এয়ারপোর্ট, আশকোনা আমতলা এলাকার নিউ বার্ড স্কুলের গলির এই বাড়িটির ব্যাপারে কেউ কি জানেন?

চার পাশে উচু উচু বিল্ডিং গুলোর মাঝে অনেকটা শুন্যস্থানের মতোই বাড়িটা। বাড়িটায় বর্তমানে কেউই থাকে না, বা পারেনা থাকতে তাও বলতে পারে। এমনকি কোন দারোয়ান ও নেই। ৫-৭ টি অস্বাভাবিক মৃত্যুর সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা মৃত্যুপুরী সম বাড়িটিতে আজ আছে শুধু “এই জমি বিক্রি হইবে” লেখা একটি সাইনবোর্ড।

বাড়িটি ২০০২-২০০৪ এর মধ্যে কোন এক সময় নির্মিত। এক তলা টিনশেডের ভেতরে অসাধারন সুন্দর একটি বাড়ি। ছোট সুখি পরিবারের জন্য বলতে গেলে এর থেকে আদর্শ বাড়ি আর হয় না। যাই হোক এই বাড়িতে ১ম যে পরিবারটি ওঠে তারা ছিল তেমনই একটি আদর্শ ছোট্ট পরিবার। স্বামী, স্ত্রী তাদের আদরের ছেলে আর সাথে তাদের গৃহপরিচারিকা।

প্রথম কিছুদিন সবই ঠিক ছিল, এরপর হঠাৎ করে প্রায়ই ঘরের তাপমাত্রা হঠাৎ হঠাৎ করেই উপর নিচ করত। বিনা কারনেই প্রচন্ড গরম আবার খুব ঠান্ডা হয়ে যেত। কোন কারন ছাড়াই ঘরের বিভিন্ন আসবাব, টিভি ফ্রীজ ইত্যাদি কেপে উঠত। এমনকি কখনো পুরো বাসাও। এরপর হটাৎ একদিন সকালে গৃহপরিচারিকা মেয়েটি লাশ তার রুমে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওযা যায়। যদিও অনেকে এই নিয়ে প্রশ্ন তোলে যে সেটাকি আত্মহত্যা ছিল নাকি খুন, তবে এলাকা বাসী রুমের দরজা ভেঙ্গেই মেয়েটার দেহ উদ্ধার করে, কারন রুম ভেতর থেকেই লাগানো ছিল। আর এরপর থেকেই তান্ডবের শুরু পাকাপোক্ত ভাবে।

তো আবার কিছুদিন সব ঠিক ঠাকই ছিল। কিন্তু প্রায় বছর খানেক পরেই হঠাৎ করে আবার সেই আগের যে সমস্যা, সেগুলো আবার দেখা দেয়। আবার সেই বাসার তাপমাত্রা উপর নিচ হওয়া, সব কিছু হঠাৎ হঠাৎ কেপে ওঠা ইত্যাদি। এরই মধ্যে হটাৎ একদিন সেই বাসার ছেলেটাও আত্মহত্যা করে। ছেলের বয়স তখন মাত্র ১৫ হবে। আজব ব্যাপার হল ছেলেটা আত্মহত্যা করে সেই একই ভাবে এবং একই রুমে......

এর পরথেকে প্রতি রাতে না না গলার কান্নার আওয়াজ, এবং ঘরের বিভিন্ন জিনিস ধুব ধাপ পড়ে যেত। বা কেও মনে হত যেন ফেলে দিত। একরাতে অনেক জোরে তাদের আলমারিটা পড়ে যায়। প্রচন্ডশব্দে ঘুম ভেঙ্গে যায় তাদের, আর তার পর পরই দুইজন যে খাটে শোয়া ছিল, তার পায়া গুলো এক এক করে চারটা ভেঙ্গে খাটটা ফ্লোরে বসে যায়।

তার ঠিক পরদিন রাতেই তাদের বাসায় তুমুল ইট পড়ার আওয়াজ শুরু হয়ে, প্রথমে তারা মনে করে বুঝি শীল পড়ছে বৃষ্টির জন্য। কিন্তু জানালায় খেয়াল করতেই দেখে কোন বৃষ্টিই ছিল না। তো কি হচ্ছে দেখার জন্য যে এক জন বের হয়, অমনি শব্দ বন্ধ হয়ে যায়। আবার ঘরে ঢুকতেই সেই একই অবস্থা। স্বামী-স্ত্রী দুজনেই আলাদা করে বের হয়ে দেখলো। কিন্তু একই ব্যাপার। বের হলে শব্দ নাই, ঢুকলেই তুমুল ইট পড়ার শব্দ। এরপর দুজন একসাথেই বের হল। বের হতেই তারা দেখল উপরে কিছুই নেই, কিন্তু ঠিকি বাসার ভেতর থেকে চালে ইট পড়ার শব্দ আসতেছে। এরপরও তারা রাতটুকু কাটানোর জন্য ভেতরে গিয়ে শুয়ে পরে। ঠিক রাত আড়াইটা থেকে ৩টার দিকে তাদের চালে অনেক জোড়ে একজন মানুষ পড়ার বিকট শব্দ হয় যেন পুরো চালটাই দুমড়ে মুচড়ে গেল। এর পর আর তাদের পক্ষে সম্ভব হয় নি ওই বাড়িতে থাকা। পরদিন সকালে তারা বাড়ি বিক্রির একটা নোটিস লাগিয়ে তল্পিতল্পা গুছিয়ে চলে যায় সেখান থেকে।।

ঘটনা হয়তো এখানেই শেষ হতে পারতো, কিন্তু না, তার দুই বছর পর অন্য একলোক আবার সেই বাড়িটি কেনে ও তার পরিবার ও তিন সন্তান সহ ওঠে এই অভিশপ্ত বাড়িতে। কি কি হল তাদের সাথে? সেই ঘটনা শুনতে আমাদের সাথেই থাকুন......

বিদ্রঃ এটি একটি সম্পুর্ন সত্যি ঘটনা। তাই সত্যতা নিয়ে বাড়তি প্রশ্ন আশা করছি না। কেউ চাইলে নিজে গিয়ে দেখে আসতে পারেন বাড়িটি, ঠিকানা বা লোকেসন বা আরো কোন অতিরিক্ত তথ্যা নিয়ে কোন প্রকার দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকলে যোগাযোগ করতে পারেন আমার সাথে। তবে সেটা একান্তই স্বইচ্ছায়। কোন প্রকার কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটলে, কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।

Post a Comment

Previous Post Next Post