ওপাশ ফিরতেই দেখলাম একটা অপরুপ সুন্দর
বালিকা আমার দিকে গভীর নয়নে চেয়ে রয়েছে ।
বালিকাও এতো সুন্দর হয় ? অবাক হওয়ার ভান
করে জিঙ্গাসা করলাম কে তুমি বালিকা ? আমার
কাছে কি চাই ?
বালিকা কিছু বলেনা বেয়াদপের মতো শুধু চেয়ে থেকে
মুচকি হাসে !
বালিকার হাসি দেখে আমার বুকের মধ্যে ব্যাথা
আরম্ভ হলো । সেই সাথে মাথার মধ্যে কয়েকটা
প্রশ্ন খেলা করতে লাগলো যে ছেঁকা খেয়েছি আজ
বছর খানেক হলো এর পর আর কোন বালিকা
ফিরেও চাইলো না অথচ আজ একদম রুমের মধ্যে
একখানা বকুল ফুলের মতো সুন্দর বালিকা এসে
হাজির । বিষয়টা একটু গোলমেলে ঠ্যাকে না ?
.
এর পরের ক্ষণেই নিজেকে নিজেই বুঝালাম যে
হয়তো আশে পাশেই কোথাও দেখেছে আমার দাঁড়ি
গোফ ভর্তি শুকনা মুখ এরপরেই হয়তো আমার
জন্য পাহাড় পরিমাণ মায়া হয়েছে তার ! হয়তো
বালিকা অনুভব করতে পেরেছে আমার মধ্যে জমে
থাকা এক বালতি কষ্ট । আহা কি ভাগ্যবান
আমি ! কুসুম কমল শস্য শ্যামলা বালিকা এতো
কাছে এসেছে না জানি ভবিষত্ এ আরো কি কি
অপেক্ষা করছে ! সুযোগ যেহেতু পেয়েছি তাই
লজ্জ্বা ভয়ের মাথা খেয়েই বলেই ফেললাম - ওগো
অচেনা বালিকা তোমায় আমার চাই ই চাই ?
বালিকা এবার আর চুপ করে থাকলো না । তার মুখে
কথা ফুটলো ঠিক কলি থেকে ফুল ফুটার মতোই !
বালিকা লজ্জ্বা মাথা কন্ঠে বললো - আমায় যদি
পেতে চাও হে বালক তবে এই আধো রাতে
মহাশশ্মান থেকে এনে দাও কষ্ণচূড়া ফুল !
কথাটা শুনে তো আমি অবাক । এআবার কেমন
চাওয়া । আমি সামান্য টয়লেটে যেতে ভয় পাই আর
যাবো আধো রাতে শশ্মানে । এযে অসম্ভব ।
তারপর ভয়ে ভয়ে বালিকাকে বললাম - অন্য যা
চাইবে আমি দিতে রাজি শুধু যেটা বলেছ সেটা বাদে !
বালিকা এবার আমার কথা শুনে গোঁ ধরে বসলো
অন্য দিকে হয়ে । এতো চেষ্টা করলাম বুঝাইতে যে
আমি ভিতুর ডিম কিন্তু কে বুঝে কার কথা । তাই
অগাত্য বাধ্য হয়েই সিদ্ধান্ত নিলাম আমি যাবো
মহাশশ্মান । বালিকার জন্য আমি চাঁদ এনে দিতে
পারি আর এতো সামান্য একগোছা ফুল ! কিন্তু
শশ্মানটাই যা ভেজাল করেছে !
.
গায়ে একটা শার্ট চাপিয়ে হাতে একটা লাইট নিয়ে
বেরিয়ে পড়লাম মহাশশ্মানের উদ্দেশ্য । আধা
ঘন্টা হাঁটার পর পৌছালাম শশ্মানে । আমার মধ্যে
আর কোন ভয় নাই কারণ বালিকার পাক পবিত্র
ভালোবাসা আমার সাথে আছে । তাই কোন দিকে
খেয়াল না করে কৃষ্ণ চূড়া গাছটায় উঠলাম । যেই না
একগোছা ফুল ছিড়তে যাবো অমনি দেখি তার
পাশের ডালেই একজন বসে আছে ! লাইট ধরতেই
দেখি সেই বালিকা যাকে আমি রুমে রেখে
এসেছিলাম ! আহা কি ভালবাসা আমায় ছেড়ে এক
ঘন্টাও থাকতে পারছে না একদম আমার সাথেই চলে
এসেছে । আবেগে আপ্লুত হয়ে জিঙ্গাসা করলাম
এতো রাতে তোমার এখানে আসার কিদরকার ছিলো
এতোটা পরিশ্রম করে ?
বালিকা উত্তরে বলিল সে নাকি এই গাছেই থাকে !
গাছে থাকে মানে গাছ পাগলী নাকি মনে মনে
ভাবলাম । এরপর আবার জিঙ্গাসা করলাম তুমি
কেন এখানে থাকো । তুমি কি গাছ পাগলটাইপ
কিছু ?
বালিকা রাগিয়া বললো যে এটাই তার বাড়ি , সে
একটা পেত্নি ! বালিকার আমার দেবদাস মার্কা
জীবন পছন্দ হয়েছে তাই আমায় মেরে আমার
ভূতের সাথে সে বিয়ে হবে !
.
আরেকটা ছেঁকা খাওয়ার প্রান্তে দাঁড়িয়ে আমি
কান্না ভেজা কন্ঠে বললাম - আমি বিশ্বাস করি
না তুমি পেত্নি !
বালিকা বিকট স্বরে হাসতে হাসতে তার আসল রুপ
ধরলো । ইয়া বড় বড় নখ ইয়া বড় চোখ । তুষার
শুভ্র বালিকা আমার চোখের সামনে পেত্নি হয়ে
গেলো আর আমার মহো কাটলো । বালিকার হাসির
চোটে কষ্ণ চূড়া গাছ কাঁপতে থাকলো আর সঙ্গে
সঙ্গে আমি গাছ থেকে মাটিতে পড়ে গেলাম ।
.
আহা কি ব্যাথা । চারপাশে তাকিয়ে দেখি আমি
আমার রুমের খাটের নীচে পড়ে আছি ! আরেহ
এখানে কিভাবে এলাম । আমি না পেত্নি বালিকার
হাসির চোটে কষ্ণচূড়া গাছ থেকে পড়ে গেলাম ।
তাহলে কি সব কিছু স্বপ্ন ছিলো ?
যাক স্বপ্নে আর পেত্নি হলেও একজন বালিকা
তবুও কাছে এসেছে ! এতোটুকুই বা কম কিসে ?
এতেই আমি ধন্য । তবে পেত্নি বালিকার হাসিটা
ভয়ংকর সুন্দর ছিলো ! গল্পটা লেখার পর আমি
তা মিস করতিছি !!!

Post a Comment

أحدث أقدم