শিরোনামটা দেখে হাসি পেলেন তো! ভাবছেন শীতে গোসল না করার উপকারিতাও আছে? হ্যাঁ, বেশ ভালো উপকারিতা আছে। কতলোক যে, গোসল না করে নানাভাবে গিনিস রেকর্ড বুকে নাম উঠিয়েছে, তার যে কোনো ইয়ত্তা নেই। আর সম্প্রতি বাংলাদেশি এক মুভির জন্য এক অভিনেতা টানা কয়েকদিন ধরে গোসল করে নি। তবে শীতকালে গোসল না করার উপকারিতা একটু অন্য রকমের। বিশেষ করে যারা ঠান্ডাকে খুব ভয় পায়। গোসলের কথা উঠলেই যাদের পানির কাছ থেকে ছুটি নিতে হয়। তাদের জন্য একটু আনন্দের খবর। যদিও লেখাটা শুধু আনন্দের উদ্দেশ্যেই লেখা এবং এর বৈজ্ঞানিক ভিত্তিও আছে। তাহলে আর মনের আকমচাকম না বাড়িয়ে জেনে নিই শীতে গোসল না করার উপকারিতাগুলো।
শীতে গোসল না করার ৫টা দারুণ উপকারিতাঃ
১. বার বার গোসল করা লাগে নাঃ
শীতে তো এমনিতেই কাহিল অবস্থা তার ওপর আবার মোটাসোটা কাপড়চোপড় ফেলে গোসল করা। ভাবলেই কেমন যেন লাগে তাই না? গরমে গোসল না করলে গা আওলিয়ে উঠে কিন্তু শীতে ঠিক এর উল্টোটা লাগে। তবে কেয়ারিং মানুষজন তীব্র শীতেও গোসল দিতে ভুলে না এবং নিয়মিত গোসল করলে কেউ তাকে নোংরা বলে না। তাছাড়া নিয়মিত গোসল করলে নিজেকে সতেজ লাগে এবং কাজে বেশ মনোযোগ পাওয়া যায়।
২. পানির অপচয় রোধ করা যায়ঃ
গরমের সময় ঠান্ডা পানি আর শীতের সময় গরম পানি দিয়ে ইচ্ছে মতো গোসল করা হয়। কিন্তু আমরা বুঝে না বুঝেই অপচয় করি। এক গবেষণায় জানা গেছে, প্রায় লোক গোসলের সময় ৫৫ লিটার পানি খরচ করে। এতে করে কিন্তু আমরা পানির অনেক অপচয় করে ফেলি। এখনো বাংলাদেশের অনেক জায়গায় বিশুদ্ধ পানি পাওয়া খুব মুশকিল। তাই শীতের সময় কম গোসল করায় একদিক দিয়ে আপনি কিন্তু পানির অপচয় কমিয়ে দিচ্ছেন। ব্যাপারটা দারুণ না?
৩. ভালো ভালো ব্যাকটেরিয়াগুলো শরীরে রাখা যায়ঃ এ-ই উপকার জানার আগে জেনে নেই ব্যাকটেরিয়া আসলে কি জিনিস? ব্যাকটেরিয়া হলো আণুবীক্ষণিক জীব অর্থ্যাৎ আপনি খালি চোখে একে দেখতে পাবেন না, দেখতে হলে আণুবীক্ষণিক যন্ত্র তথা অতি ক্ষুদ্র জিনিস বড় করে দেখার যন্ত্র দিয়ে দেখতে হবে। এ-ই ব্যাকটেরিয়া শরীরে যতক্ষণ থাকে ততক্ষণ ত্বককে সুরক্ষা করে। আপনি যখন গোসল করেন তখন ভালো ব্যাকটেরিয়াগুলো শরীর থেকে ঝরে যায়।
৪. নখের ক্ষতি কমানো যায়ঃ
গরম পানিতে গোসল করলে আঙ্গুলের নখের বেশ ক্ষতি হয়। বিশেষ করে গোসল করার সময় নখ পানি শোষণ করে এবং এ-ই কারণে নখ তার প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হারায় এবং শুষ্ক হয়ে যায়। এর সাথে সাথে নখ বড়ও হয় এবং নখগুলোও দুর্বল হয়ে যায়।
৫. ত্বককে রুক্ষ-শুষ্ক হওয়া থেকে বাঁচানো যায়ঃ
শীতের সকালে গরম পানি দিয়ে গোসল করলে কিছুক্ষণের জন্য ভালো লাগলেও ক্ষতির পরিমাণটাই বেশি। এতে করে আপনার ত্বক শুষ্ক হয়ে যায় এবং আপনার শরীরের প্রাকৃতিক তৈলাক্ত কমে যায়। তাই শীতের ভয়ে গোসল না করলে ত্বক থাকে সুরক্ষিত। তবে বেশিদিন গোসল না করে থাকবেন না। গরম পানিতে গোসল করলে সাবান আর শ্যাম্প দিয়ে গোসল করার চেষ্টা করবেন আর গোসলের সময় ১০ মিনিটের বেশি স্থায়ী করবেন না।
শেষকথা
কথায় আছে না মন্দের মধ্যেও ভালো কিছু পাওয়া যায়। কিন্তু তাই বলে মন্দ জিনিসটারে অভ্যাসে পরিণত করবেন না। আমাদের অনেকের কাছেই শীত আলসেমির ঋতু নামেই অধিক পরিচিত এবং সেই সাথে তুলনামূলক বেশিদিন ধরে গোসল না করারও ঋতু। তবে কনকনে শীতে কিছুদিন গোসল না করলে একদিকে যেমন মনে শান্তি শান্তি লাগে অন্যদিকে আপনার শরীরের উপকারও হয়। তবে অবশ্যই একটানা এ-ই অভ্যাস গড়ে তুলবেন না।
إرسال تعليق