নিরব এর কাল কলেজের প্রথমদিন
তাই আজ আর তার ঘুম আসতেছে না, কি জানি কি হবে,
তাই নিরুপায় হয়ে শুয়ে কল্পনা করতে লাগলো নিরব ""
কালকে কলেজে যাবে । সব নতুন মুখ। চেনা বলতে
কেউ নেই। অচেনা কলেজ, অচেনা ছেলে মেয়ে, ভাবতেই গা কেমন শিরশির করে উঠছে নিরবের। কিন্তুু হঠাৎ করেই কোন এক সময় খুব পরিচিত হয়ে যাবে, এই সব অচেনা ছেলে মেয়ে । হয়ত কোন এক সময় এরাই হবে সব থেকে কাছের মানুষ,( বন্ধু) যাদের ছারা বেচে থাকাই কল্পনা করা যাবে না,
আবার হঠাৎ করেই হারিয়ে যাবে সবাই, যে যার যার মত ব্যস্ত হয়ে যাবে এই ইট বালু সিমেন্ট এর শহরে।
আর শত ব্যস্ততার মাঝে যখন পরবে মনে, তখন চোখের কোনে দুফোটা অশ্রু ছারা আর কিছুই পাওয়া যাবে না।
কি আজব দুনিয়া, ভাবতেই কেমন যেন লাগে,
এরকম আজব আজব চিন্তা ভাবনা করতে করতে কখন যে ঘুমিয়ে গেছি সেটা আর বলতে পারব না,
সকাল নয়টাঃ এই নিরব এই উঠো নয়টা বাজে কলেজে যাবে না,
কি???
হ্য তারাতারি উঠে ফ্রেস হয়ে নাও, আমি নাস্তা দিচ্ছি,
আচছা খালামনি একটু তারাতারি কর, ?
নাস্তা সেরে, কলজের উদ্দেশে হাটছি, আর আনমনে
ভাবছি, কি জানি কি হবে, একবার মনে হচ্ছে দৌরে পালিয়ে যাই, আবার মনকে সায় দিয়ে বলছি একদিন গেলে সব ঠিক হয়ে যাবে, যাই তো। (আমার মতো কিছু এরকম ছেলে আছে যারা অনেক ভিতু টাইপের হয়।যারা ১ম দিন কলেজে যেতেও ভয় পায়।)
হাটতে হাটতে একটা রিকশা পেয়ে যাই, রিকশা উঠে বসলাম, বুকের মধ্যের ধুকধুকি টা আরো বেরেছে,
কিছুতেই কমছে না, কি আজব। আর আনমনে ভেবেই চলেছি আবল তাবল।
রিকশাওয়ালা চাচার ডাকে বাস্তবে ফিরলাম, বাজান এই তোমার কলেজ নামবে না,
হ্ চাচা থামাও,
চাচার ভাড়া দিয়ে, কলেজে দিকে তাকিয়ে দেখছি, অনেক বড় কলেজ অনেক সুন্দর, আসলে তথ্য প্রযুক্তির কারনে, আমাকে আর কলেজ পযন্ত আসতে হয় নি, আমাদের গ্রাম থেকেই ভর্তি হতে পেরেছি এই কলেজে।
কলেজে ঢুকলাম কিছুই চিনি না কি করব, বুঝতেই পারছি না, ক্যামপাসের মধ্যে দিয়ে হাটছি অযথা টেনশন করছি। অনেকেই ক্যামপাসে বসে আড্ডা দিচ্ছে, কি আজব ছেলে মেয়ে, টেনশন বলতে কিছুই নেই, আর আমার হুদাই টেনশন হয়,
হাটতে হাটতে আমাদের ক্লাস রুমটা পেয়ে গেছি, ভিতরে ঢুকলাম, দেখি অনেক ছাএ, সবাই হই হুল্লোর করছে, একজন আরেক জনের সাথে পরিচিত হচ্ছে, (মনে মনে ভাবছি, এরা এতো তারাতারি কিভাবে মিসতে পারে? )
আমি গিয়ে পিছনের এক সিটে বসলাম, যে সিটে কেউ নেই, অনেকসময় বসে আছি, কেউ কোন কথা বলছে না আমার সাথে ,,, এবার নিজেকে এলিয়েন এলিয়েন লাগছে? সাধারণত এলিয়েন দের সাথে মানূষ কথা বলে না, কারন এলিয়েনদের কথা মানুষ বুঝতে পারে না।।। তাই নিজেকেও এলিয়েন মনে হচ্ছে। হঠাৎ একটা ছেলে পাশে এসে বসল,
হাই আমি অর্নব,
আমি নিরব,
পরিচিত হলাম অর্নব এর সাথে,ওর বাসাও পাবনা।
ভালোই হলো, একজন নিজ শহরের বন্ধু তো পেলাম,
পাবনার ছেলেদের জন্য একটু সমস্যা পাগলা গারদ।
কারন এই পাগলা গারদের কারনে সবাই পাবনার ছেলেদের পাগল বলে। আসলেই কি তাই, আমরাই তো পাগল ভালো করি, সে জন্য আমরাই পাগল। কি আজব দেশে আজব মানুষের সাথে বাস করি,,, আমি আর অর্নব দুজন এক সাথেই ঘুরছি, আর কলেজটা ঘুরে ঘুরে দেখছি, ভালই লাগছে, কলেজ শেষ করে বাসায় চলে আসলাম,
এখানে খালমনির বাসায় উঠেছিলাম , আজ ম্যাচে উঠছি, অর্নব ই ম্যাচ টা ঠিক করে দিয়েছে, এই ম্যাচে ওরা কয়েকজণ থাকে,সবার সাথে পরিচিত হলাম। এখন ভালোই লাগছে, নতুন কিছু বন্ধু পেয়ে,
রাতের বেলা সবাই মিলে আড্ডা দিলাম অনেক রাত ভোরে অনেক মজা হল, অনেক বন্ধু থাকলে রাত ভোরে আড্ডা না দিলে তেমন মজা পাওয়া যায় না,
সকালে কলেজেরর কথা চিন্তা করে ঘরির এর্লাম টা দিয়ে শুয়ে পরলাম।
, র্কিরিং র্কিরিং,র্কিরিং,
ধ্যত ঘুমটাই ভেঙে গেল, সকাল বেলা এই এর্লাম টা না বাজলে হত না, ঘুমটাই ভেঙে গেল। এর্লাম টা অফ করে আবার ঘুমানোর যেষ্টা করলাম। কিন্তু কাজ হলো না , ঘরিটার উপর খুব মেজাজ গরম হচ্ছে, (রাতের বেলা নিজেই এর্লাম দিয়ে সকাল বেলা মেজাজ গরম হওয়া এটা আমার মত কিছু ছেলের বদঅভ্যস)
উঠলাম উঠে ফ্রেস হয়ে নাস্তা করে, আমি আর অর্নব কলেজের উদ্দশ্যে
রওনা দিলাম, আজকে আর কলেজে যেতে খারাপ লাগছে না, ভালোই লাগছে, দুজন এক সাথে হাটছি আর গল্প করছি। ,ক্লাসে বসে আছি, আমাদের পাশের সিটে একটা মেয়ে বসছে অনেক সুন্দর, আর অনেক চন্চল একটানা কথা বলেই যাচ্ছে ওর পাসে বসা মেয়েটার সাথে, এরা যে কি করে এত কথা বলে আমার মাথাই আসে না, মনে হয় হুমায়ন আহমেদ গল্পও এর কাছে কিছুই না। এতহ্মন হয়ত শেষ হয়ে যেত, কিন্তু এদের গল্প এখনো শেষ হয় নি। আমি মেয়েটার দিকে আনমনে তাকিয়ে তার কথা বলা দেখছি। কি রকম মুখ বাকা বাকা করে কথা বলে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে আমার দিকে তাকাতেই আমার চোখে তার চোখ পরছে, এতে মেয়েটা কিছুটা বিব্রত হচ্চে, আবার কথা বলেই যাচ্ছে, আমি ছাড়ার পাএ নই, তাকিয়েই আছি "এবার মেয়েটা আমার দিয়ে তাকিয়ে দাঁত কটমট করছে, মনে হচ্ছে আমায় চিবিয়ে খাবে,? কি সাংঘার্তিক মেয়ে রে বাবা, এমন করে কেউ তাকায়, এখন তাকাতেই ভয় করছে,
তাই চুপি চুপি তার দিকে তাকাচ্ছি , এর মাঝেও কয়েকবার ধরা খেয়ে গেছি। তার কাজল কালো ড্যবড্যবে চোখের কাছে,
ক্লাস শেষ তারাতারি করে বেরিয়ে আসলাম, আবার যদি মেয়েটা কিছু বলে সেই ভয়ে, । এখনকার মেয়েদের দিয়ে এখন আর বিশ্বাস নেই, দুচারটে বখাটে মেয়ে নিয়ে এরাও রাজনীতি শুরু করেছে, কলেজে আসার সময় একটা ছাএী নেতার ছবি দেখলাম, এই মেয়েটাও যদি সেরকম হয়, আমার জানা মতে যারা রাজনীতি করে তারা একটু কথা বেশিই বলে। তাই সন্ধেহ হচ্চে,
যাক ম্যাচে তো চলে এসেছি এখন আর কোন ভয় নেই, খাওয়া দাওয়া সেরে গেম খেলতে বসে পরলাম,
গেম খেলতে আমার খুব ভালো লাগে, এই ক্লাস অফ ক্লিন গেমটা দুই বছর যাবৎ খেলছি একটুও বিরক্ত লাগেনি, বরং আগ্রহ বেড়েছে, মানূষ গেম তৈরি করে টাকা কামায়, আর আমরা টাকা দিয়ে গেম খেলি, কি আজব মানুষ আমরা,?
আজ দুদিন পরে কলেজে এসেছি ঐই মেয়টার ভয়ে
যদি কিছু করে দেয়, (আমার মত ছেলেরা একটু ভয় পায়,,,)
ক্যামপাসে দারিয়ে আছি, হঠাৎ ঐই মেয়েটা, সাথে আরো দুটো মেয়েও আছে। এদিকেই আসতেছে,
আমার তো পা কাপা শুরু হয়ে গেছে, এটা আমার ছোট বেলার অভ্যাস ভয় পেলেই পা কাপে, কোন উপায় না পেয়ে সামনের দিকে হেটে পালাচ্ছি।
, এমন সময় এই শুনুন,
না শোনার ভান করে আরো জোরে হাটছি,,,
এই যে আপনাকে বলছি,,,শুনুন
জ্বি আমাকে,,?
হ্যা আপনাকে দাড়ান,
মহা বিপদে পরে গেলাম, এই ক্যামপাসের মধ্যে যদি আমাকে মারে তাহলে তো মান সম্মান বলে কিছুই থাকবে না, চিন্তা করতেই পায়ের কাপুনিটা আরো বেরে গেছে, ( যার কারনে দুইদিন পরে কলেজে আসলাম)
এই যে পালাচ্ছেন কেন??
কই না তো পালাচ্ছি না তো,
ও তাই।
হুম পালাবো কেন?
হুম। সেদিন আমার দিকে ওভাবে তাকালেন কেন?
কই না তো আমি তো তাকাই নি,,,
মিথ্যা কথা বল্লে কিন্তুু মাথা ফাটাইয়া দিমু?আর সত্যি কথা বল্লে ছেরে দেব,
আসলে আপনার কাজল কালো চোখ,আর রেশমি চুলের মায়ায় পরে গেছিলাম তাই একটু তাকাইছিলাম, (আমি শুনেছি মেয়েদের রূপের প্রশংসা করলে নাকি মেয়েদের মন নরম হয়ে যায়, সে চেষ্টাই করছি)
কী????
হুম, সত্যি কথা বলছি। এবার ছেরে দেন,ক্লাসে যাবো?আর কোন দিন তাকাবো না।
হুম এবারকার মত ছেরে দিলাম? যান।
দৌরে চলে আসতেছিলাম, মেয়েটা আবার ডাক দিল,
এই শুনুন,
জ্বি,
আপনার নাম কি?
জ্বি নিরব!
বাসা কোথায়?
পাবনা,
ও সে জন্যই, একটু পাগল পাগল টাইপের?
এই শুনুন পাবনায় পাগল বাস করে না, সারাদেশের পাগলের চিকিৎসা পাবনায় হয়!
ও তাই নাকি?
হ্যা! আসি, বলেই চলে ম্যাচে চলে আসলাম।
রুমে শুয়ে শুয়ে ভাবছি, এত সুন্দর একটা মেয়ে, অথচ মনে রাগ ভরা, কথা বলতেই ভয় লাগে, এমন কেন মেয়েটা, ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পরেছি,,
সকালে উঠে ফ্রেস হয়ে কলেজে আসলাম, ক্লাসে বসে আছি, মেয়েটা দিকে তাকাতেই দেখলাম, মেয়েটা আজ অনেক মোটা করে কাজল নিয়ে কলেজে এসেছে, দেখতে অনেক সুন্দর লাগছে।
আজ মেয়েটা বার বার আমার দিকে তাকাচ্ছে
আমি না দেখার ভান করে বসে আছি, এবার আমি আরচোখে তাকিয়ে দেখি মেয়েটা সেদিনের মত দাত কটমট করে তাকিয়ে আছে আমার দিকে মনে হয় আস্ত গিলে ফেলবে আমায়। (এসব মেয়েদের দিয়ে বিশ্বাস নেই গিলেও ফেলতে পারে, রাগের কারনে।
এসব মেয়েদের রাগ খুব সাংঘার্তিক!!)হয়ত তার দিকে তাকাই নি সে জন্যা।
ক্লাস শেষ ক্যামপাসে বসে আছি, হঠাৎ মেয়েটার আগমন, এই যে মিষ্টার কি খবর?
এই তো ভালো, আপনার কি খবর,
ভালো না।
কেন??
আজকে আমাকে খুব পচা লাগছে তাই না?? সেজন্য একবার ও আমার দিকে তাকান নি তাই তো?
আরে কি যে বলেন আজকে আপনাকে একদম পরির মত লাগছে, আর আপনেই তো তাকাতেই মানা করছেন। সে জন্য তাকানোর সাহস পাই নি।
(মনে মনে ভাবছি,কি বেপার মেয়েটার মতিগতি তো কিছুই ভালো লাগছে না। নাকি মেয়েটা, আমার প্রেমে পরে গেছে ভাবতেই কি রকম যেন লাগছে ??)
আচছা আমার দিকে তাকাতে পারেন। তবে একটা শর্তে?
কি শর্তে??
আপনার ফোন নম্বর টা দিতে হবে (মনে হচ্চে চাঁদ হাতে পেলাম)
আচ্ছা,
আচছা আপনার কিন্তু নামই বলেন নি,
আমার নাম নিলা, বাসা কলেজের পাশেই,,
আজকে থেকে তাহলে আমরা ফ্রেন্ড ওকে,(নিলা)
ওকে ডান, এরপর ওখানেই বসে অনেক কথা হয় দুজনের,
রাতে নিরব শুতে যাবে এমন সময় নিলার ফোন
হ্যালো নিরব,,,
হ্যা নিলা কেমন আছো!!
ভালো তুমি,
ভাল,,,,এভাবেই চলতে থাকে তাদের বন্ধুত্ব,
একদিন নিলা বসে আছে ক্যামপাসে, নিরব আসে নি, তাই ক্লাস করছে না, এমন সময় খেয়াল করল নিরব একটা মেয়ের সাথে ঘুরছে, হেসে হেসে কথা বলছে, এসব দেখে নিলা তো হ্মেপে আগুন হয়ে গেছে, যাকে এতো ভালোবাসে সে কি না আরেক জনের সাথে প্রেম করছে, না এটা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না, নিলা এখন ভাবছে নিরব কে সে খুন করবে,,,? তাও অন্য কারো হতে দিবে না, কিন্তু ভালোবাসার মানুষকে তো আর কষ্ট দেওয়া যায় না, তাই
নিলা বাসায় গেছে গিয়ে অনেক কান্না করছে, এমন কি হাত কেটে নিরবের নাম ও লিখছে,
পরেরদিন কলেজে যায় নি নিলা,, নিরব চেষ্টা করেছে ফোন দেওয়ার, কিন্তু ফোর বন্ধ,
এমন সময় অর্নব এর ফোন,, হ্যালো নিরব
হ্যা বল?
তারাতারি হসপিটালে আয়, নিলা হসপিটালে,,
কি,, আমি এখনি আসতেছি?
নিরব হসপিটালে গিয়ে দেখে নিলা শুয়ে আছে হাতে ব্যন্ডেজ,
অর্নব এর কাছ থেকে শুনতেই জানতে পারে তার হাত কাটার কারন?
নিরব নিলার কেবিনে ঢুকতেই, দৌরে এসে জরিয়ে ধরে নিলা, আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি নিরব, আমি তোমাকে হারাতে চাই না, অনেক অনেক ভালোবাসি তোমায় নিরব,
আমিও তোমাকে অনেক ভালোবাসি নিলা শুধু বলতেই পারি নি এতদিন,,,, আর কালকে যাকে আমার সাথে দেখছ,,,,
নিরবের কথা আটকে নিলা, বল্ল আমি জানি অর্নব আমাকে সব বলেছে, ওটা তোমার ছোট বোন তাইতো
হুম,
আবার জরিয়ে ধরে কপালে একটা ভালোবাসার ছোট চুমো একে দিল নিরব।
বেচে থাকুক ওদের এই ভালোবাসা,,,,,,,
তাই আজ আর তার ঘুম আসতেছে না, কি জানি কি হবে,
তাই নিরুপায় হয়ে শুয়ে কল্পনা করতে লাগলো নিরব ""
কালকে কলেজে যাবে । সব নতুন মুখ। চেনা বলতে
কেউ নেই। অচেনা কলেজ, অচেনা ছেলে মেয়ে, ভাবতেই গা কেমন শিরশির করে উঠছে নিরবের। কিন্তুু হঠাৎ করেই কোন এক সময় খুব পরিচিত হয়ে যাবে, এই সব অচেনা ছেলে মেয়ে । হয়ত কোন এক সময় এরাই হবে সব থেকে কাছের মানুষ,( বন্ধু) যাদের ছারা বেচে থাকাই কল্পনা করা যাবে না,
আবার হঠাৎ করেই হারিয়ে যাবে সবাই, যে যার যার মত ব্যস্ত হয়ে যাবে এই ইট বালু সিমেন্ট এর শহরে।
আর শত ব্যস্ততার মাঝে যখন পরবে মনে, তখন চোখের কোনে দুফোটা অশ্রু ছারা আর কিছুই পাওয়া যাবে না।
কি আজব দুনিয়া, ভাবতেই কেমন যেন লাগে,
এরকম আজব আজব চিন্তা ভাবনা করতে করতে কখন যে ঘুমিয়ে গেছি সেটা আর বলতে পারব না,
সকাল নয়টাঃ এই নিরব এই উঠো নয়টা বাজে কলেজে যাবে না,
কি???
হ্য তারাতারি উঠে ফ্রেস হয়ে নাও, আমি নাস্তা দিচ্ছি,
আচছা খালামনি একটু তারাতারি কর, ?
নাস্তা সেরে, কলজের উদ্দেশে হাটছি, আর আনমনে
ভাবছি, কি জানি কি হবে, একবার মনে হচ্ছে দৌরে পালিয়ে যাই, আবার মনকে সায় দিয়ে বলছি একদিন গেলে সব ঠিক হয়ে যাবে, যাই তো। (আমার মতো কিছু এরকম ছেলে আছে যারা অনেক ভিতু টাইপের হয়।যারা ১ম দিন কলেজে যেতেও ভয় পায়।)
হাটতে হাটতে একটা রিকশা পেয়ে যাই, রিকশা উঠে বসলাম, বুকের মধ্যের ধুকধুকি টা আরো বেরেছে,
কিছুতেই কমছে না, কি আজব। আর আনমনে ভেবেই চলেছি আবল তাবল।
রিকশাওয়ালা চাচার ডাকে বাস্তবে ফিরলাম, বাজান এই তোমার কলেজ নামবে না,
হ্ চাচা থামাও,
চাচার ভাড়া দিয়ে, কলেজে দিকে তাকিয়ে দেখছি, অনেক বড় কলেজ অনেক সুন্দর, আসলে তথ্য প্রযুক্তির কারনে, আমাকে আর কলেজ পযন্ত আসতে হয় নি, আমাদের গ্রাম থেকেই ভর্তি হতে পেরেছি এই কলেজে।
কলেজে ঢুকলাম কিছুই চিনি না কি করব, বুঝতেই পারছি না, ক্যামপাসের মধ্যে দিয়ে হাটছি অযথা টেনশন করছি। অনেকেই ক্যামপাসে বসে আড্ডা দিচ্ছে, কি আজব ছেলে মেয়ে, টেনশন বলতে কিছুই নেই, আর আমার হুদাই টেনশন হয়,
হাটতে হাটতে আমাদের ক্লাস রুমটা পেয়ে গেছি, ভিতরে ঢুকলাম, দেখি অনেক ছাএ, সবাই হই হুল্লোর করছে, একজন আরেক জনের সাথে পরিচিত হচ্ছে, (মনে মনে ভাবছি, এরা এতো তারাতারি কিভাবে মিসতে পারে? )
আমি গিয়ে পিছনের এক সিটে বসলাম, যে সিটে কেউ নেই, অনেকসময় বসে আছি, কেউ কোন কথা বলছে না আমার সাথে ,,, এবার নিজেকে এলিয়েন এলিয়েন লাগছে? সাধারণত এলিয়েন দের সাথে মানূষ কথা বলে না, কারন এলিয়েনদের কথা মানুষ বুঝতে পারে না।।। তাই নিজেকেও এলিয়েন মনে হচ্ছে। হঠাৎ একটা ছেলে পাশে এসে বসল,
হাই আমি অর্নব,
আমি নিরব,
পরিচিত হলাম অর্নব এর সাথে,ওর বাসাও পাবনা।
ভালোই হলো, একজন নিজ শহরের বন্ধু তো পেলাম,
পাবনার ছেলেদের জন্য একটু সমস্যা পাগলা গারদ।
কারন এই পাগলা গারদের কারনে সবাই পাবনার ছেলেদের পাগল বলে। আসলেই কি তাই, আমরাই তো পাগল ভালো করি, সে জন্য আমরাই পাগল। কি আজব দেশে আজব মানুষের সাথে বাস করি,,, আমি আর অর্নব দুজন এক সাথেই ঘুরছি, আর কলেজটা ঘুরে ঘুরে দেখছি, ভালই লাগছে, কলেজ শেষ করে বাসায় চলে আসলাম,
এখানে খালমনির বাসায় উঠেছিলাম , আজ ম্যাচে উঠছি, অর্নব ই ম্যাচ টা ঠিক করে দিয়েছে, এই ম্যাচে ওরা কয়েকজণ থাকে,সবার সাথে পরিচিত হলাম। এখন ভালোই লাগছে, নতুন কিছু বন্ধু পেয়ে,
রাতের বেলা সবাই মিলে আড্ডা দিলাম অনেক রাত ভোরে অনেক মজা হল, অনেক বন্ধু থাকলে রাত ভোরে আড্ডা না দিলে তেমন মজা পাওয়া যায় না,
সকালে কলেজেরর কথা চিন্তা করে ঘরির এর্লাম টা দিয়ে শুয়ে পরলাম।
, র্কিরিং র্কিরিং,র্কিরিং,
ধ্যত ঘুমটাই ভেঙে গেল, সকাল বেলা এই এর্লাম টা না বাজলে হত না, ঘুমটাই ভেঙে গেল। এর্লাম টা অফ করে আবার ঘুমানোর যেষ্টা করলাম। কিন্তু কাজ হলো না , ঘরিটার উপর খুব মেজাজ গরম হচ্ছে, (রাতের বেলা নিজেই এর্লাম দিয়ে সকাল বেলা মেজাজ গরম হওয়া এটা আমার মত কিছু ছেলের বদঅভ্যস)
উঠলাম উঠে ফ্রেস হয়ে নাস্তা করে, আমি আর অর্নব কলেজের উদ্দশ্যে
রওনা দিলাম, আজকে আর কলেজে যেতে খারাপ লাগছে না, ভালোই লাগছে, দুজন এক সাথে হাটছি আর গল্প করছি। ,ক্লাসে বসে আছি, আমাদের পাশের সিটে একটা মেয়ে বসছে অনেক সুন্দর, আর অনেক চন্চল একটানা কথা বলেই যাচ্ছে ওর পাসে বসা মেয়েটার সাথে, এরা যে কি করে এত কথা বলে আমার মাথাই আসে না, মনে হয় হুমায়ন আহমেদ গল্পও এর কাছে কিছুই না। এতহ্মন হয়ত শেষ হয়ে যেত, কিন্তু এদের গল্প এখনো শেষ হয় নি। আমি মেয়েটার দিকে আনমনে তাকিয়ে তার কথা বলা দেখছি। কি রকম মুখ বাকা বাকা করে কথা বলে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে আমার দিকে তাকাতেই আমার চোখে তার চোখ পরছে, এতে মেয়েটা কিছুটা বিব্রত হচ্চে, আবার কথা বলেই যাচ্ছে, আমি ছাড়ার পাএ নই, তাকিয়েই আছি "এবার মেয়েটা আমার দিয়ে তাকিয়ে দাঁত কটমট করছে, মনে হচ্ছে আমায় চিবিয়ে খাবে,? কি সাংঘার্তিক মেয়ে রে বাবা, এমন করে কেউ তাকায়, এখন তাকাতেই ভয় করছে,
তাই চুপি চুপি তার দিকে তাকাচ্ছি , এর মাঝেও কয়েকবার ধরা খেয়ে গেছি। তার কাজল কালো ড্যবড্যবে চোখের কাছে,
ক্লাস শেষ তারাতারি করে বেরিয়ে আসলাম, আবার যদি মেয়েটা কিছু বলে সেই ভয়ে, । এখনকার মেয়েদের দিয়ে এখন আর বিশ্বাস নেই, দুচারটে বখাটে মেয়ে নিয়ে এরাও রাজনীতি শুরু করেছে, কলেজে আসার সময় একটা ছাএী নেতার ছবি দেখলাম, এই মেয়েটাও যদি সেরকম হয়, আমার জানা মতে যারা রাজনীতি করে তারা একটু কথা বেশিই বলে। তাই সন্ধেহ হচ্চে,
যাক ম্যাচে তো চলে এসেছি এখন আর কোন ভয় নেই, খাওয়া দাওয়া সেরে গেম খেলতে বসে পরলাম,
গেম খেলতে আমার খুব ভালো লাগে, এই ক্লাস অফ ক্লিন গেমটা দুই বছর যাবৎ খেলছি একটুও বিরক্ত লাগেনি, বরং আগ্রহ বেড়েছে, মানূষ গেম তৈরি করে টাকা কামায়, আর আমরা টাকা দিয়ে গেম খেলি, কি আজব মানুষ আমরা,?
আজ দুদিন পরে কলেজে এসেছি ঐই মেয়টার ভয়ে
যদি কিছু করে দেয়, (আমার মত ছেলেরা একটু ভয় পায়,,,)
ক্যামপাসে দারিয়ে আছি, হঠাৎ ঐই মেয়েটা, সাথে আরো দুটো মেয়েও আছে। এদিকেই আসতেছে,
আমার তো পা কাপা শুরু হয়ে গেছে, এটা আমার ছোট বেলার অভ্যাস ভয় পেলেই পা কাপে, কোন উপায় না পেয়ে সামনের দিকে হেটে পালাচ্ছি।
, এমন সময় এই শুনুন,
না শোনার ভান করে আরো জোরে হাটছি,,,
এই যে আপনাকে বলছি,,,শুনুন
জ্বি আমাকে,,?
হ্যা আপনাকে দাড়ান,
মহা বিপদে পরে গেলাম, এই ক্যামপাসের মধ্যে যদি আমাকে মারে তাহলে তো মান সম্মান বলে কিছুই থাকবে না, চিন্তা করতেই পায়ের কাপুনিটা আরো বেরে গেছে, ( যার কারনে দুইদিন পরে কলেজে আসলাম)
এই যে পালাচ্ছেন কেন??
কই না তো পালাচ্ছি না তো,
ও তাই।
হুম পালাবো কেন?
হুম। সেদিন আমার দিকে ওভাবে তাকালেন কেন?
কই না তো আমি তো তাকাই নি,,,
মিথ্যা কথা বল্লে কিন্তুু মাথা ফাটাইয়া দিমু?আর সত্যি কথা বল্লে ছেরে দেব,
আসলে আপনার কাজল কালো চোখ,আর রেশমি চুলের মায়ায় পরে গেছিলাম তাই একটু তাকাইছিলাম, (আমি শুনেছি মেয়েদের রূপের প্রশংসা করলে নাকি মেয়েদের মন নরম হয়ে যায়, সে চেষ্টাই করছি)
কী????
হুম, সত্যি কথা বলছি। এবার ছেরে দেন,ক্লাসে যাবো?আর কোন দিন তাকাবো না।
হুম এবারকার মত ছেরে দিলাম? যান।
দৌরে চলে আসতেছিলাম, মেয়েটা আবার ডাক দিল,
এই শুনুন,
জ্বি,
আপনার নাম কি?
জ্বি নিরব!
বাসা কোথায়?
পাবনা,
ও সে জন্যই, একটু পাগল পাগল টাইপের?
এই শুনুন পাবনায় পাগল বাস করে না, সারাদেশের পাগলের চিকিৎসা পাবনায় হয়!
ও তাই নাকি?
হ্যা! আসি, বলেই চলে ম্যাচে চলে আসলাম।
রুমে শুয়ে শুয়ে ভাবছি, এত সুন্দর একটা মেয়ে, অথচ মনে রাগ ভরা, কথা বলতেই ভয় লাগে, এমন কেন মেয়েটা, ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পরেছি,,
সকালে উঠে ফ্রেস হয়ে কলেজে আসলাম, ক্লাসে বসে আছি, মেয়েটা দিকে তাকাতেই দেখলাম, মেয়েটা আজ অনেক মোটা করে কাজল নিয়ে কলেজে এসেছে, দেখতে অনেক সুন্দর লাগছে।
আজ মেয়েটা বার বার আমার দিকে তাকাচ্ছে
আমি না দেখার ভান করে বসে আছি, এবার আমি আরচোখে তাকিয়ে দেখি মেয়েটা সেদিনের মত দাত কটমট করে তাকিয়ে আছে আমার দিকে মনে হয় আস্ত গিলে ফেলবে আমায়। (এসব মেয়েদের দিয়ে বিশ্বাস নেই গিলেও ফেলতে পারে, রাগের কারনে।
এসব মেয়েদের রাগ খুব সাংঘার্তিক!!)হয়ত তার দিকে তাকাই নি সে জন্যা।
ক্লাস শেষ ক্যামপাসে বসে আছি, হঠাৎ মেয়েটার আগমন, এই যে মিষ্টার কি খবর?
এই তো ভালো, আপনার কি খবর,
ভালো না।
কেন??
আজকে আমাকে খুব পচা লাগছে তাই না?? সেজন্য একবার ও আমার দিকে তাকান নি তাই তো?
আরে কি যে বলেন আজকে আপনাকে একদম পরির মত লাগছে, আর আপনেই তো তাকাতেই মানা করছেন। সে জন্য তাকানোর সাহস পাই নি।
(মনে মনে ভাবছি,কি বেপার মেয়েটার মতিগতি তো কিছুই ভালো লাগছে না। নাকি মেয়েটা, আমার প্রেমে পরে গেছে ভাবতেই কি রকম যেন লাগছে ??)
আচছা আমার দিকে তাকাতে পারেন। তবে একটা শর্তে?
কি শর্তে??
আপনার ফোন নম্বর টা দিতে হবে (মনে হচ্চে চাঁদ হাতে পেলাম)
আচ্ছা,
আচছা আপনার কিন্তু নামই বলেন নি,
আমার নাম নিলা, বাসা কলেজের পাশেই,,
আজকে থেকে তাহলে আমরা ফ্রেন্ড ওকে,(নিলা)
ওকে ডান, এরপর ওখানেই বসে অনেক কথা হয় দুজনের,
রাতে নিরব শুতে যাবে এমন সময় নিলার ফোন
হ্যালো নিরব,,,
হ্যা নিলা কেমন আছো!!
ভালো তুমি,
ভাল,,,,এভাবেই চলতে থাকে তাদের বন্ধুত্ব,
একদিন নিলা বসে আছে ক্যামপাসে, নিরব আসে নি, তাই ক্লাস করছে না, এমন সময় খেয়াল করল নিরব একটা মেয়ের সাথে ঘুরছে, হেসে হেসে কথা বলছে, এসব দেখে নিলা তো হ্মেপে আগুন হয়ে গেছে, যাকে এতো ভালোবাসে সে কি না আরেক জনের সাথে প্রেম করছে, না এটা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না, নিলা এখন ভাবছে নিরব কে সে খুন করবে,,,? তাও অন্য কারো হতে দিবে না, কিন্তু ভালোবাসার মানুষকে তো আর কষ্ট দেওয়া যায় না, তাই
নিলা বাসায় গেছে গিয়ে অনেক কান্না করছে, এমন কি হাত কেটে নিরবের নাম ও লিখছে,
পরেরদিন কলেজে যায় নি নিলা,, নিরব চেষ্টা করেছে ফোন দেওয়ার, কিন্তু ফোর বন্ধ,
এমন সময় অর্নব এর ফোন,, হ্যালো নিরব
হ্যা বল?
তারাতারি হসপিটালে আয়, নিলা হসপিটালে,,
কি,, আমি এখনি আসতেছি?
নিরব হসপিটালে গিয়ে দেখে নিলা শুয়ে আছে হাতে ব্যন্ডেজ,
অর্নব এর কাছ থেকে শুনতেই জানতে পারে তার হাত কাটার কারন?
নিরব নিলার কেবিনে ঢুকতেই, দৌরে এসে জরিয়ে ধরে নিলা, আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি নিরব, আমি তোমাকে হারাতে চাই না, অনেক অনেক ভালোবাসি তোমায় নিরব,
আমিও তোমাকে অনেক ভালোবাসি নিলা শুধু বলতেই পারি নি এতদিন,,,, আর কালকে যাকে আমার সাথে দেখছ,,,,
নিরবের কথা আটকে নিলা, বল্ল আমি জানি অর্নব আমাকে সব বলেছে, ওটা তোমার ছোট বোন তাইতো
হুম,
আবার জরিয়ে ধরে কপালে একটা ভালোবাসার ছোট চুমো একে দিল নিরব।
বেচে থাকুক ওদের এই ভালোবাসা,,,,,,,
Post a Comment