তো যা বলছিলাম, প্রথম বাসিন্দারা চলে যাবার পর হয়তো ঘটনা ওখানেই শেষ হতে পারতো, কিন্তু না, বাড়িটি প্রায় ২ বছর পর আবার বিক্রি হয়। এবারের পরিবারটিও ছোট খাটই বলা যায়, সবাই মিলে ৫-৬ জন সদস্যই ছিল পরিবারটিতে। যদিও আশপাশ থেকে সাবধান-বানী এসেছিলো তাদের কানেও কিন্তু, অন্য সবার মত তারাও কানে নেয় নি বিষয় গুলো, যতক্ষন না পর্যন্ত তারা নিজেরাও শিকার হওয়া শুরু হল এ অভিশাপের। 

মাস যেতে না যেতেই রাতের বেলা সেই বিভিন্ন গলায় কান্নার আওয়াজ, রাগে ঘর ঘর করার শব্দ পেতে শুরু করল। সাথে সেই এটা ওটা ফেলে দেয়া তো ছিলোই। তো মাস দুই যেতে না যেতেই হটাৎ এক ভোরে গৃহকর্তার দেহটি পাওয়া গেল, গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায়, সেই একই ভাবে, সেই একই রুমে। পুরো বাড়ি জুড়ে নেমে এল তীব্র আতঙ্কের ছায়া। 

তার কয়দিন পরেই একরাতে সেই তুমুল ইট পরার শব্দ, সে এক ভয়ংকর অবস্থা। তারা বুঝলো আর হয়তো তাদের এখানে থাকাটা দৃষ্টটা হয়ে যাচ্ছে। সেই পরদিন সকালে চলে যাবার সিদ্ধান্ত নিল সবাই। কিন্তু সেই ভোর আর দেখা হলনা গৃহকর্তীর। সকালে তাকে ঘরে না দেখে খুজতে গিয়ে পাওয়া গেল, আবার সেই গৃহপরিচারিকার সেই অভিশপ্ত রুমটিতে, একই ভাবে ঝুলন্ত অবস্থায়। নাহ, আর সম্ভব না, বাড়ির মালিকের ছেলে মেয়ে যারা ছিল, আবার একটা লিগ্যাল নোটিস টাঙ্গিয়ে এবার তারাও চলে গেল, বা বলতে পারেন বাধ্যই হল চলে যেতে। শুনেছি তারা নাকি দেশের বাইরে আছেন সবাই। 

তারপর প্রায় দীর্ঘ ৬-৭ বছর খালিই পড়ে ছিল এই বাড়িটি। ছবিতে বাড়িটি ঘেসে যে সবুজ রঙের বিল্ডিংটি দেখা যাচ্ছে , ওর নিচ তলার বাসিন্দা ও আশপাশের বাড়ির নিচতলার লোকেরা প্রায় রাতেই না না রকম গলায় কান্নার আওয়াজ , মাঝ রাতে হটাৎ হটাৎ করে চিৎকারের আওয়াজ , অদ্ভুত ও ভিন্ন ভিন্ন গলায় তীব্র রাগে ঘর ঘর করার আওয়াজ, আবার ঘরের মেঝের উপর দিয়ে কিছু টেনে নেয়ার শব্দ প্রায়ই শুনতে পান। 

কি ভাবছেন? ঘটনা শেষ! হয়তো হতেও পারতো। কিন্তু দুঃখিত, তখনো ক্ষিধে মেটেনি এই অভিশপ্ত বাড়িটির।  দীর্ঘ সাত বছর পরে থাকার পর আবার এক জনৈক ব্যাক্তি কিনে নেন বাড়িটি। যদিও এসব ঘটনার কিছুই জানতেন না তিনি।

যেদিন বাড়িতে ওঠার জন্য এলেন, সেদিনই তিনি প্রথম জানতে পারেন এ ব্যাপারে। কোন ভাবেই এলাকার লোকজন তাকে থাকতে দিতে রাজি ছিল না। কিন্তু লোকটি বেশ সাহসী আর একদমই কুসংস্কার মুক্ত লোক ছিলেন। তাই ওসব কথা কানে তো নিলেনই না। উলটো ধারনা করলেন যে আলাকার লোক তাকে বুঝি দখল না দেবার জন্যই করছে এমন। তিনিও ওঠার জন্য গো-ধরে বসলেন। শেষমেশ থাকলে কাউকে নিয়ে থাকতে হবে এই শর্তে বাড়িতে ওঠেন তিনি। তার সাথের লোকটি কে ছিল, এ ব্যাপারে কোন নিশ্চিত তথ্য এখনো পাওয়া যায় নি। 

সে রাতের ঘটনা আশপাসের বাড়ি থেকে যা জানা যায় সেটা অনেকটা এরকম, তারা নাকি রাতে বেলা ছাদের ইটপড়ার শব্দ শুনে বাইরে আসে আড়াইটা তিনটার দিকে রাত। কে ইট মারে বলে হাকডাক দিচ্ছিলো। কিছুক্ষন পর আবার ভেতরে চলে যায় তারা। 

সে রাতে আর কোন আদিভৌতিক অভিজ্ঞতা তাদের হয়েছিল কিনা, এব্যাপারে সঠিক কিছুই আর জানা যায় না। কারন পরদিন দুজনকেই পাওয়া যায়, সেই বাড়ির সেই একই অভিশপ্ত রুমে, একই ভাবে একই ফ্যানের সাথে দুজনকে গলায় দুই দড়ি দিয়ে একসাথে ঝুলতে থাকা অবস্থায়। 

বিদ্রঃ এটি একটি সম্পুর্ন সত্যি ঘটনা। তাই সত্যতা নিয়ে বাড়তি প্রশ্ন আশা করছি না। কেউ চাইলে নিজে গিয়ে দেখে আসতে পারেন বাড়িটি, ঠিকানা বা লোকেসন বা আরো কোন অতিরিক্ত তথ্য নিয়ে কোন প্রকার দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকলে যোগাযোগ করতে পারেন আমাদের সাথে। তবে সেটা একান্তই স্বইচ্ছায়। কোন প্রকার কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটলে, কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।

*এই যায়গার উপর করা ইনভেস্টিগেসন এর পুরো রিপোর্ট নিয়ে খুব শিগ্রই আসছি।।। 

Post a Comment

Previous Post Next Post