নীরা..... ওওওও নীরা.....
- কি হলো?.......( রান্না ঘর থেকে)
- একটু এদিকে আসবে?
- না, পারবো না, চুলায় রান্না বসানো..(রান্নাঘর থেকে)
- আমার ঘড়িটা কই?
- ভালো করে দেখো টেবিলে রাখা আছে........
- কই পাচ্ছিনা তো..
( আব্দুল ভালো করেই দেখতেছে ঘড়িটা টেবিলের উপর রাখা, নীরা কে সকাল থেকে একবারও দেখেনি সে, রান্নাঘরে গেলে ইচ্ছামত বকবে,তাই তাকে রুমে আনার সহজ প্রক্রিয়া চালাচ্ছে, এখন তো নীরা না এসে পারবেনা)
- হুম, এখন বলো ( ডানহাতে চামচ, বাম হাতে কপালে আসা চুল গুলো কানে গুজে দিয়ে বললো)
- আসলে সারা ঘর খোঁজছি, কোথাও আমার ঘড়ি টা পাচ্ছিনা, তুমি দেখছো?
- এটা কি? (ডান হাত থেকে বাম হাতে চামচ টা বারবার হাত বদল করছে, মনে হচ্ছে এইবুঝি মেরে দিল এক গা)
- বাহ্, তোমার হাতে জাদু আছে, চটকরে পেয়ে গেলে তুমি.!
- তাই বুঝি? আমাকে না দেখলে সকালের নাস্তা হজম হয়না?
- হয়না তো নাক বুচি। (একহাত দিয়ে চামটা ধরে, আরেক হাতে জরিয়ে ধরে)
- তোমাকে কতবার বলছি আমাকে নাকবুচি বলবানা, আরেকবার বললে মারবো, খুব মারবো।
- মারবেনা আমি জানি, কারণ তুমি চোখে কাজল দাওনি।
- হইছে হইছে পাকামো বাদ দিয়ে অফিসে যাও, না হয় মেয়ের সামনে মেয়ের বাবাকে মারবো।
- ওহহো, যাচ্ছি.... (লাবিবার গালে আলতো আদর দিয়ে আব্দুল অফিসে চলে গেলো....)
.
- আম্মু..(লাবিবা)
- বলো আম্মু..(নীরা)
- এদিকে তাকাও তো..
- হুম, তাকালাম...
- ডানে তাকাও..
-..........
- বামে তাকাও...
- হুম তাকালাম.. (!)
- নাক তো ঠিকই আছে, যথেষ্ট পরিমাণ খারা,
- তো..(!) ( খানিক টা অবাক হয়ে)
- তাইলে আব্বু তোমাকে বারবার নাকবুচি বলে ডাকে কেনো?(মুখে হাত দিয়ে ভাবছে)
- ওরে পাজি, এতক্ষণ ধরে এই গবেষণা করতেছো তুমি..দাঁড়াও দেখাচ্ছি মজা....
- তুমি মারতে পারবানা...কারণ তুমি চোখে কাজল দাওনি...
- হুহ্, যেমন বাপ-তেমনি তার বেটি....
(নীরার এমন অবস্থা দেখে লাবিবা মিটিমিটি হাসছে..)
.
সব বাপের টা পাইছে..কেনো যে সেদিন ওর প্রস্তাবে রাজি হইছিলাম, কাউকে শাসন করতে হলেও নাকি চোখে কাজল দিতে হবে?আজ আসক বাড়িতে, একবালতি কাজল খাইয়ে দিব।
(কথা গুলো বলতে বলতে নীরা রান্নাঘরে ঢুকছে)
- কিরে নীরা, আমার সোনারচান, এত খেপছো কিসের জন্য? তাইলে কি ধরে নিবো আজও তোরা ঝগড়া করছিস? (ভাবী)
- রাখো তোমার ধরাধরি, আজ আসুক তিনি, আজকে বাপ-বেটু দুজনের খবর আছে....
- খবর করার আগে চোখে কাজল দিয়ে নিও নাহয় তোমার দামী খবর ফালতুতে পরিণত হবে, কোনো দাম থাকবেনা।
- ভাবী তুমিও..(!) দেথ আমি আর কিছুই বলবো না। আমি আম্মুর কাছে চলে যাব।
- ইসরে... আমার বোন টাকে আজকে বেশি রাগিয়ে ফেলছে সবাই..
.
.
ডিংডং.....ডিংডং....ডিংডং.......
(সেই কখন থেকে কলিং বেল টা বাঁজতেছে, কেউ দরজা খুলছেনা)
- নীরা.....ও নীরা(ভাবী)
-.........
কে শুনে কার কথা,আব্দুল এর জন্য অপেক্ষা করতে করতে খাবার টেবিলে ঘুমিয়ে পরছে মেয়েটা, শেষমেশ বাধ্য হয়ে ভাবী এসে দরজা খুললো....
- কি হল? তুমি দরজা খুললে যে?নীরা কই?(আব্দুল)
- নিজের চোখে দেখে নাও (এই বলে ভাবী চলে গেল)
আজ মনে হয় বেশি কষ্ট দিয়ে ফেলছি নাক বুচি টাকে, কষ্ট তো লাগবেই, এত সুন্দর মেয়েটাকে নাকবুচি বলে ডাকলে না রেগে উপায় আছে..
আব্দুল নীরার মায়াবী চেহারা টা দেখছে আর হাসছে....
- কি হল? তুমি কখন আসছো? আর হাসছই বা কেনো?(নীরা)
-....... (কথার উত্তর না দিয়ে হাসছে)
- এবার কিন্তু অনেক রাগ হচ্ছে...(কড়া গলায়)
- ১মিনিট, একটা ছবি তুলে নেই, তারপর হাসার কারণ টা তুমি নিজেই জানবে...
- এবার কিন্তু সত্যি সত্যি মারবো।
- নাও দেখো..
- ছিঃ ছিঃ এটা আমি..(!)
- না এটা আমার কাজলওয়ালী.
নীরা সচরাচর চোখে কাজল দেয়না, বিশেষ দিন ছাড়া,আমাদের বিয়ের প্রথমরাতে মানে বাসররাতে ওরে কয়েকটা শর্ত দিছিলাম,
✋- মা-বাবা কে কষ্ট দেওয়া যাবেনা,
✋- সবসময় তাদের সেবা করতে হবে,
✋- ভাইয়া/ভাবী কষ্ট পায় এমন কাজ যেন না করে।
✋ সবসময় নামাজ আদায় করতে হবে,
✋কোরআন পড়তে হবে,
✋ চোখে কাজল দিতে হবে,
✋ চোখে কাজল দেওয়া ছাড়া কাউকে শাষণ করতে পারবেনা।
সে সবশর্ত মেনে নিছিলো এবং বলছিল বিশেষ দিন ছাড়া কাজল দিবে না।
আব্দুল সেই বিশেষ দিন টার খুঁজকরতেছে, কি এমন বিশেষ দিন আজকে?
.
অফিস থেকে এসে ফ্রেশ হয়ে বারান্দায় বসে বই পড়ছে আব্দুল, ইদানীং সে সুযোগ পেলেই বই পড়ে,
নিয়ন আলোয় সে বই পড়ছে, এমন সময় নীরার আগমন, এসেই আব্দুল এর চেয়ার এর কিছু অংশ দখল করে এবং আব্দুল এর ঘারে মাথা রাখে...
নীরা যখন বেশি কষ্ট পায় তখন এই কাজ টা করে...
- আচ্ছা, তোমার কি আজকের দিন টার কথা আসলেই মনে নাই? (নীরা)
- নাহ, কেনো বলতো?(আব্দুল)
- আজকে আমাদের ৮ম বিবাহবার্ষিকী।
- হুম, তাতে কি?
- তুমি আমার জন্য কিছুই আননি কেনো?
- একটু চোখ দুটু বন্ধ করো তো।
- যাতে করে তুমি ফাকি দিতে পারো?
- আহা,এতকথা কিসের? বন্ধ করতে বলছি বন্ধ করো।
- করছি...
(আব্দুল রুম এ চলে গেলো, আবার আসলো)
- এবার চোখ খুলে,
- ওয়াও, চকলেট?বেলীফুল? আমার জন্য?
- নাহ, এখন রাত, রাতে হিমুরা রাস্তা হাটে তাদের জন্য চকলেট, আর ফুল গুলো তাদের রূপার জন্য।
- তারমানে তোমার সবকিছু মনে আছে?
- এই বিশেষ দিনটা কি কেউ ভুলতে পারে?
- যাও তোমার সাথে কোনো কথা নাই (অভিমানি কণ্ঠে)
- কেনো?আমি আবার কি করলাম?
- তুমি আমায় আগের মত শাষণ করোনা (এই বলে নীরা তার চোখের সব কাজল আব্দুল এর টি-শার্টে লাগিয়ে দিল)
- তাইলে তো আজকে শাষণ করতেই হবে.....
এভাবে চলতে থাকুক আগামী দিন গুলো, ভালোবাসায় মেতে থাকুক তাদের সংসার লাবিবা কে নিয়ে।
........................

Post a Comment

Previous Post Next Post