অনেক দিন ধরে মেয়েটাকে দেখে আসছি।
কোনদিন এভাবে লক্ষ করেনি,মেয়েটা যে
এত সুন্দরি। ধীরে ধীরে মেয়েটাকে ভাল
লাগতে শুরু করল,কখন যে প্রেমে পড়ে গেলাম
নিজেই জানিনা। এই প্রেমে পড়ার সুত্র ধরেই
একদিন সিদ্ধান্ত নিলাম প্রোপোজ করব।
কিন্তু কোথা থেকে শুরু করব সেটাই ভেবে
পাচ্ছি না। অতঃপর বন্ধু তানভীরের সাথে
মনের কোনে জমে থাকা প্রেম নামের
বিষাক্ত কুরু ক্ষেত্রটাকে শেয়ার করলাম।
.
আমি ভদ্র টাইপের হওয়াই সরাসরি কোন
মেয়ের সাথে কথা বলার সাহস পায়না।
সাইকেলের ক্রিং ক্রিং শব্দে আমি আর
তানভীর সামনে এগিয়ে যাচ্ছি মনের মাঝে
হাজার ভয় নিয়ে। তানভীরের ডাকে সম্বতি
ফিরে পেলাম দেখলাম যে মেয়েটা আসছে
কিন্তু তার সাথে তার বান্ধুবীরাও আছে।
.
কাছে যাওয়ার আগ মুহুর্ত শত চেষ্টর পরও তার
দিকে তাকাতে পারলাম না। ওদের অতিক্রম
করেই একটু দূরে দাড়ালাম কাছে গিয়ে কথা
বলার সাহস পাচ্ছি না।বন্ধুর অনুরোধে তাদের
সামনে দিয়ে আবার সাইকেল চালিয়ে
গেলাম,এখনও কিছু বলতে পারলাম না। খুব
ইচ্ছে হচ্ছে বলার জন্য ভালবাসি কথাটি
কিন্তু ভয় নামক জিনিসটা বার বার আটকে
দিচ্ছে। আর বন্ধুর গালাগাল (ভিতুর ডিম)
নীরবে সয়তে হচ্ছে। যাইহোক আজকের মত
বাড়ি ফিরলাম।
.
__________২য় দিন___________
.
আজ একটু সকালেই ওঠে পড়লাম। ওঠেই
আয়নার সামনে গেলাম। আমি চেহারা নিয়ে
এত সতর্ক নয় কিন্তু আজ অন্য রকম লাগছে
ইচ্ছে করছে একটু সুন্দর হওয়ার জন্য ময়দা
মাখি। শুনলাম প্রেমে পড়লাম নাকি তালগাছ
পর্যন্ত ওঠতে পারে মনে হচ্ছে আমার
অবস্থাও তাই।
.
স্যারের পড়াগুলো কানে ঝিঁঝিঁ পোকার মত
লাগছে,মনটা পরে আছে সেই রাস্তায়।
সারাটা রাত ঘুম হয়নি,নির্ঘুম চোখ শুধু
মেয়েটাকেই খুচ্ছছিল। আজ একটু তাড়াতাড়ি
প্রাইভেট থেকে চলে আসলাম।
.
অনেকক্ষন ধরে রাস্তায় দাড়িয়ে আছি।
এখনও আসছেনা আমার ঘুম কেরে নেওয়া সেই
মাধবীলতা। মনের মাঝে হাজারও স্বপ্নের
বীজ বুনতে থাকল,কখন আসবে। আর খুড়ে খুড়ে
খাচ্ছে প্রতিটি মূহুর্ত। ভাবনার ছেদ ঘটিয়ে
আমার হিসু পেল।
.
হিসু করার সময় ও আমি ভাবলেসহীন হয়ে পড়ি
কখন যে শেষ হয়ে গেল বুঝতে পারিনি। হঠাৎ
তানভীর ডাক দিল "রাকিব" তাড়াতাড়ি আয়
ওরা আসতেছে। ওহ! বলাইত হয়নি যে আমার
নাম রাকিব। দৌড়ে গিয়ে দেখলাম সে
আসছে সাথে বান্ধুবীরাও। কি করব ভেবে
পাচ্ছি না
.
আমাদের পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছে, শত
চেষ্টার পর আমি বোকার মত ২/১ বার
তাকালাম। আহ! কি অপূর্ব মনে হয় যেন
অপ্সরী। তানভীর তাড়াতাড়ি একটা কাগজ
দিয়ে বল্ল কিছু লেখ। কি লিখব বুঝে ওঠতে
পাড়তেছিনা। আমার আবার বাংলায়
ভালবাসি কথাটা বলতে ভিষন লজ্জা করে।
তাই সিন্ধান্ত-অসিন্ধান্তের উপর ভিত্তি
করে ইংরেজীতে কয়েকটি বাক্য
লিখলাম:-----
' I don't know that r u love me but I love u. if u
want to love me,I will be running my love with u.
এক খন্ড কাগজে লিখে দেওয়ার জন্য কাছে
গেলাম।
.
কিছু বলার সাহস না পেয়ে সামনে কাগজটি
ছুড়ে দিলাম। দ্রুত সেই স্হান প্রস্থান করলাম।
মনে হচ্ছিল হৃদপিন্ড বেরিয়ে আসবে। অতএব
উওরের জন্য অপেক্ষায় রইলাম।
.
_________৩য় দিন________
.
আজ আর প্রাইভেটেই গেলাম না। সেই সকাল
থেকে তানভীরকে নিয়ে রিক্ত হস্তে
দাড়িয়ে রইলাম। পরক্ষনে দেখতে পেলাম।
"নাদিয়া" কে আজ অন্যরকম লাগছে,আজ একটু
সাজুগুজো। অনেকেই ভাববেন নামটা এত
শেষে কেন?অনেক গোয়েন্দা লাগিয়ে
নামটা সংগ্রহ করলাম।
.
বারাবরেই মতই সবায় একসাথে আসলেও
নাদিয়ে আজ একটু পিছনে। আমার পাশ
কাটিয়ে চলে যাওয়ার আগ মূহুর্ত এক দৃষ্টিতে
তাকিয়ে রইলাম। লজ্জা সরম আজ যেন
কোথায় হারিয়ে গেল,আমি সেই ভদ্র রাকিব
নেই।
.
নাদিয়ার উওরের জন্য খুব কাছে গিয়ে
দাড়ালাম উওর দিল না। আমি খুব কষ্ট
পেলাম,তবে কী সে আমাকে ইগনোর করল
নাকি অন্যকিছু বুঝতে পারলাম না।
তানভীরের কৌশলে জানতে পারলাম
নাদিয়ি চিঠিটা বুঝতে পারেনি কিভাবে
বুঝবে?সেত মাত্র ক্লাস ৬ এ পড়ে। তাই আজ
এক খন্ড কাগজে নয় লাভ লিটার লিখে
সরাসরি হাতে দিব।
.
বই খাতা কিছুই নেই,পকেটে হাত দিয়ে দেখি
একটা কলম। আমি একটা কলা পাতা ছিড়লাম,
কলা পাতায় খুব তাড়াহুড়ো করে লিখলাম
'নাদিয়া তোমাকে অনেক ভালবাসি'।
.
কলাপাতাটা নিয়ে সরাসরি সামনে গেলাম।
কলাপাতাটা হাতে দিলাম বল্লাম 'প্লিজ
উওরটা হ্যা বোধক চায়। একটু পিছিয়ে এসে
ভাবতে লাগলাম হয়ত আমাকেই ভালইবাসবে
কিন্তু তানভীরের হাসি দেখে আবার ওদের
দিকে তাকালাম। একি!!!!!!!!!!!
আমার জীবনের মহামূল্যবান প্রথম
প্রপোজটাই পানিতে ভেসে গেল।
-
_________সমাপ্ত ________

Post a Comment

Previous Post Next Post