষ্টির বান্ধবীর সাথে দেখা করতে।
গিয়ে হাত ঘড়িটা দেখবো তারপর, ঠিক ওই রকমই
একটা হাত ঘড়ি কিনবো বৃষ্টির জন্য।
.
বিকাল বেলা বাসায় ফিরে দেখি বৃষ্টি এখনও
চুপচাপ শুয়েই আছে,,,,,,,
- এই যে স্যার....আম্মু আপনাকে বকা দিছে
নাকি। তখন থেকেই দেখছি শুয়ে আছেন, ঘটনা
কী বলেন তো??
- ভাইয়া দেখ তুই কিন্তু এখন আমার মার খাবি!
- কী বললি?? তুই আমাকে মারবি??
- হুম,, মারবো।
এই বলেই বৃষ্টি আমাকে মাইর দেওয়ার জন্য
আমার পিছন পিছন দৌড় দিল। জানি, ওর আবার
রাগ বেশি কখন কী করে আল্লাই জানে!
- এই দাঁড়া দাঁড়া, দাঁড়া .......চল না একটু ছাদে
যাই?
- না পারবো না।
- ছাদটা অনেক দিন থেকে অপরিষ্কার হয়ে
আছে। পরিষ্কার করতে হবে.......
[ ওরে বাবা! এই কথা শুনে ওর রাগ আরও দ্বিগুন
বেড়ে গেল ]
- ভাইয়া আজ তোকে.........??
- চল না ছাদে যাই.....
- কেনো?এখন ছাদে গিয়ে কী হবে??
- আজ দুই ভাই-বোন একসঙ্গে বসে নীল আকাশটা
দেখবো।
- উহুহুহুহু,,,,ওতো শখ নাই আমার।
- চল তো.......
- তুই যাহ্, ঐ যে নওশীন ভাবীকে নিয়ে।
- বাজে কথা বলিস না,,,,, এখনই আমার সাথে
যাবি.....
এই বলে বৃষ্টিকে ছাদে নিয়ে আসলাম।
চারিদিকে সবকিছু আমার ছোট্র বোনটির মত
নীরব হয়ে আছে। হালকা একটু বাতাস বইতেছে।
আকাশের কোণে মেঘগুলো ভিড় করেছে, এই
বুঝি আকাশ থেকে বৃষ্টি নামবে। সবকিছু
মিলিয়ে অনেক সুন্দর একটা পরিবেশ। আমি আর
আমার ছোট্র বোনটা পাশাপাশি বসে
আছি.......
- বৃষ্টি তোর হাতটা দে তো??
- কেনো, কী করবি?
- আরেহ্,,, দে না?
- হুম,,,ধর......
বৃষ্টি ওর হাতটা বাড়িয়ে দিল আর আমি ওর
হাতে, বৃষ্টির সেই পছন্দের হাত ঘড়িটা পড়িয়ে
দিলাম।
- ভাইয়া তুই এইটা কোথায় পাইছিস??( অনেকটা
অবাক আর খুশি হয়ে বলল....)
- আমি তোর ভাইয়া না বল? সবকিছুই তো বুঝি।
তাই, তুই যখন বিছানায় রাগ করে শুয়ে ছিলি,
তখন আমি তোর বান্ধবীর সাথে দেখা করে
ঠিক ওইরকমই একটা ঘড়ি কিনে নিয়ে এসেছি।
- ভাইয়া তুই এত্তো ভাল কেনো???????
কথাটা শেষ করেই, বৃষ্টি আমাকে জড়িয়ে ধরল।
এক মুহূর্তের জন্য হলেও নিজেকে তখন পৃথিবীর
সবথেকে সুখী মানুষ মনে হচ্ছিল।।
,,
চলুক না এইভাবেই ভাই-বোনদের মাঝে
হাজারও ভালবাসা..............

Post a Comment

أحدث أقدم