-- মিমি, তোমার এই প্যারাগুলা না!আমি আর নিতে পারছি না। ভালো লাগে না আর এসব। প্লিজ তুমি আমাকে মুক্তি দেও।
-- ওহ! এখন আমি তোমাকে প্যারা দেই?
-- তা নয় তো? যবে থেকে তোমার সাথে রিলেশনশীপে জড়িয়েছি তবে থেকেই আমার সব বিষয়ে তুমি নাক গলানো শুরু করেছো। আমার স্বাধীনতা বলতে কিচ্ছু নেই। আমি কি করলাম? না করলাম। এখানে কেনো গেলাম? ওখানে কেনো গেলাম? এটা কেনো করলাম? ওটা কেনো করলাম? এতোক্ষণ কার সাথে কথা বলছিলাম? ফোন বিজি কেনো!? ওই মেয়ের সাথে কথা কেনো বললাম? উফ্!! আমি অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি একদম!!
-- ওহ! শুধুমাত্র এই সামান্য কারণগুলোর কারণে তুমি ব্রেকআপ করতে চাইছো, ফয়সাল?
-- আশ্চর্য মিমি! তুমি এইগুলাকে সামান্য কারণ বলছো? একটা মানুষ কিভাবে এতোটা সহ্য করবে,বলতে পারো?
-- ওকে, ফাইন। তুমি যদি ব্রেকাপ করতে চাও তাহলে আমি তোমাকে আটকাবো না।
আর কখনো আমার প্যারা তোমাকে সহ্য করতে হবে না। আর তোমাকে কখনো কেউ ফোন করে বলবে না যে, এইটা কেনো করলা?ওইটা কেনো করলা? ফোন বিজি ছিল কেনো?
এইসব কিছুকে একটা স্বপ্ন মনে করে ভুলে যেও আর পারলে ক্ষমা করে দিও আমায়।
ভালো থেকো!!
মেয়েটার চোখ থেকে অঝোর ধারায় পানি পড়ছে। হুম, মেয়েটা কাঁদছে। নীরব কান্না। কাঁদতে কাঁদতে চলে যাচ্ছে।
আর ছেলেটা বোধহয় অনেকটা হাফ ছেড়ে বাঁচলো। চেহেরা দেখেই তা বোঝা যাচ্ছে।
...
এতোক্ষণ পার্কে একটা গাছের নিচে বসে বসে একটা সম্পর্কের ভাঙ্গন দেখলাম। ভাবতেই অবাক লাগছে। ছেলেটা সামান্য কিছু কারণের জন্য ব্রেকাপ করে দিলো। কিন্তু
এগুলো কোনো কারণ হতে পারে ব্রেকাপের জন্য? অন্তপক্ষে আমি মানি না।
..
ধরুণ, আপনি আজ সিলেট থেকে ঢাকা যাচ্ছেন। আর আপনার প্রেমিকা বা বউ আপনাকে কয়েক মিনিট পরপর বার বার ফোন দিচ্ছে আর বলছে --
-- কি গো? এখন কোথায় আছো? সব ঠিক আছে তো? বাসে কোনো সমস্যা হচ্ছে না তো? আবার কখনো বলছে, তোমার ব্যাগে টিফিনবক্সে খাবার দিয়েছি সেগুলা খাবা, বাহিরের জিনিস একদম মুখে দিবা না।
আবার কখনো বলছে, আচ্ছা তোমার পাশে কে বসেছে? যদি মেয়ে বসে থাকে তাহলে এখনি উঠে গিয়ে কোনো ছেলের পাশে বসো। যদি সিট ফাঁকা না থাকে,তাহলে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে যাবা।
আপনি কিচ্ছুক্ষণ আপনার অফিসের বস বা ফ্রেন্ড এর সাথে কথা বলছেন। কিছুক্ষণ পর আপনার প্রেমিকা বা বউ ফোন দিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছে, এই তুমি কার সাথে কথা বল্লা এতোক্ষণ? নিশ্চয় তুমি অন্য কাউকে ভালোবাসো তাই না? আর সেই জন্যেই আমাকে ইগ্নোর করো, তাই না?
এগুলো আপনার কাছে খুব প্যারা মনে হতে পারে। মনে হতে পারে, ইশ কোন ঝামেলায় পড়লাম। ভাবলেন, এইটা কোনো জীবন হলো? সবকিছুতেই বাধা। বিয়ে বা প্রেম করে যেন প্রেমিকার হাতে জীবনটা তুলে দিছি।
উফ্! এক্কেবারে অসহ্য!!
তাহলে আমি বলবো, আপনি ভুল ভাবছেন। এগুলো কখনো প্যারা হতে পারে না। এগুলো হলো আপনার প্রতি মেয়েটার ভালোবাসা, আপনাকে হারানোর ভয়। মেয়েটা বারবার আপনাকে ফোন দেয় কারণ সে ভাবে আপনার কিছু হলো না তো? আপনি অন্য কারো সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লেন না তো? এই যে ভয়টা কাজ করছে তার মধ্যে, এইটাই আপনার প্রতি তার ভালোবাসার প্রতীক।
হুম, এইটা ঠিক যে, মাঝে মাঝে একটু খারাপও লাগে। কিন্তু তবুও আপনাকে মানিয়ে নিতে হবে। কারণ যে মেয়েটা আপনাকে হারানোর এতোটা ভয় পায়, আপনাকে যে মেয়েটা এতোটা ভালোবাসে, তার জন্য কি একটু মার্চি করতে পারবেন না? একটু সেক্রিফাইস করতে পারবেন না?
যদি না পারেন তাহলে তো আমি বলবো, আপনারই ভালোবাসায় কমতি আছে। আপনি মেয়েটাকে ভালোবাসেন না শুধু একটা মোহের মধ্যে আটকে আছেন।
..
লক্ষ্য করলাম, ছেলেটার চোখের কোণ থেকে বিন্দু বিন্দু অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। হয়তো মেয়েটার কথা ভাবছে। আমি বললাম,
--যান ভাই। তাকে ফিরিয়ে আনেন। এইভাবে সম্পর্ক নষ্ট করবেন না।
-- ভাই, আমাকে কি সে ফিরিয়ে নিবে? (ছেলেটা)
-- এইতো ভাই, আরেকটা ভুল করলেন। কেনো নিবে না? অবশ্যই নিবে। একটা কথা সবসময় মনে রাখবেন, যে ভালোবাসতে জানে সে ফিরাতেও জানে।
ছেলেটা আর এক মুহুর্তও দেরি না করে দৌঁড়ে গেলো মেয়েটার কাছে।
দূর থেকে লক্ষ্য করলাম, ছেলেটা মেয়েটার কাছে কান ধরে ক্ষমা চাইছে। মেয়েটা কাঁদতে কাঁদতে জড়িয়ে ধরলো ছেলেটাকে। আমি ওদের দিকে তাকিয়ে মুছকি একটা হাসি দিলাম।
...
-- বাহ্! অন্যের প্রেমটা তো ভালোই মিলিয়ে দিলে। অথচ আমার ফিলিংটাকে একটিবারের জন্যও বুঝলে না। আমার জন্য কি তোমার মনে একটুও অনুভূতি জাগে না? (অনেকটা কান্নাজড়িত কণ্ঠে)
চমকে উঠে পেছনে তাকিয়ে দেখি তাসফিয়া কথাটি বললো। আমি বললাম -
-- ওহ তুমি। কখন এলে?
-- এইতো একটু আগে। তোমার কথাগুলো শুনছিলাম।(তাসফিয়া)
আমি কিছু না বলে হাল্কা মুছকি একটা হাসি দিলাম।
-- কিছু বলছো না কেনো? আমার প্রতি কি তোমার একটুও ভালোবাসা জন্মায় নি কখনো? (তাসফিয়া)
আমি বললাম -
তাসফিয়া,তোমাকে আমার খুব ভালো লাগে,হয়তো বড্ড ভালোও বাসি। কিন্তু তুমি তো সবই জানো আমার ব্যাপারে। আমার পক্ষে কিভাবে সম্ভব তোমার ভালোবাসাটাকে গ্রহণ করা?
মেয়েটা নি:শব্দে কেঁদে যাচ্ছে।
কথাগুলো বলে চলে আসলাম সেখান থেকে। বেশিক্ষণ থাকলে হয়তো আরো বেশি মায়ায় পড়ে যাব। চলে আসার সময় শুধু এইটুকু বলে আসলাম -
ভালো থেকো!!!

Post a Comment

Previous Post Next Post