→হুয়ালো নিরব..(আনিকা)
→হুয়া বলো..!! (আমি)
→কি করো?
→নাথিং, তুমি
→কিছুনা,
→ওহ আচ্ছা, বাসার সবাই কেমন আছে?
→ভালো..!! আচ্ছা শোনো কাল একটু দেখা করতে পারবে?
→হুম পারবো, পারবো না কেন না পাড়ার কি আছে...!! কখন আসতে হবে কোথায় আসবো?
→৭নং সেক্টর পার্ক, বিকাল ৪ টা কেমন
→ওকে
→টুট টুট টুট....!!
,
আমি নিরব ইসলাম।পড়াশোনা করছি মাস্টার্স এ।ঢাকা শহরে বসবাস।আর এতক্ষন যার সাথে কথা হলো ইনি হচ্ছেন আমার ফ্রেন্ড আনিকা।
আমরা দুজন ই সমবয়সী। আমাদের ৫ বছরের ফ্রেন্ডশীপ। কথায় আছেনা, দুজন ছেলে মেয়ে কখনো ফ্রেন্ড হয়ে থাকতে পারেন না, আমাদের ক্ষেত্রেও ঠিক একি রকম কান্ড হলো।
,
হা আমি ওর প্রেম এ পড়েছি, আজ না অনেক আগে থেকেই সেই প্রথম দেখাতে। কিন্তু কখনো বলার সাহস পাইনি তাই আর সাহস খাটিয়ে বলা উঠা হয়ে উঠেনি। তাই প্রতিনিয়ত ওকে হারিয়ে ফেলার ভয় মনের মধ্যে গোরে।এই না বুঝি হারিয়ে ফেললাম।
আসলে ভালোবাসলে তা বলে ফেলা উচিৎ মনের মধ্যে রাখাটা ঠিকনা। আমি সেটা ভালো করেই জানতাম কিন্তু ওই যে.. বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়..!! যদি সে আমায় ভুল বুঝে? যদি অপমান করে? যদি আর কথা না বলে? তাহলে তো এখন যে দেখতে পাড়ছি এখন যে কথা বলতে পাড়ছি সেটা আর হবে না আর আমি পারবো না ওকে হারাতে।তাই মনের মধ্যেই রেখে দিলাম আমার মনের কথা।
তবে অনেকেই বলতো কিংবা সেও বুঝতে পারতো হয়তো আমি যে ভালোবাসি সেটা ও জানে কিংবা জানেনা?
যাক ওর সাথে দেখা করার কথা ৪ টায় আমি ৩.৩০ এ এসে ওর জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম।
কিন্তু মহারানীর আসার কোনো নাম গন্ধ ই নেই।
হা আসছে ওইতো কিন্তু ওর মুখটা এমন দেখাচ্ছে কেন? কিছু হয়নি তো?
,
→কি ব্যাপার কখন আসছো?(আনিকা)
→এই আধ ঘন্টা হলো, তোমার মুখটা এরকম দেখাচ্ছে কেন? কিছুকি হয়েছে?(আমি)
→না তেমন কিছু না
→তাহলে আজ এভাবে আসতে বললে যে...!!
→কেন আসা কি যায়না?
→কি যে বলোনা, আসা যাবে না কেন, তোমার মুখটা এমন লাগছে কেন?
→এমনি, একটা খুশীর খবর আছে...!!
→কি বলো...!!
→এই নেও (একটা কার্ড হাতে ধরিয়ে দিয়ে)
→কি এটা কিসের কার্ড?
→আমার বিয়ের কার্ড,বাবা আমার বিয়ে ঠিক করেছেন। ছেলে অনেক ভালো দেশের বাইরে থেকে এমবিএ করে এসেছে, বাবার ব্যাবসা দেখা শোনা নাকি নিজেই করবে, ভালো দেখতে তাই আর না করিনি আমি ভালো না???
→হুম ভালো, কবে বিয়ে (মন খারাপ করে কার্ডটা নাড়াচাড়া করে)
→দেখো খুলে লিখা আছে
→না থাক পড়ে দেখবো
→তোমার কিন্তু আসতে হবেই। আমার বিয়ের সকল কাজ তোমায় ই করতে হবে কিন্তু তুমি না আসলে আমি বিয়ে করবো না হু...(মুখ ঘোমরা করে)
→দেখা যাক আমি আসি শরির টা তেমন ভালো না কেমন বাই....!!
,
বলেই চলে আসলাম বাসায়।না আর দারিয়ে থাকতে পারবো না। দারিয়ে থাকলে মায়ার জালে পরে যাবো। অনেক কষ্টে নিজের কান্না টা আরালে রেখে এসেছি ওখান থেকে। বলে কি আমি নাকি ওর বিয়ের কাজ করবো, নিজের হাতে নিজের ভালোবাসার মানুষ কে অন্যের হাতে তোলার জন্য আয়োজন করবো। এটা পারবো না আমি।হারিয়ে ফেললাম আমি। ইচ্ছে করছে খুব জোরে কাঁদতে। কিন্তু ছেলেদের যে কাঁদতে নেই। এতোদিন ধরে তিলে তিলে জমিয়ে রাখা ভালোবাসা এভাবে শেষ হয়ে গেলো ভাবতেই কেমন লাগছে।তাই আর কিচ্ছু না ভেবে টেবিলের উপর রাখা সিগারেট এর পেকেট থেকে একটি সিগারেট নিয়ে যখন ই ধরাবো তখনি পেছন থেকে একটা হাতের ছোয়া পেলাম
একি এতো আনিকা ও এখানে কেন?
,
→একি তুমি এখানে?(আমি)
→ঠাস........!!!! (সে)
→কি হলো মাড়লে যে (গালে হাত দিয়ে)
→তুমি সিগারেট খাচ্ছো কেন? হা?
→এমনি....!!
→ও বুক ফাটবে কিন্তু মুখ ফুটবে না তাইনা??
→মানে...!!(বেশ অবাক হয়ে)
→মানে কি জানিস না তুই তাইনা?ভালোবাসিস কিন্তু সেটা বলতে পাড়িস না তাইনা? মনের মধ্যে আর কতো দিন রাখবি হা?
→কিন্তু তোমার তো বিয়ে, আর এখন এসব বলে আর কি লাভ..!!
→কার্ড টা খুলে দেখেছিলে? উঁচবুক কোথাকার
→মানে আমি তো তোমার কথা কিছু বুঝতে পারছিনা
→ওটা আমার আপুর বিয়ে আমার না বুঝলে
→কিহ.....!!!!(সাথে সাথে কার্ডটা খুলে দেখলাম সত্যি তো বিশ্বাস ই হচ্ছে না)
→কি বিশ্বাস হলো এভার?
→হুহু হে.... কিন্তু এসব কেন?
→কেন? বুঝোনা? যাও এভার সত্যি সত্যি চলে যাবো আর আসবোনা হু (বলেই চলে যেতে লাগলো)
→এই কোথায় যাচ্ছো তুমি আমায় ছেড়ে হা?(হেচকা টান দিয়ে)
→জানিনা
→জানিনা তাইনা....
→হুম (বলেই আমার বুকে মাথা রাখলো)
→ভালোবাসি
→কাকে?
→আমার বাবুর আম্মু কে তোমাকে..!!
→ছেড়ে যাবেনা তো?
→কখনো না সন্দেহ আছে?
→উম... নাহ হিহি
→পাগলী রেহ...!!
,
বেচে থাক ওদের ভালোবাসা সবাই দোয়া করবেন..!!
إرسال تعليق